রাগ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

রাগ

13 May 2017, 6:17:11

আল্ আমিন শাহেদ

রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। এটি মানুষের ৬ টি মৌলিক আবেগের একটি। যখন কোন প্রাণী তীব্র বিরক্তি, তীব্র অস্বস্তি এবং তীব্র প্রতিকূলতা অনুভব করে তখন আমরা তাকে রাগ বলে থাকি। যে রাগ করে তাকে আমরা রাগান্বিত বলি। রাগ সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং কিছু সংখ্যক অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়।
.
সাধারনত কোন ধরনের প্ররোচনা যা প্রাণীর ব্যক্তিগত সীমানা বা ব্যক্তি সাতন্ত্রে আঘাত হানে বা হানতে চায় তখন প্রাণী রাগান্বিত হয়। অর্থাত যখন কেউ বা কোন কিছু আমাদের হুমকি দেয়, আমাদের অপমান করে, আমাদের প্রতি অবিচার করে এবং যখন আমাদের কোন তীব্র চাহিদা (যেমন, খেলনা, বাইক, টাকা ইত্যাদি) অগ্রাহ্য হয় তখন আমরা রাগান্বিত হই।
.
রাগান্বিত ব্যক্তি বা প্রাণী, সাধারণত উচ্চশব্দ করে, ভয় লাগায়, হুমকি দেয়। রাগান্বিত অবস্থায় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। হৃদস্পন্দন দ্রততর হয়, রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়। রাগান্বিত প্রাণীর শরীর এ্যাড্রেনালিন ও নরএ্যাড্রেনালিন নামক হরমন নিঃসরন করে। এ হরমনগুলো প্রতিকূল পরিবেশে প্রাণীকে অনেক বেশি সতর্ক করে তোলে, যাতে প্রাণী অবস্থা বুঝে আক্রমন অথবা পালিয়ে যেতে পারে।
.
প্রচন্ড রাগান্বিত মানুষের শরীর থরথর করে কাপতে থাকে, অনেক সময় রাগান্বিত ব্যক্তি কানে গরম অনুভব করে। চোখের পাতা প্রসারিত হয়ে থাকে অর্থাত চোখ বড় বড় করে রাখে। উচ্চশব্দে হৈ চৈ করে। রাগান্বিত ব্যক্তি অনেক সময় জিনিষপত্র ভাঙচুরও করে থাকে।
.
অপ্রকাশিত রাগকে আমরা ক্ষোভ বলে থাকি। ক্ষোভ প্রচন্ড ক্ষতিকর একটি আবেগ। এটি মানুষকে শারিরীক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। ক্ষোভের বশে মানুষ মারাত্নক প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠতে পারে। ঘটাতে পারে বড় অঘটন। ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ না পেলে মানুষ হতাশ হয়ে পড়তে পারে। তার আত্নবিশ্বাসও হ্রাস পেতে পারে। পুশে রাখা ক্ষোভ মানুষকে হিংস্রও করে তুলতে পারে।
.
যদি আপনি আপনার সর্বশেষ সুখস্মৃতির কথা মনে করতে না পারেন তবে আপনি ধরে নেবেন আপনার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে। ক্ষোভ দমনের শ্রেষ্ঠ পন্থা হল, ক্ষমা। যার প্রতি ক্ষোভ অনুভব করবেন তাকে মন থেকে ক্ষমা করে দেবেন। ফলে তাকে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন হবে না। যদি ক্ষমা করা সম্ভব না হয় তবে একটি কাগজ ও কলম নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমস্ত কথা লিপিবদ্ধ করে ফেলবেন। তারপর ওই লেখা দ্বিতীয়বার না পড়ে সাথে সাথে আগুনে পুড়ে ফেলবেন। এতেও কাজ না হলে, গালি দেবেন। অবশ্যই সামনা সামনি না। এটা ঘটনা আরো ঘনীভূত করবে। পারলে কোন বদ্ধ ঘরে বা নির্জন জায়গায় মনের সমস্ত বাঁধন ছিড়ে গালি দেবেন। মুখে যা আসে তাই বলবেন কিছু আটকে রাখবেন না। গালাগালি শেষ হলে মনে মনে বলবেন, এখন বেশ ভাল লাগছে। কখনও ক্ষোভকে অগ্রাহ্য করবেন না। আপনি একজন যোদ্ধা। যুদ্ধ করে ক্ষোভকে পরাজিত করবেন। অনেক সময় দেখা যায় যার প্রতি ক্ষোভ রয়েছে তার সাথে এ ব্যাপারে খোলামেলা কথা বললে ক্ষোভ হ্রাস পায়। আবার এটাও ঠিক যে ক্ষোভ দমনে উদারতারও প্রয়োজন আছে। সুতরাং উদারতা দেখান। অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকারক জিনিষ আমরা ফেলে দিই। ক্ষোভকেও ফেলে দিন।
.
প্রচন্ড রাগকে ক্রোধ বলা হয়। যখন রাগের প্রভাবে সবকিছু ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে হয়। যখন রাগের চোটে কাওকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে হয় তখন আমরা ক্রোধ অনুভব করি। ক্রোধ একটি তাৎক্ষণিক আবেগ। এটি মানুষের স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধিকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য অকেজো করে দিতে পারে। ঘটাতে পারে এমন কিছু যার জন্য ব্যক্তি নিজেই পরবর্তিতে অনুতাপবোধ করতে পারে। যেমন ধরুন আইফোন ভাঙ্গা বা বন্ধুর মাথা ফাটিয়ে দেয়া। ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের একটি চমৎকার পদ্ধতী হল, রিভার্স কাউন্টিং বা উল্টো গণন। যখনি উপরোক্ত ইচ্ছে আপনার ভেতর জাগ্রত হবে, সাথে সাথে যার উপর রাগ হচ্ছে তার কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। একটু স্থির হয়ে বসবেন। তিনবার গভীরভাবে দম নেবেন। দম নেয়ার সময় পেটের উপরের অংশ ও বুকের নিচের অংশ ফুলে উঠবে। তারপর কোন স্থির বস্তু যেমন পানির গ্লাস বা মাটির দিকে সমস্ত চেতনাকে নিবদ্ধ করবেন, অর্থাৎ মনযোগ দেবেন। এরপর ১০ থেকে উল্টো ১ পর্যন্ত গুনবেন। না কমলে আবার করুন। এই পদ্ধতী রাগান্বিত হওয়া সাথে সাথেও ব্যবহার করা যায়। দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করবেন তখন, যখন আপনি মনে করবেন আপনার দ্বারা কেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। কল্পনা শক্তিও ব্যবহার করতে পারেন। রাগ বাড়তে থাকলে, শান্ত সমুদ্রের দৃশ্য কল্পনা করবেন। কখনও ঝুম বৃষ্টিতে সমুদ্র দেখেছেন? রেগে গেলে কল্পনা করবেন। কল্পনা করতে পারেন প্রচন্ড গরমে বটগাছের ছবি কিংবা ঠান্ডা সরবতের ঘেমে যাওয়া গ্লাসের ছবি।
.
রাগ দমনের সর্বোত্তম পদ্ধতী হল যুক্তি। যখনি রেগে যাবেন, স্থির হওয়ার পর চিন্তা করবেন, আসলেই আপনার রেগে যাওয়াটা যৌক্তিক ছিল কিনা। প্রয়োজনে ছক এঁকে একপাশে রেগে যাওয়ার পক্ষে আর আরেক পাশে রেগে যাওয়া বিপক্ষে কারণগুলি লিখে ফেলুন। যদি রেগে যাওয়া যৌক্তিক হয় তবে গঠনমূলক উপায়ে কারণটিকে মোকাবেলা করুন। কখনও কারো ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। আর যদি অযৌক্তিক হয়, তবে নিজের দোষ মেনে নিন। দোষ মেনে নিলে কেও ছোট হয় না, বরং মহত্বের পথে একধাপ এগিয়ে যায়। যে যাই বলুক, আপনার অযৌক্তিক আচরণকে কখনই প্রশ্রয় দেবেন না ।
সুত্রঃ স্বাস্হ্য পরিক্রমা

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: