সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির গোপন মন্ত্র-গোলাম মাওলা রনি | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির গোপন মন্ত্র-গোলাম মাওলা রনি

9 October 2016, 9:41:29

আপনি যদি সুখ পেতে চান, তা হলে প্রথমেই আপনাকে বুঝে নিতে হবে- সুখ পাওয়া, সুখ লাভ করা ও সুখী হওয়ার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। সুখ সাধারণত দুই প্রকার। যথাÑ জাগ্রত সুখ ও অবস্তুগত সুখ। বস্তুগত সুখকে আধুনিক ভোগবাদী সমাজ সাধারণত বিত্ত-বিলাস ও আরাম-আয়েশ নামে সংজ্ঞায়িত করে থাকে। অন্যদিকে অবস্তুগত সুখকে দুই ভাগে বিভক্ত করে প-িত ব্যক্তিরা একটির নাম দিয়েছেন ইন্দ্রিয়গত সুখ এবং অন্যটিকে বলেছেন অতীন্দ্রিয় সুখ। শান্তি ও সমৃদ্ধির বিষয়টি সুখ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুখানুভূতি ক্লান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এদিক থেকে শান্তির ব্যাপ্তি অনেক বড় ও ব্যাপক। শান্তির সঙ্গে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং কখনো-সখনো পুরো বিশ্ব জড়িত। সুখ-শান্তি উভয়েই বর্তমানকালের বিষয়। অন্যদিকে সমৃদ্ধির ব্যাপ্তি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে।

আপনি যদি সুখী হতে চান, তাহলে সবার আগে আপনার প্রয়োজন পড়বে চমৎকার সুস্থ-সবল ও সতেজ একটি দেহ। এরপর প্রয়োজন পড়বে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিজ্ঞানসমৃদ্ধ একটি মস্তিষ্ক। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটির নাম মন। সুন্দর মন ছাড়া পৃথিবীর কোনো সুখানুভূতি অনুভব করা সম্ভব নয়। নোংরা মন নিয়ে কোনো মানুষ এ যাবৎকালে সুখরাজ্যে যেমন প্রবেশ করতে পারেনি, তেমনি অনাগত দিনেও পারবে না। সুখপ্রাপ্তির উল্লেখিত তিনটি মৌলিক উপকরণের পর আপনার প্রয়োজন পড়বে পরিশ্রম, সাহস ও সুযোগ। এ তিনটি জিনিসের সমন্বয় ছাড়া কোনো সুখ অর্জন সম্ভব নয়। অর্জিত সুখ উপভোগ করার পদ্ধতি যদি আপনার জানা না থাকে, তা হলে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হতে বাধ্য।

আমাদের দেশের কবি, সাহিত্যিক, ধর্মীয় গুরু ও প-িত ব্যক্তিরা সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধির বাহারি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কেউ চাঁদের আলো, নদীর ঢেউ, কোকিলের কুহুকুহু রব এবং প্রেমিকার গালের টোল পড়ার মধ্যে দুনিয়ার তাবৎ সুখ খুঁজে বেড়ান। একদল বাস্তববাদী মানুষ অতশত জটিল সমীকরণে না গিয়ে পোলাও, কোর্মা, কালিয়া, কোপ্তা ইত্যাদি ভোজন ও নিদ্রার মধ্যে সুখ খুঁজে বেড়ান। কেউ বা আবার পদ-পদবি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়ি-গাড়ি ও সোনা-দানা অর্জনকে জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ বলে বিবেচনা করেন। এ ব্যাপারে ইতিহাসের জনক হিরোডোটাস তার বিশ্ববিখ্যাত হিস্টিরিয়া বইয়ে চমৎকার বর্ণনা করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল খ্রিস্ট্রের জন্মের প্রায় পৌনে ৬০০ বছর আগে। পুরো ইউরোপ তখন ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত। বৃহত্তর অর্থে কোনো সাম্রাজ্য তখনো গড়ে ওঠেনি। রাজ্যগুলোর মধ্যে সবদিক থেকেই লিবিয়া ছিল খ্যাতির শীর্ষে। লিবিয়ার রাজা ক্রেসাস ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনপ্রিয় রাজা। তার বংশ দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া শাসন করেছিল। ফলে ধন-সম্পদ, মান-সম্মান ও আভিজাত্যের বিচারে তার সমপর্যায়ের কোনো রাজা ইউরোপ তো নয়ই, তামাম দুনিয়ায়ও ছিল না। এ কারণে ক্রেসাস নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতেন।

তৎকালীন দুনিয়ায় পর্যটকদের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। তাদের জ্ঞানী ও প-িত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কোনো শহরে বিদেশি কোনো পর্যটকের আগমন ঘটলে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ধরত এবং তার কাছ থেকে দেশ-বিদেশের নানা রোমাঞ্চকর কাহিনি শুনে নিজেদের তৃপ্ত করত। পর্যটকের সুনাম যদি বেশি হতো, তাহলে রাজদরবারেও তার ডাক পড়ত। ক্রেসাসের রাজত্বের স্বর্ণ সময়ে সোলন নামে বিশ্ববিখ্যাত এক পর্যটক লিবিয়ার রাজধানীতে ভ্রমণে এলেন। ক্রেসাসের প্রধানমন্ত্রী একদিন কথা প্রসঙ্গে রাজাকে উদ্দেশ করে বললেনÑ আমার মহামান্য শাহেন শাহ, আপনি কি জানেন যে, বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে জ্ঞানী এবং মজদুর পর্যটক সোলন এখন আপনার রাজধানীতে অবস্থান করছেন। আপনি যদি চান, তাহলে তাকে রাজপ্রাসাদে নিমন্ত্রণ করা যেতে পারে। ক্রেসাস সবকিছু শোনার পর সানন্দে রাজি হলেন এবং সম্মানিত পর্যটককে একটি নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করার জন্য তার প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন।

ক্রেসাসের রাজপ্রাসাদে মহাজ্ঞানী সোলন বেড়াতে এলেন। স্বয়ং রাজা তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। তার আমন্ত্রিত মেহমানকে নিয়ে রাজা তার সমগ্র প্রাসাদে বহুক্ষণ ধরে ঘুরলেন। তারা হাতিশাল, ঘোড়াশাল, টাঁকশাল থেকে শুরু করে রাজ্যভা-ার পরিদর্শন করলেন। এরপর অন্তঃপুরের সুন্দরী দামি-বাঁদি, রাজকুমারী ও রানিদের সঙ্গে সোলনকে পরিচয় করে দেওয়া হলো। রাজকীয় সংগ্রহশালায় নিয়ে পরিবারের অতীত ঐতিহ্য, বীরত্ব ও যুদ্ধজয়ের নিদর্শনগুলো দেখানো হলো। সবার শেষে সোলনকে নিয়ে রাজা ক্রেসাস রাজকীয় ভোজে অংশগ্রহণ করলেন। শত পদের বাহারি মুখরোচক খাবার খেতে খেতে সোলনকে রাজা ক্রেসাস বললেনÑ মহাত্মন, আপনি তো পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। বহু রাজা, রাজ্য ও রাজধানী দেখেছেন। অসংখ্য শ্রেণি-পেশার মানুষকে চেনা-জানার সুযোগও পেয়েছেন। আপনার কাছে আমার প্রশ্নÑ আপনার জানা মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটি কে?

সোলনের কাছে রাজা ক্রেসাস প্রশ্ন করার সময় মনে মনে ধরেই নিলেন যে, দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে সোলন অবশ্যই তার নামটি বলবেন। রাজার প্রশ্ন শুনে সোলন একটুও দ্বিধা করলেন না। ঝটপট করে একজনের নাম বলে দিলেন। আশাহত রাজা দ্বিতীয় সুখী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে দ্বিতীয় ব্যক্তিটি কে? সোলন নির্বিকারচিত্তে অন্য একজনের নাম বললেন। রাজা মনে ক্ষোভ, ক্রোধ ও জিদ আড়াল করে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, আপনার দৃষ্টিতে আমি কি পৃথিবীতে তিন নম্বর সুখী ব্যক্তি, নাকি তা হওয়ার যোগ্যতাটুকুও আমার নেই? সোলন পূর্ববত নির্বিকারচিত্তে উত্তর করলেন, মহামান্য রাজন! আমার মতে, আপনি তৃতীয় সুখী ব্যক্তি নন। তৃতীয় সুখী ব্যক্তি হিসেবে তিনি আরেকজনের নাম বললেন।

সোলনের কথা শুনে ক্রেসাসের মেজাজ বিগড়ে গেল। আমন্ত্রিত মেহমানের সম্মানার্থে তিনি বহু কষ্টে রাগ দমন করতে করতে বললেনÑ আচ্ছা জনাব, আমার সুন্দর স্বাস্থ্য, রাশি রাশি ধনভা-ার, শত শত সুন্দরী ক্রীতদাসী, পরমা সুন্দরী একাধিক স্ত্রী, শত বছরের বংশীয় ঐতিহ্য, সুযোগ্য শাহজাদা এবং বিশাল রাজ্য, অনুগত প্রজা ও প্রতিবেশীর সঙ্গে চমৎকার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখে আমাকে কি আপনার খুব বেশি অসুখী মনে হচ্ছে? সোলন মুচকি হেসে জবাবে বললেনÑ মহামান্য শাহেন শাহ, আমার জীবনের নির্মম ও নিষ্ঠুর কিছু অভিজ্ঞতার আলোকে সুখী মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছি। আমি যাদের নাম বলেছি, তারা কেউই আপনার মতো ধনশালী ও মহাক্ষমতাধর মহারাজা নন। তারা সবাই সাধারণ মানুষ ছিল এবং বর্তমানে সবাই মৃত। আমার মতেÑ টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ, স্ত্রী-পরিজন ও ক্ষমতা সুখের মাপকাঠি অথবা চাবিকাঠি নয়। সুখী হওয়ার জন্য হৃদয়স্পর্শ মহৎকর্ম ও পাহাড়সম একটি সুখী মন দরকার। অন্যদিকে জীবিত অবস্থায় কাউকেই সুখী বলা যায় না আবার দুঃখীও বলা যাবে না। মৃত্যুর পরই ব্যক্তির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির মাত্রা নির্ধারিত হয়। কারণ জীবন সায়াহ্নের একটি ঘটনা যেমন তার সারা জীবনের সুখকে দুঃখে পরিণত করে দিতে পারে, তেমনি যারা জীবনের দুঃখকে পরম সুখানুভূতিতে পরিণত করতে পারে। সোলনের কথা শোনার পর রাজা ক্রেসাস কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে তার কী পরিণতি হয়েছিল, এ ব্যাপারে মহামতি হিরোডোটাস তার বইয়ে লম্বা কাহিনি বর্ণনা করেছেন। অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষণীয় ওই কাহিনি বর্ণনা করতে গেলে নিবন্ধের ব্যাপ্তি বিশাল হয়ে যাবে। কাজেই সেদিকে না গিয়ে আমরা শিরোনাম আলোচনা শুরু করি। সারা পৃথিবীর মানুষ সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য পাগলের মতো ছুটছে। কিন্তু শব্দ তিনটির অর্থ না বোঝার কারণে এবং সেগুলোর লাভের সঠিক পদ্ধতি না জানায় মানুষ প্রায়ই ভুল করে বসে। ফলে সুখের পরিবর্তে অসুখ, শান্তির পরিবর্তে অশান্তি ও সমৃদ্ধির পরিবর্তে পতনের কবলে পড়ে মানুষ তার ইহলীলা সাঙ্গ করে।

এর আগে সুখ সম্পর্কে সামান্য পরিসরে আলোচনা করেছি। সব ধরনের সুখ ভোগের জন্য নিজের দেহ, মন, মস্তিষ্ক ও পরিবেশকে আপনার অনুকূল করে নিতে হবে অথবা অনুকূল থাকতে হবে। সুখ নামক জিনিসটি অর্জন করার জন্য আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেকে যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃপণতা ও অপব্যয় পরিহার করতে হবে। কোনো কিছুতে বাড়াবাড়ি যেমন করা যাবে না, তেমনি কোনো বিষয় ভুলেও অবহেলা প্রদর্শন করা যাবে না। তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অলসতা প্রদর্শন, অন্যকে অপমান করা, কথায় কথায় খোঁটা দেওয়ার প্রবণতা এবং মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপকার ভুলে যাওয়া বা অস্বীকার করার মতো অমানবিক রোগ থাকলে কেউ কোনোদিন সুখী হতে পারবে না। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নিজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, নিজের যোগ্যতা ও যোগ্যতা অনুসারে নিজের প্রাপ্তি সম্পর্কে সচেতনতা মানুষের সুখানুভূতি বাড়িয়ে দেয়। মানুষের রুচিবোধ, পরিমিতবোধ ও মৃত্যুচিন্তা মানুষকে স্থির রাখতে সাহায্য করে এবং স্থিরতা ছাড়া মানুষ সুখী হতে পারে না।

মানুষের সুখের পথের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো অকারণে ভয় পেয়ে যাওয়া। আবার কোনো কিছুতে ভয় না পাওয়া অথবা দুঃসাহস ও মানুষের সুখ কেড়ে নিতে পারে। দাম্ভিক মন, অহংবোধ, সন্দেহ, অবিশ্বাস, মিথ্যাচার, মন্দচিন্তা, বাঁকা মন, নোংরা মন ও বাজে আচরণ সুখ লাভের পথে প্রধানতম বাধা বলে বিবেচিত হয়। অন্যের অমঙ্গল কামনা, সব সময় নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করা, অবাধ্য হওয়া নিজেকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্যে কোনো সুখ নেই। ইন্দ্রিয়জাত সুখ পাওয়ার জন্য নিজের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সজীবতা, স্পর্শকাতরতা ও সুস্থতা একান্ত জরুরি। অন্যদিকে অতীন্দ্রিয় সুখ লাভের জন্য ধার্মিক হওয়া, মহৎ কাজ করা ও মহৎ চিন্তায় ব্যস্ত থাকা একান্ত আবশ্যক।

এবার শান্তি ও সমৃদ্ধি সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করে আজকের নিবন্ধের ইতি টানব। শান্তি লাভের জন্য মানুষকে গণতান্ত্রিক মন-মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণার অধিকারী হতে হবে। সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র, দেশ, জাতি, সম্প্রদায় এবং বিশ্ব মানবতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, মানবতার প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া, ভালো কাজে একাত্মতা প্রকাশ, মন্দ কাজের বিরোধিতা না করলে শান্তি লাভ অসম্ভব। শান্তি শব্দটির ব্যাপ্তি বহুমাত্রিক। এটি কেবল ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’Ñ এমন তার বাক্য বিশ্বাস এবং ওই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার জন্য অব্যাহত চেষ্টা-তদবিরের মধ্যেই প্রকৃত শান্তি নিহিত। সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য মানুষকে অবশ্যই পরিকল্পনামাফিক কাজ এবং এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। জীবনের অঙ্ক জানা না থাকলে কেউ সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না। আবার অঙ্কে ভুল করলে সমৃদ্ধির ফল হয় উল্টো। অঙ্কে যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ রয়েছে, তেমনি জীবন চলার পথ এবং জীবনের হিসাবেও রয়েছে অঙ্কের নানা সমীকরণ। যারা এসব জটিল অঙ্ক খুব ভালো করে কষতে এবং ফলটি নিজের অনুকূলে রাখতে পারেন, তাদের জীবনের সমৃদ্ধি নিজেদের জীবন ছাপিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে ফুলে-ফলে শোভিত করে তোলে। সমৃদ্ধি শব্দের প্রকৃত অর্থ সঞ্চয়। জীবনের প্রয়োজন মিটিয়ে যা কিছু অবশিষ্ট থাকে, সেটিকেই প্রকৃত সমৃদ্ধি বলা হয়ে থাকে। জীবনের যেসব সঞ্চয় মানুষকে কলঙ্কিত করে, মানুষকে অসুখী বানায় অথবা তাকে ধিক্কৃত করে তোলে, সেসব বিষয়কে সমৃদ্ধি বলে না। সমৃদ্ধি বলতে মানবজীবনের সুখ ও শান্তির সমন্বয়ে যে সুনাম অর্জিত হয়Ñ যা যুগে যুগে অথবা শতাব্দী ধরে জাগরূক থাকে, তাকেই বোঝানো হয়।

লেখক : কলামনিস্ট

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: