সাকিব-রিয়াদে কার্ডিফে রূপকথা | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

সাকিব-রিয়াদে কার্ডিফে রূপকথা

10 June 2017, 7:24:48

আমাদের নাঙ্গলকোট :

জিতলে বেঁচে থাকবে স্বপ্ন, হারলে বিদায়। এমন সমীকরণের ম্যাচে বোলারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন খুলে দিল সম্ভাবনার দ্বার। কিন্তু শুরুর ব্যাটসম্যানরা সেই সম্ভাবনাকে বানিয়ে দিলেন দূরের বাতিঘর। ১২ রানে ৩ আর ৩৩ রানে ৪ উইকেট পতনের পর নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রান তখন রীতিমতো হিমালয়ের চূড়া। সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বীরত্বে সেই চূড়াও টপকে গেছে বাংলাদেশ। সেটাও ৫ উইকেট আর ১৬ বল হাতে রেখে। তাতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগাররা পেয়েছে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ।
সুখস্মৃতি বিজরিত কার্ডিফে শুক্রবার রান তাড়ায় শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। টিম সাউদির ১৬ বলের এক স্পেল ছত্রখান করে দিয়ে যায় সব। কিউই পেসারের আগুনঝড়া বোলিংয়ের পর এই ম্যাচে বাংলাদেশ ফিরে আসবে, ঘোরতর সমর্থকও বোধকরি এমনটা ভাবেননি। সবার ভাবনায় খেলে গেছে একটাই কথা, চরম হতাশা নিয়েই শেষ হচ্ছে টাইগারদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। কিন্তু ক্রিকেট বিধাতা ভেবে রেখেছিলেন ভিন্নকিছু। সাকিব আর রিয়াদ সেই ভিন্ন কিছুই করে দেখালেন।

ওভারের পর ওভার উইকেটে কাটিয়ে দিলেন দুজন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের স্বপ্নটাকে অন্তত একটা দিনের জন্য দীর্ঘ করে দিলেন। আজ ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে লড়বে স্বাগতিক ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া হারলেই নতুন এক ইতিহাস লিখবে বাংলাদেশ, আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলার ইতিহাস। মাশরাফি বিন মুর্তজার দল ছাপিয়ে যাবে ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সাফল্যকে।
দলের ইতিহাস হওয়া না হওয়া এখন অন্যের হাতে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের হাতেই নতুন ইতিহাস লিখেছেন সাকিব আর রিয়াদ। তাদের দৌলতেই ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে প্রথমবার এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি দেখল বাংলাদেশ। তাদের দৌলতেই ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো ২০০ ছাড়ানো (২২৪) জুটি দেখা হলো। ২০১৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৮ রান তুলেছিলেন তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম। কার্ডিফে সাকিব-রিয়াদ বীরত্বে সেটা পেছনে পড়ে গেল শুক্রবার।
অনেকদিন ধরেই রান ছিল না ব্যাটে। সাকিবের ফর্ম নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। সেই প্রশ্নের জবাব বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার দিলেন রাজসিকভাবে। ৯৯ রান থেকে অ্যাডাম মিলনেকে ছক্কা হাঁকিয়ে যেমন রাজসিকভাবে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করলেন। শেষ পর্যন্ত এই বাঁহাতির ১১৪ রানের (১১৫ বলে ১১টি চার আর ১টি ছক্কায়) ইনিংসটা যখন থামল, জয় থেকে তখন মাত্র ৯টি রান দূরে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে অনায়াসেই বাকি পথটা পাড়ি দিয়েছেন রিয়াদ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে রিয়াদ বরাবরই মেঘে ঢাকা তারা। তার এদিনের ইনিংসটাও সাকিবের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকবে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট পুরাণে তার হার না মানা ১০২ রানের ইনিংসটি হয়ে থাকবে অনন্য এক উপাখ্যান। ওই ইনিংসে আরও একটা সত্য প্রমাণ করেছেন রিয়াদ। প্রমাণ করেছেন, তিনি বড় মঞ্চের পারফরমার। ২০১৫ বিশ্বকাপে জোড়া সেঞ্চুরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডকে তাক লাগিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিটা পেলেন আরেকটি বৈশ্বিক আসরে। ৮টি চার আর ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটা টাইগারদের নিয়ে গেছে আরেকটি সম্ভাবনার দ্বারে।
অথচ ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। আগের দুই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তামিম ইকবাল ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই এলবিডবিস্নও। ট্রেন্ট বোল্ডকে টানা দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সাবি্বর রহমানের (৮) ভিন্নকিছুর আভাসও মিলিয়ে গেল সাউদির দ্বিতীয় ওভারে। দুই ম্যাচ পর টপঅর্ডারে ফেরা এই ব্যাটসম্যান ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে লুক রনকিকে। এরপর এলবিডবিস্নওর ফাঁদে সৌম্য সরকার (৩)। টানা তিন ওভারেই উইকেট পাওয়া সাউদি আর নিউজিল্যান্ডকে তখন থামায় কে?
উইকেট পতনের স্রোতে বাঁধ দেয়ার চেষ্টায় থাকা মুশফিকুর রহিম (৩৪ বলে ১৪ রান) দাঁতে দাঁত চেপে কিছুটা সময় পড়ে রইলেন ক্রিজে। কিন্তু অ্যাডাম মিলনের এক্সপ্রেস গতির বলটি ভেঙে দিল এই ডানহাতির প্রতিরোধ। এরপর অবশ্য দাঁতে দাঁত চেপে সাকিব আল হাসান আর রিয়াদের প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে মিলনে-সাউদিসহ নিউজিল্যান্ডের সব বোলারকে। দুজন মিলেই জয়ের বন্দরে বাংলাদেশকে পেঁৗছে দিয়েছিলেন প্রায়। সাকিব অধৈর্য হয়ে পড়ায় সেটা হয়নি। মিলনেকে চার মেরে তাই আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন মোসাদ্দেক (৭*)।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে দুর্দান্ত শুরু করে নিউজিল্যান্ড। দলে ফেরা তাসকিন আহমেদ লুক রনকিকে (১৬) ফেরালেও টাইগারদের স্বস্তি দেয়নি মার্টিন গাপটিল আর উইলিয়ামসনের ব্যাট। ৩৩ রান করা গাপটিল ম্যাচে রুবেল হোসেনের একমাত্র শিকার হয়ে ফিরে গেলেও কিউই দলপতি রীতিমতো নাচিয়ে ছেড়েছেন বোলারদের। অভিজ্ঞ রস টেলরের সঙ্গে উইলিয়ামসনের ৮৩ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি, বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখায় কিউইদের। তাই টাইগার বোলারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায়নি।
৫৭ রান করা উইলিয়ামসন রানআউট হয়ে ফেরার পর নিল ব্রুমকে (৩৬) নিয়ে ৪৯ রানের জুটিতে দলকে ঠিকপথেই রেখেছিলেন টেলর। এই ডানহাতির ৬৩ রানের ইনিংসে ৩৯তম ওভারেই ২০০ রানের গ-ি পেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে তিনশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাতেই ছিল দলটি। তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় একাদশে আসা এই অলরাউন্ডার তিন ওভার হাত ঘুরিয়েই তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
টেলরকে উইকেটের পেছনে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে বোলিংয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের শুরুতে ছিলেন তাসকিন। এর পরই মোসাদ্দেকের ভেলকি শুরু। সাদামাটা এক ডেলিভারিতে ব্রুমকে তামিমের ক্যাচ বানিয়েছেন, মাঝে এক বল বিরতি দিয়ে কোরি অ্যান্ডারসনকে ফেলেছেন লেগবিফোরের ফাঁদে। ম্যাচে নিজের শেষ বলে জিমি নিশামকে বোকা বানালেন। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা কিউই অলরাউন্ডার ব্যাটে বলই নিতে পারলেন না। তিনি ক্রিজে ফেরার আগেই স্ট্যাম্প উপড়ে দিয়েছেন মুশফিক।
ক্ষণিকের ঝলকে নিউজিল্যান্ডের লোয়ার-মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেয়া মোসাদ্দেকের বোলিং ফিগারটা দারুণ_ ৩-০-১৩-৩। এই প্রথম ওয়ানডেতে তিন উইকেট পেলেন তিনি। উইকেট দখলের হিসাবে ম্যাচটা ভালো যায়নি মাশরাফি আর সাকিবের। তবে দুজনের বোলিং ছিল বেশ নিয়ন্ত্রিত। ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়েছেন উইকেটশূন্য মাশরাফি, সাকিব দিয়েছেন ৫২। শুরুতে রান বিলানো মুস্তাফিজ শেষদিকে ফিরে পেয়েছেন নিজেকে, ৯ ওভারে ৫২ রান খরচ করার পথে বোল্ড করেছেন অ্যাডাম মিলনেকে।
ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেছে বাংলাদেশ। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত শেষদিকে সেরা বোলিং প্রদর্শনীই ছিল এটা। মাত্র ৬২ রান দিয়েছে টাইগার বোলাররা, তুলে নিয়েছে ৪ উইকেট।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: