যা হচ্ছে ভিক্টোরিয়ার নজরুল ছাত্রাবাসে! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

যা হচ্ছে ভিক্টোরিয়ার নজরুল ছাত্রাবাসে!

8 June 2014, 4:00:51

কলেজ প্রতিনিধি:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নজরুল ছাত্রাবাস। এটিতে মোট কক্ষ ১০০টি। যেখানে ৪০০ শিক্ষার্থী থাকতে পারেন। কিন্তু এই কক্ষগুলোর মধ্যে ২০টির মতো কক্ষ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দখল করে আছে। শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হোস্টেলের ক্যান্টিনের খাবার খেলেও তারা কোনো বিল পরিশোধ করে না। দীর্ঘদিন ধরেই তারা 'ফাও' খেয়ে আসছে। এ ছাড়া অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কক্ষ থেকে চুরি, ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। তাদের চুরি ছিনতাইতে অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কক্ষগুলোতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরাও আস্তানা গড়েছে। এসব কক্ষের অনেকগুলোতে প্রতি রাতে মাদক ও জুয়ার আসরও বসছে। এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষক ও ছাত্ররা প্রায়ই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে। এতসব অভিযোগের ব্যাপারে ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রাতুল বলেন, নজরুল ছাত্রাবাসে সাধারণ শিক্ষার্থী হয়রানির বিষয়টি আমরা শুনেছি। তার দাবি, স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের ভাতিজা সুমু হত্যাকা-ের প্রধান আসামি সালেহ আহমেদ রাসেল ও তার অনুসারীরা এসব কাজ করছে। তবে এরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রাবাসে বসবাসকারী প্রতি শিক্ষার্থীকে খাওয়া ও ক্যান্টিন বয় বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার ৬৬০ টাকা দিতে হয়। কিন্তু অনেকে বছরের পর বছর এ বিল দেয় না। কারও কারও বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। এ কারণে অনেকের সিট বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তারা কক্ষ ছাড়ছে না। তারা তাদের অনুসারীদেরও বিনা পয়সায় খাওয়াচ্ছে। লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে হলের কর্মচারীরা প্রত্যেক বেলায় অতিরিক্ত ২৫/৩০ জনের খাবার রান্না করে তাদের রুমে দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য খাবারে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে নিরীহ শিক্ষার্থীদের। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হচ্ছে, অস্ত্রের ভয় দেখানো হচ্ছে। জানা গেছে, গত বছর বকেয়ার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রাবাসের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে সাদ্দাম নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী। দুর্বৃত্তদের হাতে নাজেহাল হওয়ার ভয়ে এখানে কোনো শিক্ষক থাকেন না।

অভিযোগ রয়েছে, ২৯ মে সমু হত্যাকা-ের সময় তার প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলার পরিকল্পনা এ হলে বসে করা হয়। পুলিশ ৩০ মে রাত ২টার দিকে হলে অভিযান চালায়। এ সময় আসামিসহ অন্যরা ছাদে উঠে গাছ দিয়ে নেমে পড়ে। এ সময় হলের দারোয়ান ইসমাঈলকে পুলিশ আসার খবর না জানানোর কারণে মারধর করে কাজল, জুনায়েদ, গুরু রাজীব এবং মিজান নামের কয়েকজন।

কার দখলে কোন কক্ষ :

সমাজবিজ্ঞান মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আল মামুন কাজল হলের ২৬২ নম্বর কক্ষে থাকে। ১৮ হাজার ৫৭ টাকা বকেয়ার জন্য গত বছর তার সিট বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু সে হল ছাড়েনি।

বাংলা মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম ওরফে গুরু রাজীব অবস্থান করছে ২০২ নম্বর কক্ষে। তার বকেয়া ১৫ হাজার ১২৭ টাকা। গত বছর তার সিট বাতিল করা হয়।

সমাজবিজ্ঞান মাস্টার্স শেষ বর্ষের মোবারক করিম ১১১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করত। তার বকেয়া ২০ হাজার ২৪১ টাকা। তার সিট বাতিল করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বর্তমানে তিনি হলের বাইরে রয়েছেন। একইভাবে হিসাব বিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষের আবু নাছের অপুর বকেয়া ৯ হাজার ৪১২ টাকা। তিনি ৩৫৩ নম্বর কক্ষে থাকেন। অর্থনীতি মাস্টার্স শেষ বর্ষের জুনায়েদ ২২০ নম্বর কক্ষ ও মিজান ১১১ নম্বর কক্ষে থাকছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষের শাকিল ২৬২, জুলহাস ৩৫৩ ও মজিদ ২৬২ নম্বর কক্ষে, ব্যবস্থাপনা বিভাগ অনার্স ২য় বর্ষের শাহ পরান ৩৫৩ নম্বর কক্ষে, ব্যবস্থাপনা ৩য় বর্ষের সাদ্দাম ১৫৭ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। এসব কক্ষের অনেকগুলোতে প্রতি রাতে মাদক ও জুয়ার আসর জমে।

এ ব্যাপারে নজরুল হোস্টেল সুপার জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, বকেয়ার দায়ে আমরা অনেকের সিট বাতিল করেছি। অবৈধভাবে কিছু শিক্ষার্থী থাকছে খাচ্ছে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তবে অভিযান চালাতে গিয়ে কাউকে পাইনি। হোস্টেলে শিক্ষকদের থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক কোয়ার্টার পরিত্যক্ত হওয়ায় অনেকে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: