শিার মান ও আমাদের বর্তমান শিাব্যবস্থা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

শিার মান ও আমাদের বর্তমান শিাব্যবস্থা

19 September 2014, 2:26:03


মোঃ আলাউদ্দিন মজুমদার

মানুষের বুদ্ধি ভিত্তিক বিকাশের জন্য শিা একটি অপরিহার্য বিষয়। সাম্যবাদী দার্শনিক রুশো (১৭১২-৭৮) সাম্যবাদী সমাজের প্রত্যাশায় শিার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছেন। আর বিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেশে দেশে শিা মানুষের মৌলিক ও জন্মগত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং নিরতা, অশিা, কুসংস্কার প্রভৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন বি¯তৃত হতে থাকে। বাংলাদেশের েেত্রও এর ব্যতিক্রম হয় নি। কিন্তু সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশের শিা ব্যবস্থা কাঙ্খিত মান অর্জন করতে পারেনি।
শিা জাতির মেরুদন্ড। যে কোনো জাতির জাতীয় অগ্রগতির মূলমন্ত্র হলো শিা। শিা বিষয়টি একটি সার্বজনীন, ব্যাপক ও বি¯তৃত প্রসঙ্গ। তাই একে কোনো সংজ্ঞা বা তত্ত্ব দ্বারা সার্বিক ভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সাধারণত শিা বলতে মন-মানসিকতার উৎকর্ষ সাধন করে সাফল্যজনক অবদান রাখাকেই বোঝায়। একটি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও সম্পদের সুষম ব্যবহারের জন্য শিা একটি মৌলিক অধিকার।
বাংলাদেশের শিা ব্যবস্থা ঔপনিবেশিক ধাঁচে গড়া। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে তারা তাদের স্বার্থসিদ্দির অনুকূল করে শিা ব্যবস্থার বিন্যাস করেছিল। পাকিস্তান আমলেও এই শিা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে এ যাবৎ শিা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের ল্েয বিভিন্ন শিা কমিশন গঠন করা হলেও কোনো কমিশনই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় নি এবং শিােেত্র কাঙ্খিত কোনো সংস্কার হয়নি। বাংলাদেশের শিা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি খুবই আশংকাজনক। দেশে অসংখ্য কেজি স্কুল, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলেও শিা ব্যবস্থার গুণগত মানের কোনো পরিবর্তন হয় নি। তার কারণ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কর্মত্রে ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিার সংস্কারে ব্যর্থতা। এছাড়াও যুগোপযোগী শিানীতি প্রণয়নে ব্যর্থতা, ত্র“টিপূর্ণ পরীা পদ্ধতির প্রচলন, মেধাহীন ও লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি, অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, বৈষম্যমূলক শিাব্যবস্থার প্রচলন, শিােেত্র প্রয়োজনের তুলনায় কম বাজেট প্রণয়ন এবং ক্রমাগত সেশনজটের কারণে আমাদের বর্তমান শিা ব্যবস্থার অত্যন্ত মন্থর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। এর কারণ দীর্ঘদিন থেকেই দেশের শিাব্যবস্থা কোনো শিানীতি দ্বারা পরিচালিত হয় নি। ঐতিহাসিক ভাবে আমরা পেয়েছি একটি শিানীতিহীন শিাব্যবস্থা। ফলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলতার মতো ঘৃর্ণিত বিষয়গুলো আমাদের শিাব্যবস্থার অভ্যন্তরে ক্রমেই দানা বেঁধে শক্তিশালী  হয়ে উঠেছে।
স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ ৪১ বছরে আমাদের দেশের শিাব্যবস্থায় পরীায় পাশের হার বৃদ্ধি পেলেও শিার গুণগত মানের ব্যাপকহারে অবনতি ঘটেছে। অপরিকল্পিত, কর্মবিমুখ শিাব্যবস্থা প্রচলিত থাকার ফলে শিার প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফলে কত সহজেই কম পড়াশুনা করে পরীায় পাশ করা যায় সেদিকেই শিার্থীদের আগ্রহ। সেজন্য মুখস্ত বিদ্যা ও প্রচলিত নোট গাইডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে শিার্থীরা। এ প্রবণতার সুযোগে কোচিং সেন্টারগুলো রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। শিােেত্র ব্যবসায়িক মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শিকরা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাস নেয়ার চেয়ে কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট পড়ানোর প্রতিই বেশি মনোযোগী। অন্যদিকে দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারীভাবে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেখানে টাকার বিনিময়ে ডিগ্রী লাভ করা সম্ভব। শিাঙ্গনে নকল প্রবণতা অব্যাহত থাকার কারণেও শিার সঠিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। শিা ব্যবস্থার প্রতি সরকারের উদাসীনতা, বৈষম্যমূলক শিা ব্যবস্থার প্রচলন, দুর্নীতি, ত্র“টিপূর্ণ পরীা পদ্ধতি প্রভৃতি কারণে অভিভাবকদের মনে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া লেখাপড়া শেষ করে জীবিকার নিশ্চিত ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই। তাই লেখাপড়ার প্রতি শিার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আস্থা হারিয়ে ফেলছে। যা কারো কাছে কাম্য নয়।
সংকটের আবর্তে পতিত আমাদের শিা ব্যবস্থার হালচাল মোটেই সন্তোসজনক নয়। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই শিাব্যবস্থা ধ্বংশের মুখে পতিত হবে। তাই যে সকল কারণে শিার গুনগত মানের অবনতি ঘটেছে সেগুলোকে চিহিৃত করে তার যথাযথ সমাধান করে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দেশের শিা ব্যবস্থাকে সংস্কার করে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। শিােেত্র মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হলে সার্বিকভাবে শিার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে নৈতিক গুনাবলী অর্জন ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে।

লেখক : মোঃ আলাউদ্দিন মজুমদার
সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক : নাঙ্গলকোট লেখক ফোরাম
উদ্যোক্তা: নাঙ্গলকোট ইয়ুথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।
মোবাইল- ০১৯১১৫৩৮০৭৯

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: