শিশু অধিকার : হাবিব বিন অাব্দুস ছোবহান | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

শিশু অধিকার : হাবিব বিন অাব্দুস ছোবহান

4 March 2017, 6:04:21

শিশু অধিকার
হাবিব বিন অাব্দুস ছোবহান

শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ’- আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত,শিশুদের মধ্যেই সুপ্ত থকে ভবিষ্যতের কত কবি, শিল্পী, বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিভা। দেশে ঘটা করে ‘ পথশিশু দিবস’ ২রা অক্টোবার পালন করা হয় । শিশু বিষয়ক আরও যে সব দিবস রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১৭ ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস,কন্যা শিশু দিবস ৩০ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব শিশু দিবস ২০ শে নভেম্বর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ বা শিক্ষাবিদ এসে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়ে যান। তাতে সমবেদনা ঝরে, এমনকি করণীয় কর্মসূচীর কথাবার্তাও উচ্চারিত হয়। ওই ‘শিশু দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত, প্রচারিত বিজ্ঞাপনে দেখা যায় গোলগাল ,অতিপুষ্ট শিশুদের হাসিহাসি মুখ। বলা বাহুল্য এসব ছবি বিত্তবান, উচ্চমধ্যবিত্ত, পরিবারভুক্ত শিশুর, অতিপুষ্ট যাদের কারো কারো অন্য সমস্যা। অন্যদিকে অধিবাসী শিশু, শ্রমজীবি পরিবারের শিশু (শহর বা গ্রামের), এমনকি নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুও রোগে বা অপুষ্টিতে ভোগে। অপুষ্টিই এদের প্রধান ব্যাধি। এদের তো বিজ্ঞাপনে দেখানো চলে না।অনেক ছিন্নমূল শিশুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনাদরে অবহেলায় মানুষ হচ্ছে। অন্ন, বস্থ, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ দেশের দরিদ্র ও অসহায় শিশুরা। রাজধানী ঢাকায় কয়েক দশক ধরে দেখছি এদের, এবং এদের একাংশ অসহায় পথশিশু। একসময় এদের ‘পথকলি’-র শোভন নামে আখ্যায়িত করে স্বাভাবিক জীবনস্রোত ফিরিয়ে নেবার পরিকল্পনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তা বেশি দূর এগোয় নি। ওদের ভাগ্য রাজপথেই নির্ধারিত থাকে। জীবনের নানাবিধ সুজগ-সুবিধা ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত পথশিশুদের সাহায্য দুএকটি এন.জি.ও এগিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত অবস্থার হেরফের হয়নি। তাই স্বনামখ্যাত কার্টুনশিল্পী রফিকুন নবীর তুলিতে, কলমে এরা ‘টোকাই’ নামে পরিচিতি পেয়ে যায়। শিক্ষিত মহলের আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। এরা এক অর্থে পরিবার বর্জিত, সমাজের উপেক্ষিত সদস্য।
শিশু বলতে কাদের বুঝায়ঃ -আন্তর্জাতিকভাবে জাতীসংঘ শিশু সনদে বর্ণিত ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ বয়সের কম বয়সী সকলেই শিশু। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৫ ভাগই শিশু। বাংলাদেশের জাতীয় শিশুনীতিতে শুধু ১৪ বছরের কম বয়সীদের শিশুধরা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ১১ বছর পর্যন্ত বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক শিশু আবার ১৬ বছরের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়। আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু আইনে ১৫ বছরের কম বয়স্কদের শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্যানেল কোড এর ধারা অনুযায়ী। শিশু নির্ধারণে বয়স সীমায় মত পার্থক্য থাকতে পারে। তবে তা কখনোই ১৮ বছরের উর্ধ্বে নয়। শিশু শ্রমিকদের বয়স ১০ থেকে ১৪/১৫ বছর। সেই ভোর থেকে কাজ শুরু হয়ে রাতের অনেকটা সময় জুড়ে ওরা কাজ করে। একটু ভুল হলেই মালিকের হাতে মার খেতে হয় । কখনও কখনও তাকে চাকুরী হারাতে হয়। সারা দিনে কাজের ধরন বুঝে ২/৩ বেলা খাবার পায় এই শিশু শ্রমিকেরা। দিন শেষে ২০ থেকে ৫০/৬০ টাকা কিংবা মাস শেষে ৫০০/৬০০ টাকা পেয়ে থাকে। যা তাদের শ্রম এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। মালিক পক্ষের কাছে কোন দাবি তুললেই চাকুরিচ্যুত হতে হয়। এভাবেই চলছে তাদের যাপিত কষ্টময় জীবন।
পথ শিশু কারাঃ যে সব শিশু পিতৃ কিংবা মাতৃহীন , মা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বাবা মারত্মক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত, মাদকাসক্ত কিংবা পিতা মাতা সংসার চালাতে পারছে না সেই সব ঘরের বাহিরে চলে আসে রাস্তায় বসবাস শুরু করে। তাহাদেরকে পথ শিশু বলা হয়॥আমাদের দেশের বেশীর ভাগ লোকই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এরা সঠিক ভাবে শিশুদেরকে গড়ে তুলতে পারে না। তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থকে। তারা ছেলে-মেয়েদেরকে ঠিকমত খাবার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার/ সুযোগ-সুবিধা প্রদানে ব্যর্থ হয়। এসব শিশুরাই তখন জীবন সংগ্রামে নেমে ভিবিন্ন কাজ-কর্মে জড়িয়ে পড়ে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে- কুলি, হকার, রিক্সা শ্রমিক, ফুল বিক্রেতা, আবর্জনা সংগ্রাহক, হোটেল শ্রমিক, বুনন কর্মী, মাদক বাহক,বিড়ি শ্রমিক, ঝালাই কারখানার শ্রমিক ইত্যাদি। তাছাড়া ভিবিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে তাদেরকে নিয়োজিত করা হয়।
সে বয়স থেকেই শিশুকে ধরতে হচ্ছে সংসারের হাল। মোটর, রিকশা, সাইকেল নির্মাণ বিদ্যুৎ ইটভাটা, চা ষ্টল,হোটেল,রেষ্টুরেন্টে, রাজমিস্ত্রীর সাহায্যকারী, ওয়েলডিং কারখানায় গার্মেন্টস,জুটমিল,কৃষিসহ বিভিন্ন কাজে শিশুরা জীবন জীবিকার পথ খোঁজে। অনেকেই ট্যাক্সি, ম্যাক্সি, টেম্পু,মাইক্রোবাসের হেলপার,কেউবা চালাচ্ছে রিক্সা,কেউ কাঠমিস্ত্রির সহকারী। অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে শিশুরা। জলন্ত কয়লার লেলিহান আগুনের শিখা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করছে শিশুরা। এতে ওদের শারীরিক, মস্তিস্ক গঠনেও বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার ফলে ওদের জীবনে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে। ফলে কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব শিশুরা,অনেক সময় পংগুত্ত্ব বরণ করে, জীবনী শক্তি ক্ষয়ে অনেক শিশু মারাও যাচ্ছে। দেশের সরকার এবং সচেতন নাগরিকগণ এ ব্যাপারে নির্বাক থাকছেন।
পথ শিশুদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাঃ শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। মেরুদন্ডহীন মানুষ জড় প্রদার্থের ন্যায় অচল। শিক্ষা মানুষকে সত্যিকার মানুষ রুপে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আর শিক্ষা হীনতা তাদেরকে অমানুষ করে তোলে। পথ শিশুদের শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বিভিন্ন কারণে। শিক্ষার প্রভাবেই তারা কুসংস্কার, অন্যায়, জড়তা ও হীনতা থেকে মুক্ত হয়ে সত্যিকারের মানুষ হতে পারে। শিক্ষার আলোয় পথ শিশুরা আলোকিত হরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তারা অংশ গ্রহন করতে পারে। অনেক কঠিন ও ঝুকিপূর্ণ কাজে কারখানার মালিকেরা শিশুদের অল্প টাকার বিনিময়ে কাজ করায়। এতে অকালেই অনেক শিশুরা ঝরে পড়ে। এসব শিশুরা যদি শিক্ষার সুযোগ পায় তাহলে তারা ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে অবগত থাকে। তারা যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।
পথ শিশুদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্ত্যব্যঃ আমাদের দেশে কত ছিন্নমূল শিশু রয়েছে যারা দবেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারে না। সমাজের উচু তলার মানুষ থেকে ভিন্ন কিছু মানুষ রয়েছে। যাদের দিন কাটে অনেক কষ্টে। ঠিকমতো খাবার যোগাতে পারে না।তারা কিভাবে শিক্ষাগ্রহন করবে? এজন্য এই সব শিশুদেরকে শিক্ষা দানের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সব শিশুর অভিভাবকদের দারিদ্র দুরিকরনে আয় বৃদ্ধিমুলক প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। উন্নত দেশে দেখা যায় যে, শিশুর সমস্ত দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করে। তেমনি আমাদের দেশের অবহেলিত শিশুদের সমস্ত দায়িত্ব রাষ্ট্র নিলে সমাজে আর কোন অরাজকতার সৃস্টি হবে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক সমীক্ষায় দেখা যায় বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৬৫ লক্ষ (৬.৬ মিলিয়ন) যা পৃথিবীর মোট শিশু শ্রমিকের ২.৬ অংশ। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশই শিশু,যাদের বয়স ষোল বছরের কম। সমীক্ষায় দেখা যায়,এদের প্রতি ১০০ জনে ১৯ জন শিশু শ্রমিক। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী,২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রাস্তায় শিশুর সংখ্যা ১১ লাখ ৪৪ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৪ এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করবে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ে এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে দু’টি পর্যায়ে ৪০ হাজার শিশু শ্রমিককে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ৫০ হাজার শিশু শ্রমিকের পিতা-মাতাকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে সরকার ৫০ হাজার শিশু শ্রমিককে ১৮ মাস মেয়াদী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং ৯টি ট্রেডে ৬ মাস মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে এদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে উপকরণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজস্ব খাত থেকে ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৪ সালের চলতি মাস অর্থাৎ জুন মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চতুর্থ পর্যায়ে আগামী জুলাই থেকে শিশুশ্রম নিরসনে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ৭১ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২৬ হাজর শিশু শ্রমিক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং ১৩ হাজার শিশু শ্রমিককে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রম উইং-এর তত্ত্বাবধানে চাইল্ড লেবার ইউনিট (সিএলইউ) গঠন করা হয়েছে।
আমাদের সংবিধানে প্রত্যেকটি মানুষের মৌলিক অধিকার দেওয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু রাজনীতিবিদরা ব্যস্ত আছেন নিজের মৌলিক চাহিদাকে পূরণ করার নিমিত্বে। শুধু তাদের মৌলিক চাহিদা বললে বড্ড ভুল হবে, বলা উচিৎ তাদের আগামী চৌদ্দ পুরুষ যেন মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত না হন সে লক্ষ্যে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। আর যাদের মৌলিক অধিকারগুলো পাওয়ার কথা ছিলো তারাই হচ্ছেন মূলত উপেক্ষিত।
পথচারী শিশুদের প্রতি নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিঃ পথচারী শিশুদের প্রতি নৈতিক মুল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ না থাকলে মানুষের জীবন বির্পযে পরিচালিত হয় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। এসব শিশুদের জীবনকে সৎ,সুন্দর সহৎ ও আনন্দময় করে তুলতে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যাবোধ একান্ত প্রয়োজন। যে সব শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যাবোধের অভাব রয়েছে সেই অন্যায় পথে চলে। তাই অন্যায় পথ রোধ করার জন্য শিশুদেরকে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে।
পথ শিশুদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থাঃ পথ শিশুদের জন্য বৃত্তিমুলক শিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশের বৃত্তি মূলক শিক্ষার হাজারো ক্ষেত্র রয়েছে।কৃষি শিল্প, কারিগরি,চিকিৎসা,প্রকৌশল, ছাপাখানার কাজ,দর্জির কাজ কাঠমিস্তির কাজ,যন্ত্রপাতির কাজ ইত্যাদি নানা রকম কর্মমূখী শিক্ষা গ্রহন করা যেতে পারে। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বিশ্বের একটি দরিদ্রতম ও জনবহুল দেশ। আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য দেশের জনসংখ্যাকে কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।কর্মমূখী শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সাধারনভাবেই পর্যাপ্ত সংখ্যক কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। স্বল্পমেয়াদী কোর্সে উপযুক্ত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে আমাদের তরুন বেকারদের সুদক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।এ সব কর্মমূখী শিক্ষার উপকারিতা দেখে পথ শিশুরা আগ্রহী হয়। এবং পথশিশুদের পিতামাতা তাদের সন্তনকে কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য উৎসাহিত হন।
পথ শিশুদের ব্যাপারে কি করা উচিতঃ শিশুর পরিপূর্ন বিকাশে জাতীয় সমৃদ্ধি নির্ভরশীল। পথশিশুদের উন্নয়নের ব্যাপারে শুধু সরকারী কার্যক্রম নয় আমাদেরকে সচেতনতা অকলম্বন করতে হবে। পথ শিশুদের অধিকার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করে তুলতে হবে।উপযুক্ত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তার যেন আতœনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে সে ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। পৃথিবীর আধুনিক গতিশীলতার সাথে পরিচয় করিয়ে তাদের বিবেক ও বুদ্ধির বিকাশ সাধন করতে হবে। শিক্ষার যথার্থ অনুশীলন করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজে ধনী গরীবের মধ্যে সুর্স্পক তৈরি করতে হবে। সমাজের বিত্তবান মানুষেরা সব সময়ই পথ শিশুদের ঘৃনার চোখে দেখে। এ ব্যাপারে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।যাতে ধনীরা পথ শিশুদের উপর নির্যাতন করতে না পারে। সচেতন থাকতে হবে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এরা যেন অল্প বয়সেই হারিয়ে না যায়। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানহীন শিশুরা যেন পরবর্তীকালে জাতির কাধেঁ বোঝা না হয়ে বসে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা সকলেরই উচিত।¡। সুস্থ ও স্বাভাবিক শৈশবের নিশ্চয়তা সব শিশুর জন্মগত অধিকার। দারিদ্র্যতার কারণে বাংলাদেশের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। দেশের ভোগবাদী রাজনৈতিক নেতারা দরিদ্র পরিবারের শিশুদের দারিদ্র্যতাকে পুঁজি করে তাদের ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। তাই এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য পরিবার, সমাজ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: