সহকারী নিবন্ধক হারুনের দাপটে কোনঠাসা জয়েন্ট স্টকের গ্রাহক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সহকারী নিবন্ধক হারুনের দাপটে কোনঠাসা জয়েন্ট স্টকের গ্রাহক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

11 June 2017, 3:13:30

জামাল উদ্দিন স্বপন,কুমিল্লা:
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মসের (যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়) এককালের অফিস সহকারী বর্তমানে সহকারী নিবন্ধক মোঃ হারুন অর রশিদের ক্ষমতার দাপটে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক, কনসালটেন্সি ফার্মের কর্তৃপক্ষসহ জয়েন্ট স্টকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হারুন অর রশিদ ও তার তৈরি সিন্ডিকেটের কারণে গ্রাহক ও কনসালটেন্সি ফার্মগুলোসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা কোন কাজই করতে পারছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকজন উধ্বর্তন কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তার দাপট দেখাচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ অধিদফতরে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হারুন-অর-রশীদ নিবন্ধক, উপ-নিবন্ধক ও অন্যান্য সহকারী নিবন্ধকদের চেয়ে বেশি ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। আর তিনি এসব করার সাহস করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকজন উধ্বর্তন কর্মকর্তার না ব্যবহার করে। জয়েন্ট স্টকের একটি সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, হারুন সহকারী নিবন্ধকের দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে বিভিন্ন কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে থাকেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মানতে প্রায়ই গড়িমসি করেন তিনি। কোনো নির্দেশনা দিলেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা পালনে সময়ক্ষেপণ করেন। তার ক্ষমতার দাপট এতোই যে, অতি সম্প্রতি সহকারী নিবন্ধক সিরাজুল ইসলামকে উপ-নিবন্ধক রনজিত কুমার রায়ের কক্ষে বসে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন ও এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে সিরাজুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করেন। হারুন অফিসের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার মত অনেক আপত্তিকর কাজকর্ম করেছে যা সরকারী-কর্মচারী আচরণ বিধি লংঘন।
সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনা বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কর্ণেল, পুলিশের ডিআইজি, এসপিসহ অনেকেই তার (হারুন অর রশিদের) আত্মীয় আবার কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সবাইকে বলে বেড়ান। যার জন্য হারুন বলেন, তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ-অপবাদ যে যা করুক না কেন, তা কখনো কাজে আসবে না। সত্যিই এর প্রমাণ হিসেবে জানা গেলো গত ৩১ মার্চ ২০১৩ইং তারিখে তৎকালীন নিবন্ধক বরাবরে সুকুমার মৃধা নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দাখিল করেন, কিন্তু তার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
জানা যায়, হারুন অর রশিদ নগদ অর্থ বা ঘুষ ছাড়া অন্য কিছুই বুঝেন না বা জানেন না। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গ্রাহকদের সঙ্গে হারুন এমন বীরদর্পে কথা বলেন যে, তিনিই একমাত্র ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তিনিই যেন এই অফিসের সর্ববৃহত কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগীরা জানান, কোন রকম ফাইলটি হারুন সাহেবের টেবিলে গেলেই শুরু হয় দর কষাকষি। যতক্ষণ তার চাহিদাপূর্ণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফাইল তার টেবিল থেকে পাছ হবে না।
অত্র দফতর সূত্রে জানা গেছে, অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে এমন কি যারা অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছে তাদের কারো সঙ্গে হারুনের কোন সময়ই ভাল সম্পর্ক ছিল না। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করলে এর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। প্রকাশ করা প্রয়োজন, যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উচ্চতর ডিগ্রী লাভের জন্য অধ্যায়ন করতে ইচ্চুক সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমতির প্রয়োজন বটে, বর্তমান সহকারী নিবন্ধক হারুন অর রশিদ এ ক্ষেত্রে কতোটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন তা ভাববার বিষয় মাত্র। যদি তিনি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ব্যতিরেকে এলএলবি সার্টিফিকেট অর্জন করে থাকেন এবং চাকরি ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন সেটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
সুকুমার মৃধার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলডি কাম ক্লাক থাকা অবস্থায় হারুন ৬২ বড়বাগ, মিরপুর থানার পিছনে বাড়ী নং-০১, ৪র্থ তালায় ৩৫০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্লাট ক্রয় করেন, যার মূল্য ১ কোটি টাকা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শাহ আলী টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ৩৩ কাওরান বাজার ঢাকাতে হারুন একটি কনসালটেন্সি ফার্ম খুলে বিভিন্ন কোম্পানীর ফাইল পত্র চুক্তি মোতাবেক ক্লিয়ারেন্স করে দেন। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব দেখিয়ে হারুন চট্টগ্রামে কর্মরত থেকেও ঢাকায় ডেপুটেশনে রয়েছেন। কিন্তু খুলনাতে একদিন অফিস করাকে বাতিল করার জন্য তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে বাধ্য করেন।
আরও উল্লেখ করা হয়, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বৈশাখী মাল্টি মিডিয়া এর শেয়ার বরাদ্দের বিবরণী একজন উপস্থাপনকারী ক্লার্ক হিসেবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই নিজ ক্ষমতা বলে কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বাতিল করে দেয় এবং উক্ত কোম্পানীর শেয়ার হস্তান্তর এর ক্ষেত্রে কনসিডারেশন ভ্যালু  কম দেখিয়ে ভূয়া চালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমান শেয়ার হস্তান্তরে স্ট্যাম্প ফাঁকি দিয়েছে। এতে করে সরকার কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। তাছাড়া হারুন অনৈতিক উপায়ে অর্জন করেছেন মোটা অংকের টাকা।
কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? তার জন্য কি একটি অধিদফতরের নিয়মকানুন উল্টে-পাল্টে যাবে? তার জন্য কি সরকারের বদনাম হবে? আর এটা কি সবার মানতে হবে?
আমাদের কথা তদন্ত সাপেক্ষে জরুরী ভিত্তিতে উক্ত সহকারী নিবন্ধক মোঃ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে আইনি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অত্র অধিদফতরের ভাবমুর্তি উজ্বল করা হউক। এ প্রত্যাশা অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের সবার।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: