সর্বশেষ সংবাদ
◈ মারছে মানুষে মানুষ!- মোঃ: জহিরুল ইসলাম ◈ নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের নামে ভূয়া আইডি খুলে প্রতারনার ফাঁদ ◈ “কাজী জোড়পুকুরিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ” কমিটি গঠন ◈ ছাত্রদলের সভাপতি পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বাগেরহাটের ছেলে হাফিজুর রহমান ◈ চৌদ্দগ্রাম থানার ওসির নির্দেশে কবরে রেখে যাওয়া বৃদ্ধ মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করলো পুলিশ ◈ নাঙ্গলকোটে ইভটিজিংয়ে প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলা প্রতিবাদে মানববন্ধন ◈ আজ টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন ডোমিঙ্গো ◈ জাতীয় দিবসগুলো শিক্ষকদের ছুটি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে কেন? ◈ কুমিল্লা মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাড়ছে লাশের সারি; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে; পরিচয় মিলেছে সবার ! ◈ কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ৭ যাত্রী নিহত

সম্পাদকের কলাম দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট

১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ৯:৩৬:০৭

 

আজ মহান বিজয় দিবস। এই দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে পূর্ব দিগন্তে উদিত হয় বিজয়ের লাল সূর্য। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবস থাকিলেও বিজয় দিবস থাকে না। স্বভাবতই এই বিজয়ের অনুভূতি অত্যন্ত আনন্দের। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে জড়াইয়া রহিয়াছে অগণিত মানুষের নজিরবিহীন আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম। তাই আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি কোটি কোটি মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষে উজ্জীবিত করিয়া তুলিয়াছিলেন। স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং সেই নারীদের, যাহারা যুদ্ধকালে শিকার হইয়াছেন ভয়াবহ নির্যাতনের। স্মরণ করি ভাষা আন্দোলন হইতে শুরু করিয়া স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যাহারা আত্মাহুতি দিয়াছেন, লড়াই ও সংগ্রাম করিয়াছেন, তাহাদেরও। একই সঙ্গে আমরা সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল সহায়ক শক্তির প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন।

ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি রক্ত দিয়াছে। লড়াই করিয়াছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পশ্চাতেও রহিয়াছে বাঙালিদের বড় অবদান। তাহারাই ছিলেন এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বত্সরের মধ্যেই তাহাদের মোহভঙ্গ হয়। অতঃপর বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ—এইভাবেই আমরা একের পর এক মুক্তির সোপান তৈরি করি। ইহার পর ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ঘোষণাই আমাদের মধ্যে জাগাইয়া তোলে মুক্তির উন্মাদনা। এই লক্ষ্যপূরণে তাহার সহিত সেই সময়কার একদল তরুণ ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতা অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন। স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করিয়া তোলা হয়।

প্রায়শ আমাদের মনে প্রশ্ন উঠিয়া থাকে যে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশ আমাদের পরে স্বাধীনতা অর্জন করিলেও তাহাদের চাইতে আজ আমরা কেন পিছাইয়া আছি? আসলে স্বাধীনতা অর্জনের পর আমাদের অনেক চড়াই-উত্রাইয়ের মধ্য দিয়া যাইতে হইয়াছে। একাত্তরের ঐক্য আমরা নানা কারণে ধরিয়া রাখিতে পারি নাই। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য গণতান্ত্রিক মুক্তি বারংবার বাধাগ্রস্ত হইয়াছে। আবার জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এই দেশকে স্বয়ম্ভর করিয়া তোলার কাজটিও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের জন্যও পার করিতে হইয়াছে কঠিন সময়। তবে সামপ্রতিককালে বাংলাদেশ যে হারে উন্নতি লাভ করিতেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়ক অতিক্রম করিতেছে, তাহা অব্যাহত রাখিতে পারিলে বাংলাদেশ অচিরেই এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হইবে। এইজন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন ধারায় থাকিতে হইবে স্থির ও অবিচল। ধরিয়া রাখিতে হইবে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ সূচকে আমাদের অগ্রযাত্রা। ধরিয়া রাখিতে হইবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিশ্চিত করিতে হইবে সুশাসন। শক্তিশালী করিতে হইবে সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে। এই বত্সরের বিজয় দিবসে ইহাই হউক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: