সনদের জন্য এসো- রোজগারের ধান্ধায় বেরিয়ে যাও | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সনদের জন্য এসো- রোজগারের ধান্ধায় বেরিয়ে যাও

19 November 2016, 10:56:20

আল্ আমিন শাহেদ

এ মুহুর্তে ঠিক মনে পড়ছে না, কোথায় যেন একটা হাই-স্কুলের রাস্তা-সংলগ্ন দেয়ালে লিখা ছিল- “শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও”।

‘ছিল’ লিখলাম এ কারণে যে- সময়ের পরিক্রমায় হয়তোবা লিখাটা মুছে গেছে, আর নবায়ন করা হয়নি! আর আজকাল এসব ‘অপ্রয়োজনীয়’ নীতিকথা কে-ই বা লিখে? “সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই”- কথাটির মতো এখন সেই শিক্ষকও নেই, সেই শিক্ষার্থীও নেই, নেই সেই অভিভাবকও!!! শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার ফোকাস এখন একই জায়গায়- অর্থ-বিত্ত-বাড়ি-গাড়ি-নারী-প্রভাব-প্রতিপত্তিতে আশেপাশের সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়া, তা যেভাবেই হোক- ছলে-বলে-কূট কৌশলে…! আগে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো সবসময় আগলে রাখতেন। অনেক শিক্ষক নাকি রাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খবর নিতেন- কে কি করছে, কে কি পড়ছে। সেই ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী’ সম্পর্ক এখন ‘উকিল-মক্কেল’ সম্পর্কের মতো হয়ে গেছে! ক্লাস-রুমে শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে শিক্ষকরা এখন আর ‘শান্তি’ পান না, তাদের সব শান্তি এখন নিজ বাসার ‘গাঁজার-আসরে’ – যত মক্কেল তত টাকা!
__________________________________________________________

ইন্টারমিডিয়েটে এক শিক্ষকের কাছে আমিসহ দশ মক্কেল প্রাইভেট পড়তেছিলাম। কিছুদিন পর এক মক্কেল অর্ধেক টাকা দিয়ে প্রাইভেটে আসা বন্ধ করে দিল। একদিন, দুইদিন, তিনদিন, মক্কেলের আর খবর নাই! চতুর্থদিন শিক্ষক মহোদয় বিবৃতি দিলেন মিসিং-মক্কেল যদি আর না আসে তাহলে বাকি অর্ধেক টাকা আমরা নয়-মক্কেল দিতে বাধ্য থাকিব! বিবৃতির পরদিন থেকে মক্কেল হয়ে গেল আটজন- আমার বাকি অর্ধেক টাকা এক মক্কেলের কাছে দিয়ে আমি কেটে পড়লাম। ইন্টারমিডিয়েটে প্রাইভেট পড়ার চ্যাপ্টার সেখানেই ক্লোজ।

অনার্স লাইফে কি মনে করে যেন আরেক বাবার গাঁজার-আসরে গেলাম। গিয়ে দেখি বাবার দরবারে অগনিত ভক্ত – ক্লাসে হয় না দশজন, দরবারে ২০+! ঘুম ঘুম চোখে বাবা এসে দেখলেন এক ভক্ত অনুপস্থিত, গত দুইদিনও নাকি সে আসেনি। এক ভক্ত জানালো সে আর আসবে না! তখন বাবা যে বিবৃতি দিলেন তার সারমর্ম এইরকম- বাবাতো সেই মিসিং-ভক্তকে তার দরবারে ডেকে নেননি, যতদিন সেই ভক্ত এসেছিল ততদিনের টাকা হিসাব করে দিয়ে দিতে হবে- নতুবা সেই ভক্ত জীবনেও কিছু করতে পারবে না, তার ভবিষ্যত অন্ধকার! যথারীতি ওই দিনই আমি চিরদিনের মতো প্রাইভেট পড়ার চ্যাপ্টারে ফুল-স্টপ বসিয়ে দিলাম। পরে আমাদের কাছ থেকে বাবার অভিশাপ তথা ভবিষ্যত-বাণীর কথা শুনে ভয়ে সেই মিসিং-ভক্ত আরেকজনকে দিয়ে তিন-চারদিনের পড়ার মাশুল বাবদ ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিল!

এখন যদি খবর পাই- কেউ একজন আমার সেই উকিল দুইজনকে লাত্থি মেরে নালা কিংবা নর্দমায় ফেলে দিয়েছে তাহলে কি আমার মনে তাদের জন্য কোন সহানুভূতি আসবে, না আসা উচিত??
অসৎ-বিক্রেতার জন্য কি ক্রেতার কোনরকম সহানুভূতি থাকে?

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: