লাকসামের হিরু-হুমায়ুন নিখোঁজের ছয় বছর আজ: ফিরে আসার প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে আছেন স্বজনরা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

লাকসামের হিরু-হুমায়ুন নিখোঁজের ছয় বছর আজ: ফিরে আসার প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে আছেন স্বজনরা

27 November 2019, 3:50:02

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার লাকসামের বিএনপি’র দুই শীর্ষ নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজের আজ ২৭ নভেম্বর ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে। দুই নেতাকে ফিরে পাবার আশায় স্বজনরা বছরের পর বছর পথ চেয়ে থাকলেও তাদের প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হয়না। এ পর্যন্ত আদালতে ৫৮টি ধার্য্য তারিখ পেরিয়ে গেলেও আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি ও দুই পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাত ৯টায় র‌্যাব সদস্যরা সাইফুল ইসলাম হিরুর মালিকানাধীন লাকসাম ফ্লাওয়ার মিলে প্রায় ঘণ্টাখানেক অভিযান চালায়। এসময় ৯ জনকে আটক করা হয়। ওইদিন রাতেই তৎকালীন লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ ও পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন একটি অ্যাম্বুল্যান্সযোগে লাকসাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের আলীশ্বরে পৌঁছলে সাদা পোশাকধারী একদল লোক অ্যাম্বুল্যান্সটির গতিরোধ করে।
এসময় র‌্যাব পরিচয়ে তাদের আটক করে অন্য একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে কুমিল্লার দিকে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে জসিম (অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা) এবং লাকসামে গ্রেফতার হওয়া ৯ জনকে থানায় হস্তান্তর করেন র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শাহজাহান আলী। পরদিন সকালে তাদের জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু বাকি দু’জনের সন্ধান দিতে পারেনি র‌্যাব বা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের অন্যতম মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী তারেক সাঈদের নেতৃতে হিরু-হুমায়ুনকে গুম করা হয়েছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে স্থানীয় বিএনপি ও দুই পরিবারের স্বজনরা।
২০১৪ সালের ১৮ মে হুমায়ুন কবির পারভেজের বাবা রঙ্গু মিয়া গুমের অভিযোগ এনে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। মামলায় তৎকালীন র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি-২’র মেজর শাহেদ হাসান রাজীব, ডিএডি শাহজাহান আলী, উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সুলতান আহমেদ ও অসিত কুমার রায়কে আসামি করা হয়।
আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য লাকসাম থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে নির্দেশ প্রদান করেন। কয়েক দফা সময় নিয়ে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে লাকসাম থানা পুলিশ। মামলার বাদী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ পর্যন্ত আদালতে ৫৮টি ধার্য্য তারিখ পেরিয়ে গেলেও আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। এমনকি মামলার প্রধান অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলার অন্যতম মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী তারেক সাঈদকেও হিরু-হুমায়ুনের গুমের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট বাদী রঙ্গু মিয়া মারা গেলে আদালতে আবেদনের মাধ্যমে মামলাটির পরিবর্তিত বাদী হন হুমায়ুন কবির পারভেজের ছোট ভাই গোলাম ফারুক।
মামলার বাদী গোলাম ফারুক জানান, লাকসামের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ জনপ্রিয় মুখ। গত ৬ বছর থেকে তাদের ফিরে আসার প্রতীক্ষার প্রহর গুনছি। কিন্তু আমরা জানিনা তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে। হিরু-হুমায়ুন এর সন্ধান নিশ্চিতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, এ পর্যন্ত আদালতে ৫৮টি ধার্য্য তারিখ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা কোন প্রকার প্রতিবেদন জমা দেননি। সুষ্ঠু তদন্ত হলে হিরু-হুমায়ুন গুমের সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মামলার প্রতিবেদন মোটামুটি প্রস্তুত। সহসা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো বলে আশা করছি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x