মৌকারা দরবার শরীফের সুযোগ্য সাহেবজাদা মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ মাসউদ-এর লেখা কবিতা “ইচ্ছে হলে ভালবেসো”

28 February 2020, 2:07:57

সাগরের বুক থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে গেলে বাঁধভাঙা ঢেউ,
দূর থেকে তখন সুদিনের শুভাকাক্সক্ষীরা আফসোসের শব্দ বাজায়,
শূন্যতায় ভরা সাগর দেখিয়ে।
তারপর, একদিন কেউই আর অবশিষ্ট থাকে না…।
দেখ না, আরাল সাগর শুকিয়ে খাঁ খাঁ প্রান্তর হয়ে গেলে
কারোই যেন করার কিছু নেই।
অথচ এখানে একদিন জেলে থেকে পুঁজিপতি,
সারেং থেকে সমাজপতি- আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় কে না সংগ্রাম করেছে?!
জীবনের ছোট কিছু ভুল, হাসি, সুখ, উচ্ছ্বাস কেড়ে নেয়।
বৃষ্টির নীরে ভরে উঠবে হয়তো আরাল সাগর কোনো একদিন
কিন্তু সূর্যের তাপে, সিদ্ধান্তের ভুলে,
ভালবাসায় প্রাণোচ্ছ¡ল ঊর্মিমালার যে নৃত্য উবে গেছে,
তা কি ফেরানো যাবে…!?
ভেবেছ কী- আমি ভেঙে পড়েছি?
‘ভাঙতে ভাঙতেও ভাঙিনি’- এমন করেই এতদূর এসেছি;
‘হারতে হারতেও হারিনি’- এমন করেই বেঁচেছি;
অনবদ্য ভালবাসার উচ্ছ্বাসে দিগি¦জয়ের গান গেয়েছি!
ধূসর স্বপ্ন বা তিমির রাতের ভয়ে কাবু হইনি,
থমকে যাই নি কোনো দিন।
টিপু সুলতানের কামান হয়ে বিস্ফোরিত হব যেদিন,
সেদিন দেখবে ফুল, পাখি, বাগান- সব শূন্য পড়ে আছে।
সাগরের পানি নোনা বলে, ঢেউয়ের ফাঁকে পাড় ভাঙে বলে
সবাই যখন নিন্দা-ভ্রুকুটির বান তোলে,
তখন খুব বড় প্রশ্ন- প্রেম-রোমাঞ্চে সাগর পাড়ের চাঁদনি রাত,
শোঁ শোঁ শব্দই না তুমি ভালবাসতে…?!
ভালবাসতে বাসতে হারতে,
ভালবাসার দাবিতে কাঁদতে কখনো কুণ্ঠিত হইনি।
কখনো ইচ্ছে হলে খুঁজে দেখো,
জুলকারনাইনের যুগ থেকে অদ্যাবধি,
টেমস নদীর তলদেশ থেকে ফারাওদের পিরামিডের শীর্ষদেশ,
মরুদ্যান থেকে রোমের রাজপ্রাসাদ- ইতিহাসের পরতে পরতে
আমার সরব অস্তিত্ব দ্বেদীপ্যমান।
খুব কাছ থেকে চাইলে, তোমার আঙিনার পত্রপল্লবে,
সাদা জবা ফুলের পাপড়ি ছুঁয়ে দেখো,
কিংবা ঘরের কোণের পেয়ারা গাছে-
একই রকম আছি আমি, প্রেমের সুরা সাকি হয়ে!
কালান্তরের মিছিলের দৃপ্ত শ্লোগান আমি,
ভালবাসতে শিখেছি, ঠেকে যেতে নয়

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: