লোন নিয়ে খেলা দেখতে শ্রীলংকায় যান ঝিনাইদহের নুরবক্স! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

লোন নিয়ে খেলা দেখতে শ্রীলংকায় যান ঝিনাইদহের নুরবক্স!

19 April 2017, 9:47:40

দেশেকে শত্রুমুক্ত করতে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন একাত্তরে। নয়মাস যুদ্ধ করে দেশকে করেছেন শত্রুমুক্ত। তাই অন্যদের তুলনায় দেশ ও দেশের স্বংস্কৃতির প্রতি রয়েছে আলাদা ভালোবাসা। যে ভালোবাসার টান এখনো অগ্রাহ্য করতে পারেন না ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নুরবক্স। বয়স সত্তুর পেরিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু মনের বয়স আঠারো পেরতে দেননি মুক্তিযোদ্ধা নুরবক্স। তাইতো বাঙ্গালির প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ পালন করতে ঝিনাইদহ থেকে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। এবছর বর্ষবরন উৎসবের মঙ্গল সোভাযাত্রা বা রমনা বটমূলের স্বাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সবখানেই প্রথম সারিতে ছিলেন চিরসবুজ এই মানুষটি।

নুরবক্সের পরনে মহেশপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একটি গেঞ্জি, আছে মুক্তিযোদ্ধার ব্যাচ লাগানোও। এক হাতে একতারা আর অন্য হাতে বাংলাদেশের পতাকা। মাথায় লাগানো প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সাথে তোলা একটি ছবি ও নিজ এলাকার সংসদ সদস্য মো: নবী নেওয়াজের একটি পোস্টারের ছবি, যার উপর লাল কালিতে লেখা “জয় বাংলা কাপ”।

মাথায় লাগানো কার্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে নুরবক্স জানান, প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলকের সাথে তোলা ছবিটি এ বছর আওয়ামী লগের সম্মেলনে এসে তুলেছেন। আর “জয় বাংলা কাপ” লেখার বিষয়ে আগ্রহের সাথে বলেন, ‘খেলা দেখতে গেছিলাম শ্রীলংকা। তখন এই কার্ড লাগিয়েছি।’

নুরবক্স জানান, নিজ এলাকা মহেশপুরের সোনালী ব্যাংক থেকে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিযোদ্ধা লোন নিয়ে নিজ দেশের খেলা দেখতে শ্রীলংকা যান তিনি। লোন নিয়ে কেন খেলা দেখতে যেতে হবে?- এমন প্রশ্নে নুরবক্সের সরাসরি জবাব, “মনে চাইছে বাংলাদেশের খেলা দেখবো, দেখছি।’ লোনের টাকা শোধ করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহীনির একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা। তাই সেনাবাহীনি থেকে মাসিক ভাতা পান। সাথে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। দুই ভাতা মিলিয়ে মাসে প্রায় বিশ থেকে পচিশ হাজার টাকা পান তিনি। এই টাকা দিয়েই শোধ করবেন লোনের টাকা।

লংকায় খেলা দেখার অভিজ্ঞতা বর্ননা করতে গিয়ে বলেন, মার্চ মাসের ২২ তারিখে খেলা দেখতে শ্রীলংকা যান তিনি। খেলায় বাংলাদেশ জিততে পারেনি বলে মনে কিছুটা কষ্ট রয়েছে। তবে বড় কষ্টের কথা শ্রিলংকায় তার ব্যাগ চুড়ি হয়ে গেছে। ব্যাগে তার পাসপোর্টের কপি, ভিসার কপি সহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ছিলো। পরে শ্রীলংকাস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের সাহায্যে ৮ এপ্রিল দেশে ফেরেন তিনি।

শ্রীলংকায় বাংলাদেশের জয় দেখতে পারেননি বলে মনের মধ্যে যে কষ্ট রয়েছে তা কাটাতে আবারো দেশের বাহিরে বাংলাদেশের খেলা দেখতে যেতে চান তিনি। নুরবক্স জানান, ঢাকায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে যাবেন আয়ারল্যান্ডের দূতাবাসে। আসন্ন বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের খেলা দেখতে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করবেন। ভিসা পেলে আবারো নেবেন লোন। তিনি বলেন, শ্রীলংকায় জিততে পারিনাই, কিন্তু আয়ারল্যান্ডে জিতবোই। এখন শুধু ভিসার জন্য অপেক্ষা।

নুরবক্স আরো জানান, পহেলা বৈশাখের তিনদিন আগে ঢাকায় এসছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গনে মঙ্গল সোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলায় দিনের বেলা কাটিয়েছেন ওখানেই। আর রাত হলে পচ্ছন্দনুযায়ী ফার্মগেট এলাকার যেকোন একটি জায়গায় মাথায় বাধা কাপড় বিছিয়ে কাটিয়েছেন রাত। মঙ্গল সোভাযাত্রা, বটমূলের স্বাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করে এখন আয়ারল্যান্ড দূতাবাসে দেখা করে চলে যাবেন বাড়িতে।

নুরবক্সের পরিবারে রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে চাকরি করে বাংলাদেশ সেনাবাহীনিতে। দুই ছেলে এলাকাতে করে মাছের চাষ। আর মেয়ে এলাকার মহিলা মেম্বার। ঘর ছেড়ে বাহিরে ঘোরাঘুরির বিষয়ে পরিবারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম প্রথম বাড়ির মানুষ বকাবকি করতো। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় এখন আর কিছু বলে না।

শুধু খেলাধুলা নয় দেশের শিল্প-স্বংস্কৃতি ও স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর আসক্তিই তাকে করেছে যাযাবর। নুরবক্স জানান, প্রায় পনের-বিশ বছর থেকে যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ইচ্ছে হলে বাড়ি যান আবার ইচ্ছে হলেই বেড়িয়ে পড়েন অজানার উদ্দেশ্যে। কি সুখ পান এভাবে জীবন কাটিয়ে?- এমন প্রশ্নের উত্তরে রসিকতা করে নুরবক্স বলেন, ‘ঘুরি-ফিরি আর মাঝে মাঝে দিদিদের (মেয়েদের) সাথে গল্প করি। সুখে থাকতে হলে সব কিছু করতে হয়। মাঝে মাঝে দিদিদের সাথে গল্পও করতে হয়।’

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: