মেহেরুন – মুকুল মজুমদার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

মেহেরুন – মুকুল মজুমদার

7 December 2016, 10:54:09

বাড়ি ভর্তি অতিথি। খাওয়া-দাওয়ার ভীষন আয়োজন হচ্ছে। যে বাড়ির কথা বলছি- সে বাড়ির গৃহকর্তা প্রাণপনে চেষ্টা করে যাচ্ছে আমাদের আদর-সমাদরে কোথাও যেন কোন প্রকার কমতি না থাকে । আয়োজনের কোথাও যেন কোন প্রকার ত্রুটি না থাকে । অতিথিদের অধিকাংশই বাড়ির কর্তা রহমান সাহেবের আতœীয় স্বজন । সকালে আমরা যখন পাত্রী দেখতে এলাম, তখনও এত অতিথি ছিলনা । বেলা গড়াতে না গড়াতেই অতিথিদের ভিড় জমেছে । তার সাথে আমরাতো আছিই । আমরা আছি বলেইতো আজ বাড়িতে এত কুটুম।
কিছুক্ষণ আগে নাস্তা পানি খেতে খেতে পাত্রী দেখার পর্বটা শেষ করলাম । পাত্রি আমার পছন্দ হয়েছে! এই মনটা চাইছে এখনই কাজী ডেকে বিয়ে করে ফেলি । কিন্তু সম্ভাবনা কারন আমি এসেছি ছেলে পক্ষের অতিথি হয়ে। বলা চলে আমি বরের বন্ধু, বন্ধু বললে একটু কমই বলা হবে । আমি বরের সব থেকে কাচের বন্ধু । আমি শুধু আমার কথা বলছি আমার নয় কনেকে আমাদের পক্ষের সকলের পছন্দ হয়েছে আর পছন্দ হলো বলেইতো এখনও পর্যন্ত এখানে থাকা।
কাজীর জন্য খবর পাঠানো হয়েছে! কাজী এলেই একেবারে কালেমা পড়িয়ে সাথে করে নিয়ে যাবো ভাবি সাহেবাকে। আমি ও শিশির বসে আড্ডা দিচ্ছি। আমাদের সাথের মুরুব্বিরা বাড়ির চার পাশ ঘুরে দেখছেন। বাড়িটাও খুব সুন্দর । রহমান সাহেব জীবনের সমস্থ স য় দিয়ে এ বাড়িটা তৈরি করেছেন । আজ বছর দু’য়েক তিনি অবসর কোন কাজ করেন না। করতে চাইলেও করতে পারেন না শারিরীক অসুস্থ তার কারনে। এক মেয়ে এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে চার জনের সংসার রহমান সাহেবের । রান্না ঘর থেকে সুগন্ধী বাতাস ছড়িয়ে পড়েছে বাড়ির চার পাশে। আমাদের ঘটক সাহেবের পেটের তৃষ্ণা সইছে না। ঘটক আলী মিয়া রহমান সাহেবকে একটু রসিকতার ভানেই বলল-
– কি ব্যাপার রহমান সাহেব এবার কি পেটে কিছু পড়বে? এইতো সকলকে খেতে দিচ্ছি আর কষ্ট করতে হবে না । আপনি সবাইকে ডেকে এনে খাবার টেবিলে বসান আমি খাবারের ব্যবস্থা করছি।
এদিকে শিশিরের বাবা বাড়ি চার পাশ প্রত্যক্ষ করতে করতে একেবারে বাড়ির শেষ প্রাৗেল্প রাস্তার ধারে গিয়ে পৌঁছল। দেখা হলো পাশের বাড়ির গণি মিয়ার সাথে । বয়স গফুর হাজীর মতই। গফুর হাজী শিশিরের বাবা মানে আমার আঙ্কেল। আমি অবশ্যই আঙ্কেল বলি না। চাচা চাচা বলেই ডাকি।
চাচার মাথায় টুপি, হাতে চড়ি, গায়ে পাঞ্জাবি থাকার কারনে গণি মিয়াই প্রথমে সালাম দিলেন চাচাকে। গণি মিয়ার সালামের উত্তর দিয়ে চাচা বলনেন-
– আপনার বাড়িটা কি ঠিক এদিকেই?
– জি!হুজুর এদিকেই, কিন্তু আপনাকেতো ঠিক চিনলামনা।
– চিনার কথাও না, তবে আমি এ বাড়ির বড় কুটুম, ঠিক হই নাÑই হব, আজই হয়ে যাব।
গণি মিয়ার চোখে যেন একটা অন্যরকম পরিবর্তনের ছাপ পাওয়া গেছে। সে প্রশ্নোবোধক আকারে বলল-
– বড় কুটুম! বড় কুটুম? এই বাড়িতে আপনি বড় কুটুম হবেন?
– কেন এ বাড়িতে কি বড় কুটুম হতে সমস্যা? না! মানে আপনাকে দেখেতো খুব ধার্মিক মানুষ মনে হচ্ছে। তা ছাড়া মনে হয় আপনি হজ্বও করেছেন।
– মিথ্যে বলেননি এইতো কয়েক বছর আগে পাক মক্কা ঘুরে এলাম মানে হজ্ব করে এলাম।
চাচার কথা শুনে গণি মিয়া এবার একটু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন
– আপনি হাজী সাহেব আমাদের গ্রামে এসেছেন । আপনাকে আদর যতœ করাই আমাদের কর্তব্য। তবে!
– তবে! তবে কি ?
– তবে মানুষ হিসেবে আমার একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে না? কাউকে ভাল মন্দের ধারনা দেওয়া একে অন্যের কর্তব্য। আমি আবার একটু বেশি বেশি কর্তব্য পালন করে থাকি। বলছিলাম কি আপনার মত হাজী সাহেব কিনা আত্বীয়তা করবেন এ বাড়িতে তাও আবার বড় কুটুম!
– আমি আপনার কথার শুরু কিংবা শেষ কিছুই বুঝতে পারছি না।
– না মানে বলছিলাম কি এ বাড়িতেতো ঐ একটাই মেয়ে বিয়ের উটযুক্ত যার নাম “মেহেরুন”। শুনেছি কোথাকার কোন কোম্পানিতে চাকরি করে (একটু বাঁকা কন্ঠেই বলল গণি মিয়া)। সারা দিন নাকি বাজারে বাজারে গুর গুর করে গুরে বেড়ায়। বলুনতো এটাও কি একটা চাকরি হল? মেয়ের মা-বাবাও কি বাপু কিছুই বুঝিনা । কোন খোঁজ-খবর নাই চাকরি না ছাই। সাবালক প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে সারাদিন গুরে বেড়ায় ছেলেদের ভিড়ে । একই আমরাতো এ সব জানি না আমরা জানি মেয়ে শহরে লেখা-পড়া করে। আমি আর কিছুই বলতে চাই না । এমনিতেই লোকে বলে আমি নাকি মানুষ ভালো না। আমি আপনাকে যা বললাম, তা ছাড়া আপনার ভালোর জন্যই বললাম। এখন আমি আসি, বেলা বয়ে যাচ্ছে গঞ্জে রওয়ানা দিয়েছিলাম । ও-হে আপনার সাথে আমার দেখা এ কথাটা আবার রহমানের কাছে বলার দরকার নাই । এমনিতে ওর সাথে আমার সর্ম্পকটা বেশি ভাল যাচ্ছে না ।
ঘটক আলী মিয়া চাচাকে খঁজতে খুঁজতে হয়রান। এদিকে এসে চাচাকে দেখে সে বললো আপনি এখানে? আর আমি আপনাকে খুঁজতে হয়রান। ঐদিকে সকলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। ঐদিকে সকলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে । কেই অন্ন্য মুখে দিচ্ছে না। ক্ষুধার্ত হৃদয়ে বসে আছে। আপনি গিয়ে অনুমতি দিলে সকলে খাবারে হাত দিবে। আমি ও শিশির একটা বিশেষ স্থানে বসা । বসতে হয় যে। এখানে শিশির “বর” একটু পরে বিয়ের পিড়িতে বসবে । কোরমা পোলাউ ইয়া বড় মুরগী, মাছের মাথা প্লেটে নিয়ে বসে আছি। চাচা এক লোকমা মুখে নিলেই আমরা মুখে নিব। কিন্তু একি! চাচা এসেই হাতের চড়িটা কচলাতে কচলাতে বললো-
আমার এই সমাজে একটা মান-সম্মান আছে। আমি হজ্ব করেছি। লোকে আমায় হাজী সাব বলে ডাকে। হজ্বের কথাটা না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু আমি বেপর্দায় চলা ফেরা পছন্দ করি না। আর যে মেয়ে গ্রামেতো থাক দূরের কথা শহরের গাদা গাদা পুরুষ মানুষের ভিড়ে দিনভর ঘুরে বেড়ায় । শহরের পুরুষের ভিড়ে যার সূর্যদয় ও সুর্যাস্ত হয় সে মেয়েকে অন্তত আমি আমার ঘরের লক্ষী বানাতে পানি না । আমি শত বছরের ঐতিহ্য হাজি বাড়ির ইজ্জত কমাতে পারি না ।
চাচার এমন কথা শুনে আমরা সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম । একি? চাচা এসব কি বলছে হঠাৎ চাচার মাথাটা কি খারাপ হল নাকি ? আমি এগিয়ে গিয়ে চাচার পাশে দাঁড়িয়ে বললাম
– আপনি এসব কি বলছেন ?
– কি বলছি এখনো তুমি বুঝতে পারনী ? বলছি আমার সোনার টুকরো ছেলেকে ঐ বেহায়া নির্লজ্জ মেয়ের সাথে আমি বিয়ে দেব না।
মেহেরুনের বাবা সহমান সাহেব মুখে হাত দিয়ে চাচার কাছে এসে দাঁড়ালেন । ততক্ষণে রহমান সাহেবের মুখ-মন্ডল সাপে কাটা রোগীর ন্যয় কালো হয়ে গেছে । হাপাতে হাপাতে রহমান রহমান সাহেব বলে ওঠলেন-
– না হাজীম সাহেব আপনী এমন কাথা বলবেন না। আমি আপনার কথায় আমার মেয়ে মেহেরুনকে বৌ সাঁজে সাঁজিয়েছি। গ্রামের প ায় ডাক দিয়েছি । কাজি সাহেব কাবিননামা লিখে ফেলেছেন । এখন শুধু দু’হাত এক করার পালা । আমি আপনার কাছে হাত জোড় করে বলছি এখন আপনি এমন কথা বলবেন না । তা হলে আমি এ সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না । আমার মেহেরুন সারাজীবনের জন্য এক ঘরে হয়ে যাবে।
– আমি আপনার মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করে নিজের মুখলুকিয়ে রাখি তাই না? হাজি সাবেস আপনি আপনার কথা ফিরিয়ে নেন।
– কোনটা ফিরিয়ে নেব? আপনার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দেব না । নাকি আপনার মেয়ে শহরের হাড়ি হাড়ি ছেলের সাথে চলা ফেরা করেনি সেটা! কোনটা বলুন? কোনটা! আপনি বলতে পারেন আপনার মেয়ে লেখা-পড়ার নাম করে শহরের বাজারে বাজারে গুরে বেড়ায়নী। শহরের বেপরোয়া পুরুষের ভিড়ে মুদির দোকানে দোকানে গুরে বেড়ায়নী?
রহমান সাহেব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কোন কথা নেই মুখে। সারা বাড়ি থৈ থৈ বিয়ে ভাঙ্গনের গুঞ্জনে। কেউ কাদছে দরজায় দাঁড়িয়ে কেউবা আবার করিডোরে । আবার কোন কোন মহিলা কানাকানি করছে আর মিটি মিটি হাসছে । হয়তো ঐ হাসি মুখি মহিলা গুলো বলছে বুঝুক এবার রহমান সাহেব মেয়েকে শহরে পড়ানোর মজা । কেউবা আবার গলা ছেড়েই বলছে এসব কথা ।
পশ্চিমের ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে মেহেরুন। তাকে দেখে আমার অন্তরটা ফেটে ছৌচির হওয়া উপক্রম হল। যখন গরমের তাড়নায় হাত পাখার জন্য ঘরের ভিতরে গিয়েছিলাম তখন কি সুন্দর হাসি মুখ দেখেছি কিছুক্ষণ আগে। আর এখন! এখন মেহেরুনের দু‘চোখে শ্রাবণের ভারীবষণ। সাঁজানো মুখ খানা এটি কষ্টি পাথরের ন্যায় দেখা যাচ্ছে । সে দাঁড়িয়ে আছে। দুচোখ বেয়ে ঝরছে ঝর্ণার পানি । এই তোমরা চল আমি এ পরিবারে আত্মীয়তা করবো না । এ বলে সামনে এগোতে লাগলো হাজী সাহেব। সাথে আমরাও।
সামনে এসে দাঁড়ালেন মেহেরুনের চাচা রহিম উদ্দিন। রহিম উদ্দিন হাজী চাচার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন-
– হাজী সাহেব আপনী এ বাড়িতে আত্মীয়তা করবেন না। তাইনা ?
-না, আমি এ বাড়িতে আত্মীয়তা করব না ।
– অপরাধ কার কি কারনে আপনি আত্মীয়তা করবেন না। জানতে পারি ?
– অপরাধ কি জানি না তবে মেয়ে পর্দা বিহিন চলফেরা করে। শুনেছি মেয়ে কোন বাজারে না ঘাটে চাকরি করে। নানা পুরুষের সাথে চলাফেরা করে। আমার এসব পছন্দ না।
– তা হলেতো দোষটা মেয়েরই বলা চলে (হাসি সূচক মাথা নেড়ে হ্যাঁ উত্তর করলেন হাজী সাহেব)। আচ্ছা হাজী সাহেব যাওয়ার আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে?
– না। আমার অত সময় নেই আমি যাচ্ছি ।
– দেখুন দয়া করে আমাদের মেয়েকে আপনী না হয় আপনার পুত্র বধূ নাই বানালেন কিন্তু দয়া করে আমার দুমিনিট দাঁড়িয়ে যদি আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতেন তা হলে আমি আপনার নিকট ঋনি থাকতাম।
– ঠিক আছে বলুন আপনার প্রশ্নের কি?
– ধরুন বর্তমান এই সমাজের আধুনীক বিশ্বের কোন এক পথ দিয়ে দু’বন্ধু হেঁটে যাচ্ছে। তাদের এক জনের গায়ে রংচটা আধুনীক ডিজাইনের জামা । অন্যজনের গায়ে আধুনীক ডিজাইনের পাঞ্জাবী। এমন সময় মসজিদ হতে আযানের ধ্বনি ভেসে এলো । আযানের ধ্বনি শুনে রংচটা জামা পরা ছেলেটি অযু করে সোজা মসজিদে গিয়ে প্রথম সারিতে পাঞ্জাবী ওয়ালা আলেমের ভিড়ে নামাজ পড়তে দাঁড়ালো। অন্যজন যে পাঞ্জাবী পরা সে কি করলো, মুসল্লিরা যখন রুকুতে গেল তখনই কোন এক ভাইয়ের পকেট কেটে পাকা নিয়ে পাশের কোর বস্তি থেকে এক বোতল মদ কিনে পান করতে শুরু করলো । এ ক্ষেত্রে আপনি কাকে ভাল বলে সম্ভোধন করবেন?
– কেন? নিশ্চয় ঐ নামাজ পড়া ছেলেটিকেই বলবো ।
– আপনি এই কথাটা বলবেন তা আমি আগে জানতাম।
– আপনি আমার সাথে ঠাট্রা করছেন ? (একট বিরক্তকর কন্ঠে চাচা বললেন)।
– ঠিক ঠাট্রা নয় আমি আপনাকে অন্য একটা প্রশ্ন করবো বলেই দাঁড়াতে বললাম ।
– তা কি বলা হবে না কি? আমি এখন আসবো।
– বলছিলাম কি পর্দার আড়ালেতো অনেক মেয়েরাই থাকে। সবাই কি সৎ চনিত্রবান ? যারা পতিতালয়ে দেহ ব্যবসা করে তারাওতো দিনের বেলায় বোরকা পরে হাটে। তারাওতো মুরুব্বিদের সম্মান করে।
– দেখুন আপনি আমাকে অপমান করছেন!
– ঠিক অপমান কিনা জানি না তবে আপনি যদি ধরে নেন অপমান তা হলে আমার কিছু বলার নেই । আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হল এই সমাজে এমন অনেক মেয়েই আছে যারা দিনে এক রুপ রাতে তারা ধারণ করে অন্য রুপ। দিনে কেই সমাজসেবী কেই আদর্শ ছাত্রী কেউবা আবার নীতি কথায় ব্যস্ত। সেই দলটাকেই আবার রাতে দেখা যায় অন্য রুপে। যেখানে চলে দেহ নিয়ে নেলাম বাজার। অথচ সেই একই সমাজের অন্য একদল নারী জীবন ও জীবিকার তাড়নায় ছুটছে তারা সৎ অর্র্থের পেছনে । ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তারা মাঠে-ঘাটে, বাজার কিংবা গঞ্জে। মাথার ঘাম পায়ে পেলে অর্থ উপার্জন তার অসুস্থ বাবার জন্য । কেউ করছে তার মায়ের জন্য । কেউবা আবার তার ছোট ভাই কিংবা বোনের পড়া-লেখার খরচ যোগানের জন্য । দিনভর পরিশ্রম করছে তারা এই সমাজের জন্য, এই সমাজের ভাল মানুষ হওয়ার জন্য। এখন আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি কোন দলকে আপনি সমাজের সম্মান বলে মেনে নিবেন? দু’টো দল আপনার সামনে এখন দাঁড়ানো। একদল দেহ ব্যবসায়ী অন্য দল শ্রম ব্যবসায়ী। রহিম উদ্দিন যখন দ্বিতীয় উদাহরনটা দিচ্ছিল তখন আমার চাচা হাজী সাহেবের উচু মাথাটি ধীরে ধীরে নিচু হতে লাগলো। সরে যেতে লাগলো পায়ের নিচের মাটি গুলো। চাচা কামড়ে ধরার চেষ্টা কারে মাটিকে কিন্তু তার নাগাল পাওয়া গেল না । চাচার সারা অঙ্গ ঘেমে বৃষ্টিপাত । পুরো মজলিশ নিরব নিস্তব্ধ।আমাদের সাথে আসা অতিথিরা একে একে চলে যাচ্ছে । শুধু মূর্তীর মত দাঁড়িয়ে আছি আমি ও আমার বন্ধু শিশির। ও এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে মেহেরুনের দিকে । মেহেরুনের চোখ জোড়া যেন বারবার আকড়ে ধরছে শিশিরকে। কিন্তু চাচা হাজী সাহেবের কথার বাহিরে এক পাও নড়া যাবে না। রহিম উদ্দিনের কথা শেষে চাচা তার নিছু মাথাটা কিছুটা তুলে আষাড়ের মেঘাচ্ছন্ন দিকে প্রশ্ন সূচক তাকিয়ে…..। বিশ সেকেন্ডে শিশির পাঁচ বার মেহেরুনের দিকে আর বাকি পাঁচ বার তার বাবার দিকে তাকালো। আমি ও শিশির বুঝতে পারলাম যে চাচা বলতে চাইছে আমরা কি এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো না চলে যাব। তাই শিশির বার বার বাবার দিকে ও মেহেরুনের দিকে তাকাতে লাগলো। মেহেরুনের মায়াবি চোখের ভালোবাসা তাকে এমন ভাবে আকড়ে ধরছে যে সে কোন উত্তর করছে পারছে না।#

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: