শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

রমজানকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে

১৪ মে ২০১৮, ১০:৩৬:২২

রাসেল আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ঃ

তেরখাদা উপজেলা সদরের কাটেংগা বাজার, জয়সেনা বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারগুলোতে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য অধিক হারে বেড়ে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে নি¤œ, মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

বর্তমান বাজারে প্রতিটি দ্রব্যর অগ্নিমূল্য। দাম সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুম ও প্রচন্ড বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় সব জিনিসের দাম এক দফা বেড়ে গেছে। ফলে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তেরখাদা উপজেলা সদরের ইখড়ি এলাকার ইমদাদুল ইসলাম টনি, তেরখাদা পশ্চিমপাড় এলাকার সবুজ রায়, কাটেংগা এলাকার রেজওয়ান মোল্যা সহ অনেকের অভিযোগ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরোধে সরকারি উদ্যোগ যেমন নিস্ক্রিয়, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই।

ফলে উভয়ে নিরবতা পালন করায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ফয়দা লুটছে। অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাছ থেকে ইচ্ছামত দাম রাখে। তারা জিনিস বিক্রির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মেনে চলে না। ফলে বিভিন্ন দোকানপাটে জিনিসপত্রের দামের ক্ষেত্রে তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। গত জুন মাসে বেবি ফুড, ডাল, ময়দা, লবন, তেল, সয়াবিন, সাবান, আটা, চাউল, মুড়ি, ডিম, পেয়াজ, চিনি, মশলা, চিড়ার দাম গড়ে শতকরা ১০ থেকে ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শাকসবজি, তরি তরকারি, মাছ, হাঁস-মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ। চালের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে চাউলের দাম অধিক হারে বেড়ে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গতকাল বিকাল ৪ টায় কাটেংগা বাজার, জয়সেনা বাজার ও তেরখাদা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ১ কেজি আলুর দাম ৩০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা। মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ২৫ টাকা, পেয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, যা ছিল ৩০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা,যা ছিল ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ কেজি ১০০ টাকা, যা আগে ছিল ৬০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা, যা আগে ছিল ৬৪ টাকা। এভাবেই প্রতিটি পন্যের দাম বেড়েছে। চালের বাজারে দেখা গেছে দাম বৃদ্ধি কেজিতে ৫/৭ টাকা পর্যন্ত। মিনিকেট (ভালো মানের) চাল ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, লতা চাল (সাধারন মানের) ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, মোটা চাল কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ইলিশ প্রতি কেজি ১১শ থেকে ১২শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের রুই প্রতি কেজি ৪শ টাকা থেকে ৬শ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০ টাকা, কৈমাছ ৫শ থেকে ৬শ টাকা, শিং মাছ ৫শ থেকে ৬শ টাকা। কাতলা মাছ ৩শ থেকে ৪শ প াশ টাকা ও চিংড়ি আকার ভেদে ৪শ থেকে ১২, টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম প্রতি হালি ৩৫ টাকা, দেশী মুরগীর কেজি ৩শ থেকে ৩৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসি ৭শ টাকা, বয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় দাড়িয়েছে।

মুদি দোকান ও কাচামাল ব্যবসায়ীরা জানান কয়েকদিনের ভারি বর্ষনের কারণে সবজি ক্ষেতে মাছ মারা যাওয়ায় বাজারে সবজি ক্ষেতের গাছ মারা যাওয়ায় বাজারে সবজি সহ কাচামালের দাম বেড়েছে। উপজেলার হাড়িখালী এলাকার জসীম হাওলাদার বলেন বর্ষায় বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় সবজির বাজার আগুন। অপরদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন প্রতি বছর দেখা যায় কো না কোন অযুহাত দাড় করিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফালোভে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের মতে সাধারন মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পন্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমানো উচিৎ। পাশাপাশি অসাধুচক্রের সদস্যদের চি‎ি‎‎‎হ্নত করে তাদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের সাথে দোকানীদের প্রতিনিয়ত দাম বৃদ্ধির জবাব দিহিতা করতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি পরিবারে বিরাজ করছে দারুন সমস্যা।

ফলে হতদরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের একদিকে অতিবর্ষন, অন্যদিকে মরার মত অবস্থা হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া দিন মজুমরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের বক্তব্য ‘এভাবে আর কিছুদিন চললে সত্যি না খেয়ে মরতে হবে’। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম দফায় দফায় বাড়ার কারনে স্বল্প আয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছে। বাজার দর নিয়ন্ত্রনে কর্তৃপক্ষের জরুরীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার বিজ্ঞ মহল।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: