শিক্ষাবিদ আবদুল করিম মজুমদার’র ৭৬ তম জন্মদিন ১৮ ডিসেম্বর | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা

শিক্ষাবিদ আবদুল করিম মজুমদার’র ৭৬ তম জন্মদিন ১৮ ডিসেম্বর

7 December 2016, 11:15:30

আজিম উল্যাহ হানিফ
মো: আবদুল করিম মজুমদার ১৯৪১ সালের ১৮ডিসেম্বর ঈদুল আজহার দিন সোমবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের হেসাখাল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মো: আবদুল গনি মজুমদার, মায়ের নাম লালমতি বিবি। পরম যত্মে করিম মজুমদারকে লালন পালন করেন শ্রদ্ধেয় বাবা মা। শিক্ষাজীবনে মক্তবে কারিমা মুখস্থ করার পর প্রখ্যাত বাবু গদাধর ভৌমিকের নিকট আবদুল করিম মজুমদারের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তিনি ৪র্থ শ্রেনীতে বৃত্তি পেয়ে পাশ করার পর প্রয়াত নবদ্বীপ বাবুর তত্ত্বাবধানে ৫ম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হন।

এরপর হরিপুর জুনিয়র মাদ্রাসা হতে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে নাঙ্গলকোট আরিফুর রহমান হাইস্কুলে ৭ম ও ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করে লাকসাম অতুল হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৫৬ সালে মেট্টিক পাশ করেন এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ হতে ১৯৫৮ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৬০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ হতে বিএ পাশ করার পরই মেধা ও বিচক্ষনতার কারণে ১৯৬০ সালেই নাথেরপেটুয়া হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সরাসরি যোগদানের সুযোগ পান এবং সেখানে ১৯৬২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইতিমধ্যে ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহ টির্চাস ট্টেনিং কলেজ হতে তিনি বিএড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ।

এরপর ১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে দক্ষিন শাকতলী হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে ১৯৬৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালের ১৩ জানুয়ারী এতদা লের প্রথম গ্রাজুয়েট বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ লাকসাম থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট,পরে পেড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সাবেক স্পেশাল জুরি ও রিন শালিসী বোর্ড সদস্য মরহুম মৌলভী ছিদ্দিকুর রহমান মজুমদার (বিএ) সাহেবের ২য় কন্যা সুরাইয়া আক্তার রানীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের মাত্র তিন মাস পর চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ৬ মাসের মাথায় চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানা শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলী হন। ১৯৬৩ সালের শেষে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।

সেই সময়ে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হতে থাকে এবং সার্বিক পরিস্থিতির এক অচলাবস্থা শুরু হয়। এমনই এক সময়ে ময়ুরা হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা যাদব বাবু এবং অনন্তরক্ষিত নাজিব মিয়া গংয়ের অনুরোধে ১৯৬৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ময়ূরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে এক যুগের ও বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষক পদে ১৯৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারী পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পারদর্শীতার কারণে কুমিল্লা জেলার মধ্যে ময়ূরা শ্রেষ্ঠ হাইস্কুল এবং তিনি শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে মযার্দা অর্জন করেন। ময়ূরা হাইস্কুলে কর্মরত থাকাকালীন ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলা বিষয়ে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

১৯৭০ সালে ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে তৎকালীন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা জনিত কারণে তাহার চাকুরীতে যোগদান করতে বিলম্ব ঘটে,তাই পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ১৬ জানুয়ারী অর্থমন্ত্রনালয়ের বাজেট বিভাগে সেকশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত দুই বছর একই পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সাল হতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন, প্রতিরক্ষা,শিপিং,কেবিনেট ডিভিশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় কালে ১৯৮১ সালে ছাদেক হোসেন ভূইয়া, জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, ভিপি হুমায়ুন কবির, কবি এস এম আবুল বাশার, একে এম কামরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজনের দাবি আর লেখনীর সাথে নাঙ্গলকোট থানা প্রতিষ্ঠা ও একটি স্বতন্ত্র নিবাচর্নী আসন স্থাপনে তার অবদান সর্বজন স্বীকৃত। ১৯৮৬ সাল হতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন দেশের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সহযোগী হন।

তিনি প্রাভেটাইজেশন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি পদে ও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সরকারের কেবিনেট ডিভিশনেই সিনিয়র সহকারী সচিবের পদ হতে ১৯৯৮ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভের পর ২০০০ সালে সেখান হতে অবসর গ্রহণ করেন। তার কর্মজীবনে দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়সহ দেশে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন। আবদুল করিম মজুমদার সরকারী চাকুরী হতে অবসর গ্রহণের পর সার্বক্ষনিক নিভূত এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণে ব্যস্ত থাকতেন। বয়সেরও র্বাধক্যের ভার তাকে কখনও দমাতে পারতো না। তিনি ঢাকা শহর ছেড়ে নিজ গ্রাম নাঙ্গলকোটের হেসাখালের জনমানুষের কাছে চলে আসেন। সেখানেই তার প্রতিষ্ঠিত সুহৃদ কমপ্লেক্স,সুহৃদ পল্লীতে সোসাইটি ফর আরবান এন্ড রুরাল হিউম্যান ইন্ট্রিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট সুহৃদ (একটি জাতীয় পর্যায়ের এনজিও) এর মাধ্যমে পরিচালিত সুহৃদ কারিগরী বিজ্ঞান ও বাণিজ্য কলেজ (এসএসসি ভোকেশনাল, এইচএসসি বিএম, ৪বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও ফিসারিজ ডিপ্লোমা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। জাপান সরকারের অনুদানে নির্মিত জাপান সুহৃদ ভোকেশনাল ট্টেনিং সেন্টার, বায়তুল করিম জামে মসজিদ এবং সবর্শেষে সুহৃদ একে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট (প্রস্তাবিত) স্থাপনের মধ্য দিয়ে এলাকাকে আলোকিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন।

 

এলাকাবাসী,শুভাকাংখীদের ও পরিবারের অনুরোধে তারই প্রতিষ্ঠিত সুহৃদ কারিগরী বিজ্ঞান ও কারিগরী কলেজের নাম পরিবর্তন করে তার নিজের নাম যুক্ত করে সুহৃদ একে (আবদুল করিম) কলেজ অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি নামকরনার্থে ইতিপূর্বে কলেজকে প্রদত্ত জমি ছাড়াও অতিরিক্ত হিসেবে মৃত্যুর মাত্র কিছুদিন পূর্বে তিনি তার নিজস্ব সম্পত্তি ১১৬ শতক কলেজের পরিবর্তিত নামে দান করে গেছেন। তিনি একজন আলোকিত শিক্ষকই নন,সৃষ্টি করে গেছেন অসংখ্য আলোকিত মানুষ,প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বহু আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আলোকিত সমাজ। তিনি ছিলেন মরহুম সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূইয়ার মত অসংখ্য কীর্তিমান মানুষের শিক্ষাগুরু এবং প্রয়াত কাজী জহিরুল কাইয়ুম সাহেবের আজীবন রাজনৈতিক উপদেষ্টা। একে মজুমদার ২০১৫ সালের ৪ ঠা জানুয়ারী স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রানীর আকস্মিক মৃত্যুর পর মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তাকে দেশে বিদেশে অইেশ চিকিৎসা করার পরও এই মহান কর্মবীর ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার পবিত্র হজ্জ্বের দিন সকাল ১১.০০ ঘটিকায় ঢাকাস্থ পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ওইদিন বাদ আসর তার ঢাকার নিজস্ব বাড়ি মজুমদার লজ সংলগ্ম সনটেক দনিয়া জামে মসজিদে প্রথম জানাযা এবং ১২ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১.০০ ঘটিকায় তার নিজ গ্রাম হেসাখাল পদুয়ার পাড় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হাজার হাজার জনতার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২য় জানাযা শেষে তারই প্রতিষ্ঠিত সুহৃদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত বায়তুল করিম জামে মসজিদ এবং প্রিয়তমা স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রানীর নামে নির্মিত বাংলো রানী কুঠির এর সামনে স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। সেখানে তিনি চির নিদ্রায় শায়িত আছেন।তিনি নাঙ্গলকোটের কিছু সংখ্যক লেখকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নাঙ্গলকোট রাইর্টাস এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, কুমিল্লা কবি ফোরাম, জাতীয় কবিতা ম কুমিল্লা জেলা শাখা এবং নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব (সায়েম মাহবুবের মাধ্যমে) অন্যতম শুভাকাংখী ছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর এই মহান ব্যক্তির ৭৬তম তম জন্মদিন।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: