রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের রাষ্ট্রনায়কোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন-স্কো. লী. আহ্সান উল্লাহ (অব.) | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের রাষ্ট্রনায়কোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন-স্কো. লী. আহ্সান উল্লাহ (অব.)

10 June 2014, 7:42:26

Ahsan Ullah Abm

 

 

 

 

 

 

স্কো. লী. আহ্সান উল্লাহ (অব.)

দেশ জাতি ও জনগণের এসময়ে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাষ্ট্রপরিচালনায় সক্ষম নেতৃত্ব (Statesman)। রাষ্ট্রপরিচালনায় সরাসরি অংশগ্রহণ ও অবদান রাখেন রাজনীতিক, বিসিএস সার্ভিস ক্যাডারভূক্ত কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্মকর্তা, টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ (প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, ডাক্তার, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, শিল্পব্যবস্থাপক, ব্যবসা-এক্সিকিউটিভ, ব্যাংক বিশারদ, সমাজসেবী, একাউন্টেন্টস্, এনজিও ইত্যাদি), বুদ্ধিজীবি (শিক্ষক, আইনবিদ, সাংবাদিক, শিল্পী, লেখক-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী, ক্রীড়াবিদ ইত্যাদি), শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার প্রমুখ পেশাজীবিগণ। এঁদের মধ্যে রাষ্ট্রপরিচালনা কার্যক্রমে সবার শীর্ষে থাকেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণ যাঁরা রাজনৈতিক দল থেকেই আসেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে। অন্যরা আসেন প্রযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাছাইয়ের মাধ্যমে।

সেনাকর্মকর্তা তৈরী করতে হলে সামরিক একাডেমি, স্টাফ কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজসহ আরো অনেক পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের দরকার হয়। বেসামরিক ক্যাডার সার্ভিসভূক্ত সচিবকে বিপিএটিসি ও বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে, বিচারককে বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে, ব্যাংক বিশারদকে আইবিএম-এ, পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ একাডেমিতে, রাষ্ট্রদূতকে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে, শিক্ষা প্রশাসককে নায়েম-এ (ন্যাশনাল একাডেমি ফর এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট), পরিকল্পনাবিদকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, শিল্প-ব্যবসা-বানিজ্যের এক্সিকিউটিভ প্রমুখদের নিজ নিজ পেশায় নেতৃত্বদানে সক্ষম দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ হতে হলে পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। মানসম্মত ও দক্ষ ক্রীড়াবিদ বা খেলোয়াড় এবং সঙ্গীত শিল্পী হতে হলেও উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিতে হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের জন্য দেশ চালাবার উপযোগী কোনোরূপ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই। তাই, রাজনৈতিক নেতাকর্মী তৈরী করতেও দলসমূহের মধ্যে উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা থাকা দরকার। যেহেতু তাঁরা দেশ পরিচালনা করেন, দেশের শ্রেণী পেশা ও কর্মজীবি সহ সবার উপরে তাদের অবস্থান এবং তাদেরই সিদ্ধান্ত ও কর্মের উপর দেশ জাতি ও জনগণের কল্যাণ-অকল্যাণ নির্ভরশীল।

আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাকর্মীরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করতে গিয়ে আত্মত্যাগী হয়েই বিদ্রোহী হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, দীপান্তর বা জেল খেটেছেন, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন, প্রচলিত আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং পরিশেষে সফলতাও অর্জন করেছেন। সেই পরিস্থিতিতে আন্দোলন ও সংগ্রামের পদ্ধতি ছিল এক কথায় বৈরী ও নেতিবাচক এবং তখন তা-ই ছিল সঠিক । কারণ অহিংস ও সহিংস সকল আন্দোলনেরই লক্ষ্য ছিল বিদেশী বিতাড়ন এবং স্বাধীনতা অর্জন। জনগণ সেসব নেতিবাচক ও সংঘর্ষমূলক কর্মসূচী সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সকল আন্দোলনের কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়ন সেই সাক্ষ্যই বহন করে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭১ সনের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স মাঠে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ রেখেছিলেন তা পাকিস্তান ভাঙ্গার এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাক্ষ্যই বহন করে। সেই ভাষণই মূলত সমগ্র জাতিকে চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার পক্ষে সুদৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ করে। যার ফলে ২৫শে মার্চের ভয়াল রাত থেকে ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত   পাকিস্তানি হানাদারদের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করেই সমগ্রজাতি ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে।

স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র পরিচালনায়, নেতৃত্বের ধরন ও আন্দোলনের পদ্ধতি ভিন্ন রকম। পরিস্থিতি সাপেক্ষে এখানে প্রয়োগবাদী রাষ্ট্রনায়ক সুলভ (Pragmatic Statesmanship) নেতৃত্ব আর আন্দোলনের পদ্ধতি হতে হবে অবৈরী ও ইতিবাচক। স্বশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান, সৎ ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি ভক্তিশ্রদ্ধা রেখেই উল্লেখ করছি, দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্যি যে,  গত ৩৭ বছরে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতৃত্বের অভাব প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে। পুরনো স্টাইলের নেতৃত্ব ও আন্দোলন (হরতাল, অবরোধ, হিংসাত্মক ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী) গণবিরোধী তথা আত্মঘাতী হয়েছে। জনগণও তা স্বতঃস্ফুর্তভাবে মেনে নেয়নি। ফলে, রাজনীতিকগণ বিদেশী উপনিবেশিক শাসক-শোষকদের মতই জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছেন।

০১/১১/২০০৭ ইং যে সুযোগ এনে দিয়েছে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উপযুক্ত নতুন ধরনের নেতৃত্ব গঠনে প্রচেষ্টা নেয়া না হলে, বাংলাদেশের উন্নতির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। তাই, বর্তমান সময় ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে সব রাজনৈতিক দল ও গ্রুপ এবং নেতাকর্মী আত্মনিয়োগ করবেন, তাঁদের জন্য প্রচলিত শিক্ষার পরেও রাষ্ট্রপরিচালনা বিষয়ক তত্ত্ব, তথ্য, জ্ঞান ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে স্বশিক্ষিতি, প্রজ্ঞাবান সৎ ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেই উদ্যোগী হতে হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন বিধি প্রনয়ন সহ সহযোগিতামূলক মনোভাব ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

নেতৃত্বের সংকট নিয়ে প্রচুর আলোচনা সমালোচনা হলেও সংকট মোচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কোনো চিন্তা ও পরিকল্পনা রাজনৈতিক দলসমূহের আছে কি না জানি না। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করলে আশানুরূপ নেতৃত্বসুলভ আচরনের লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায় না। আজকের দিনে যে কোন ব্যক্তি বা দলকে সততা নিষ্ঠা ও ত্যাগের পাশাপাশি দেশের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিৎসা, শিক্ষা, ভূমি, কৃষি, শিল্প প্রভৃতি সমস্যা সম্ভাবনা ও সমাধান ; গ্রাম ও শহর নগর, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজনীতি, আইন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, মানবসম্পদ, পানি ও সামুদ্রিক সম্পদ, খনিজ বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, ব্যবসা বানিজ্য, পররাষ্ট্র আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি, দুর্যোগ ও ত্রান, সাহিত্য সংস্কৃতি ইতিহাস ও ঐতিহ্য, তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশল বিজ্ঞান ও কম্পিউটার, নীতি ধর্ম দর্শন, নেতৃত্বের গুণাবলী প্রভৃতি সম্পর্কে মৌলিক ধারনা, প্রয়োগিক জ্ঞান, সম্যক উপলব্ধি এবং যে কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের প্রজ্ঞা অর্জন করেই তবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। তার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।

সনাতনি প্রথায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, আর সিনিয়র নেতা বা কর্মীর শিষ্য বা ভক্ত হয়ে স্বাক্ষী গোপাল স্বরূপ নেতাকর্মী হওয়ার পুরনো ধ্যান-ধারনা ও রীতি এখন অচল। মনে রাখতে হবে, রাজনীতিতে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক দ্বান্দ্বিক বা যৌক্তিক। আবেগ ভক্তি করুনা স্নেহ মায়া মমতা এসব আদব কায়দা বা নম্র আচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তার প্রয়োজনও আছে কিন্তু তা দিয়ে রাজনৈতিক মেধা ও প্রজ্ঞার বিকাশ হয় না। ‘ক ভাই যেখানে আমরা আছি সেখানে’ শ্লোগানধর্মী রাজনীতির খোলস ও বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে ‘ক’ ভাইয়ের সঙ্গে যুক্তি তর্কে ঐক্যমতে এসেই তবে রাজনীতি করতে হবে। কেবলমাত্র উপযুক্ত রাজনৈতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই পারেন নেতা-কর্মীরা নিজেদের বিজ্ঞান মনষ্ক ও যুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে এবং চিন্তা-চেতনায় জ্ঞানে-প্রজ্ঞায় আত্মনির্ভরশীল হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বদানে সক্ষম হতে।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: