সম্পত্তির লোভেই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয় সিফাতকে | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সম্পত্তির লোভেই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয় সিফাতকে

15 October 2016, 10:00:40

বিশেষ প্রতিবেদন-
নাঙ্গলকোট উপজেলা’র জোড্ডা ইউনিয়নের কৈরাশে গ্রামে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনা ঘটে শুধুমাত্র সম্পত্তিকে কেন্দ্র করেই। সরেজমিনে শাহাদাত হোসেন সিফাতের মা হাছিনা বেগম, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের কৈরাশ গ্রামের মফিজুর রহমানের ৫ছেলের মধ্যে নুরুল আমিন সবার বড়। দীর্ঘ ১৬বছর প্রবাস জীবনের পর গত তিন বছর পূর্বে নুরুল আমিন ওমান থেকে দেশে আসেন। ওমানে থাকাকালীন চার ভাইকে বিভিন্ন বিদেশে পাঠান। দেশে ফিরে এসে নুরুল আমিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। বিদেশে থাকাকালীন নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী হাছিনা বেগম নিজেদের নামে এলাকার বিভিন্ন লোকজন থেকে কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেন। এতে নুরুল আমিনের উপর ভাইদের হিংসাত্বক মনোভাব সৃষ্টি হয়। এতে করে নুরুল আমিনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম তার পিতা মফিজুর রহমানকে ফুসলিয়ে নুরুল আমিনকে বঞ্চিত করে অন্য চার ভাইয়ের নামে পৈত্তিক সম্পত্তি কবলা করে নেন। এর মধ্যে আবার জাহাঙ্গীর আলমের নুরুল আমিনের ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগী চাচাতো ভাই হারুনুর রশিদ এবং ভগ্নিপতি ইউছুফ যড়যন্ত্রমূলকভাবে নুরুল আমিনের বিভিন্ন দাগের ক্রয়কৃত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নেন। এনিয়ে গত প্রায় তিন বছর থেকে জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগীদের নিয়ে এবং তার অপর ভাইদের মাধ্যমে নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী হাছিনা বেগমকে শারিরীক নির্যাতন করে আসছিলেন। কিন্তু নুরুল আমিন এবং হাছিনা বেগম কোন উপায়ন্তর না দেখে জাহাঙ্গীর আলম এবং তার সহযোগীদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত রোজার সময় বর্ষাকালে কৈরাশ পূর্বপাড়ায় এসে নিজস্ব সম্পত্তিতে নতুন বাড়ি করেন। পরে জাহাঙ্গীর আলমের দখলকৃত সম্পত্তি নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠক বসলে নুরুল আমিন কিছু সম্পত্তি জাহাঙ্গীর আলম থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আরো ৭শতাংশ সম্পত্তি জাহাঙ্গীর আলম নিজের দখলে রেখে অন্যজনের নিকট বন্ধক দেন। নুরুল আমিন কোনভাবে জাহাঙ্গীর আলম থেকে এ সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারছিলেন না। গত প্রায় দুই মাস পূর্বে জাহাঙ্গীর আলম নুরুল আমিনের ছেলে শাহাদাত হোসেন সিফাত এবং শাফায়েত হোসেন শাহেদকে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁর দখলকৃত ৭শতাংশ সম্পত্তির আইলে গেলে তাদের মাথা কেটে নেয়ার হুমকি দেন।
শাহাদাত হোসেন সিফাতের মা হাছিনা বেগম বলেন-গত ৯অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় সিফাত কৈরাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শিপনের চা দোকানে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য গিয়ে দু‘বার ঘরে ফিরে আসেন। সে আমার নিকট স্কুলের পরীক্ষার ফি‘র জন্য টাকা দিতে বলেন। পরে সে তার কবুতরকে খাবার দিয়ে তাঁর স্কুল ব্যাগে কাগজ-কলম রেখে সাদা প্যান্ট এবং টিশার্ট পরে খেলা দেখার জন্য আবার বের হয়ে যান। রাত ৩টায় তার বাবা নুরুল আমিন ঘুম থেকে জেগে উঠে বলেন সিফাততো ঘরে আসে নাই। হাছিনা বেগম ধারণা করছেন, সিফাত তার বন্ধু রবিউল, তুহিন এবং পারভেজের ঘরে থাকতে পারে বলে শুয়ে পড়েন। কিন্তু ১০অক্টোবর সোমবার সকাল থেকে বাড়ির আর্শ্বে-পার্শ্বে এবং বন্ধুদের বাড়িতে খুঁজে সিফাতকে খুঁজে পান নাই। পরে গত চারদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খুঁজেও সিফাতকে পান নাই। এর মধ্যে সিফাতের বন্ধুরা ফেজ বুকের মাধ্যমে সিফাতের নিখোঁজের খবর প্রচার করে।
গত ১৩অক্টোবর বৃহষ্পতিবার সকালে কৈরাশ গ্রামের মাহবুবুল হক বিএসসির পুকুরে একটি মানুষের মাথা ভাসতে দেখে বাড়ির মহিলারা চিৎকার করতে থাকেন। এর কিছু দুরে এলাকাবাসী মাষ্টার শফিকুর রহমানের ধান ক্ষেতের আইলে মাথা বিহীন একটি দেহ দেখতে পান। এসময় লাশের মাথা এবং দেহে পচন ধরে। এখবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সিফাতের মামাতো ভাই বিলাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুরে ভাসমান মাথাকে সিফাতের মাথা বলে চিহিৃত করেন এবং ক্ষেতের আইলে পাওয়া মাথাবিহীন দেহও সিফাতের বলে চিহিৃত করেন। এসময় সিফাতের পিঠে এবং হাতে একাধিক চুরিকাঘাতের চিহৃ দেখতে পাওয়া যায় বলে তারা জানান। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ মাথা এবং দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সিফাতের মামাতো ভাই বিলাস সহ এলাকার তার বন্ধুরা বলেন সিফাত খুব ভালো ছেলে ছিল। সে সবার সাথে ভালো ব্যাবহার করতো। নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন-শিফাতের মা হাছিনা বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: