সুন্দরবন ধ্বংস, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পিস টিভি বন্ধ, সাম্প্রতিক জঙ্গি সন্ত্রাসী হামলা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সুন্দরবন ধ্বংস, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পিস টিভি বন্ধ, সাম্প্রতিক জঙ্গি সন্ত্রাসী হামলা

26 July 2016, 12:30:23


মাহমুদ ইউসুফ

সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাণ। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে ইহা জড়িত। ১৭ কোটি মানুষের জীবন মৃত্যুর সাথে সুন্দরবন সম্পর্কিত। সুন্দরবন না থাকলে ২০০৭ সালে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় সিডরে দক্ষিণ বাংলার কোন মানুষ ও জীবজানেয়ার রেহাই পেতনা মৃতুর কবল থেকে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি মানুষই এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। কেবল বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জনগণই নয় দেশের সকল মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট। তাই সুন্দরবনকে ধ্বংস করে, বিলুপ্ত করে কোনো অবকাঠামো বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাম্য নয়। পরিবেশবাদীদের প্রবল আপত্তির মুখে তারপরও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু হয়েছে। 
তথাকথিত বন্ধু ভারতের ‘আশির্বাদে’ সোনালি আঁশ পাটশিল্প শেষ, ইস্পাত শিল্প শেষ, কাগজশিল্প শেষ, চিনিশিল্প শেষ। জুতাশিল্প, লবণ শিল্প যায় যায়, কৃষিতে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মইন ফখরুদ্দিন এর কেয়ারটেকার আমলে লাখ লাখ পোল্ট্রিশিল্পের মুরগি পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ভারতের চক্রান্তে। বার্ডফ্লুর নাম করে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। আসলে পোল্ট্রিশিল্পকে ধ্বংস করার জন্যই তখন বার্ড ফ্লুর জিগির তোলা হয়। ওই সময়ে দেখা যেত পোল্ট্রিফার্ম পুড়িয়ে পরের দিন ভারত থেকে আমদানি করা হতো বয়লার ও লেয়ার মুরগি, বাচ্চা ও ডিম। সেই ধারা এখনও অব্যাহত। বাংলাদেশের কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সর্বশান্ত। অন্যদিকে ভারত থেকে চাল আমদানি করে সরকারি গোডাউন পূর্ণ। বৃদ্ধ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাসজিদে বরাদ্দ, মন্দিরে বরাদ্দ, গরিবদের দান, বন্যার্তদের ত্রান দেয়া হয় এই ভারতীয় চাল। এসব চালের অধিকাংশই দুর্গন্ধযুক্ত, পঁচা এবং খাবরের অযোগ্য। অথচ আমার দেশের কৃষকরা ধান চাল বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছে না। উৎপাদন খরচ মনপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা, আর বাজারমূল্য মনপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা। বিগত আট বছর ধরে কৃষকরা সর্বহারা। বাংলাদেশের চিনি কারখানায় অবিক্রিত, অথচ ভারতীয় চিনিতে বাজার সয়লাব। ভারতীয় কৃষিশিল্পকে সমৃদ্ধ করাই আমাদের জাতীয় কর্তব্য!
সাম্প্রতিক সময়ে জুতার বাজার চলে গেছে চীন ভারতের দখলে। একে একে বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশি জুতার কারখানা। অথচ দেদারছে আসে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ও অন্যান্য বিদেশি জুতা। বাংলাদেশি শিল্পের বিকাশে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই! শুধু বিদেশি পণ্যের বাজারজাত করতে হবে। এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ইস্পাত শিল্প ছিলো চট্টগ্রাম ইস্পাত শিল্প। ভারতীয় হুকুমে সেটা বন্ধ করে দেয়া হয় দুই দশক পূর্বে। একই সময় বন্ধ করে দেয়া হয় খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল। স্বাধীনতার পরপরই পাটের আন্তর্জাতিক বাজার তুলে দেয়া হয় ভারতের হাতে। মার খায় বাংলাদেশের সোনালী আঁশ। সুপ্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশ লবণশিল্পে সমৃদ্ধ। হাল আমলে এই ঐতিহ্য নষ্ট করে ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে লবণ। রাতারাতি ছয় টাকার লবণ কিনতে হয় এখন ৩৫ টাকায়।
এভাবে দেশের উৎপাদনমুখী সবকিছুকেই ভারতে নির্দেশে বিকল করে দেয়া হচ্ছে। কৃষি, শিল্পের পাশাপাশি শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতিও ভারতের দখলে। ট্রানজিটের নামে রাস্তাঘাটও তাদের দখলে। আমরা এখন ভারতের উন্নয়ন অগ্রগতির অংশীদার। টাকা পয়সা আয় করি এদেশে জমা করি, পাচার করি ওদেশে। ভারতকে সমৃদ্ধ করাই আমাদের মৌলিক ও প্রধান দায়িত্ব!
সাম্প্রতিক সময়ে দেশ মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তনু হত্যা, এসপির স্ত্রী হত্যা, গুলশান ট্রাজেডি, শোলকিয়ায় জঙ্গি হামলা, ইমাম পুরোহিত হত্যা ইত্যাদি নানা ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই দেশে! হুমকির মুখে জননিরাপত্তা। জাতীয় দুর্যোগে আক্রান্ত দেশ। এই ক্রান্তিকালীন সময়ে ভারতীয় কোম্পানি বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে। এ কোম্পানি ভারতেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কারখানা নির্মাণ করতে পারেনি ভারতীয় জনগণের প্রতিরোধে। অথচ বাংলাদেশে সুন্দরবনের নাকের ডগায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাচ্ছে। আসলে মূল লক্ষ্য সুন্দরবন ধ্বংস করে বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মহাবিপদের মুখে ঠেলে দেয়া। 
সারা দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, খুনাখুনি, রক্তারক্তি, হত্যাকা-ের মতো মহাজাতীয় মানব সৃষ্ট বিপদের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজ শুরু করে ভারত। তাহলে আমাদের প্রশ্ন জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার কর্মপ্রক্রিয়া শুরু হলো। জনগণের চোখকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্যই সারা দেশে জঙ্গি হামলা, ইমাম-পুরোহিত হত্যা। একই সাথে গণগ্রেফতার, গুম, খুন, তারেক রহমান ইস্যু ইত্যাদি ঘটানো হয়েছে! রোম পুড়ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে। আজ বাংলাদেশে গুলশান জ¦লছে, আর রামরা বাগেরহাটে বাঁশি বাজাচ্ছে।
তাই আমরা মনে করি সুন্দরবন ধ্বংসের লক্ষ্যে রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ইসলাম প্রচারের দাওয়া চ্যানেল পিস টিভি বন্ধ করার জন্যই ভারতীয় এবং এদেশিয় তাবেদার বাম-রাম-ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা জঙ্গি হামলা ঘটিয়েছে। 
প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মাইলফলক। এগুলো প্রতিষ্ঠা হওয়ায় ভারতে শিক্ষার্থী গমন হ্রাস পায়। এটা তো তাদের জন্য সমস্যাই। এজন্যই ভারতের এখন প্রধান টার্গেট বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়। তাদের এদেশিয় এজেন্টরা নর্থ সাউথসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে লেগেছে। জঙ্গি তৎপরতায়র অযুহাতে সেখানে অস্থিরতা, তদন্তের নামে কর্তৃপক্ষকে হেয়, অপদস্ত করা ভারতীয় সা¤্রাজ্যবাদীদের স্থায়ী ষড়যন্ত্রেরই অংশ। 
শেষ করছি প্রখ্যাত সাংবাদিক, কবি, জাতীয় বুদ্ধিজীবী আবদুল হাই শিকদারের বয়ান দিয়ে। ২০০১ সালে তিনি বলেছেন, এ কথা সর্বজনবিদিত, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতির পথে এখন একমাত্র প্রতিবন্ধক ভারত। মুখে গান্ধি, রামকৃষ্ণের অহিংস বাণী আওড়ায় বটে, আদতে ভারত হলো বঙ্কিমচন্দ্রের মতো শিক্ষিত কিন্তু নিচু প্রকৃতির সাম্প্রদায়িক এবং শিবাজির মতো কাপুরুষ। মেষের চামড়া গায়ে জড়ানো বলেই হয়তো দৃষ্টি বিভ্রম হয়। আদতে সে হলো এক হিং¯্র নেকড়ে, যার চানক্যবাদী দর্শনের নখগুলো আমরা হঠাৎ হঠাৎ দেখে থাকি; দাঁতগুলো দেখিনা।
ভারত হায়দারাবাদ দখল করে নিয়েছে সেই কবে। স্বাধীন সিকিম তো এখন কেবল স্মৃতি। ভুটান মানে ভাতের ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটা এক অসহায় মানচিত্র। নেপালের স্বাধীনতার প্রতীক রাজবংশকে সবংশে ধ্বংস করেছে ভারত। শ্রিলঙ্কার মতো চমৎকার দেশটি ভারতের কারণেই ভূলুণ্ঠিত, ক্লান্ত। এ ভারতের জন্যই ভূস্বর্গ কাশ্মির আজ পরিণত হয়েছে কসাইখানায়। লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী মানুষের শহিদি রক্তে ঝিলামের পানি আজ লালে লাল। শ্রিনগরের ঘরে ঘরে ধর্ষিত ক্ষুধার্ত মানবতার হাহাকার। উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ে পাহাড়ে যে বেদনা মোচড় খেয়ে ফিরছে, সেও তো ভারতের নৃশংসতার কারণেই। আর বাংলাদেশকে জন্মের ক্ষণ থেকেই ধরে নিয়েছিলো লুণ্ঠনের অবাধ মৃগয়া। হাজার হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র, সম্পদ লুণ্ঠনের ক্রিয়ার ভেতর দিয়ে একটু একটু করে ভারত কেড়ে নিয়েছে বেরুবাড়ি, দেয়নি তিনবিঘা করিডোর। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে দেশের এক তৃতীয়াংশ। গায়ের জোরে ছিনতাই করেছে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ। দেশের এক দশমাংশ এলাকাকে ঘাতক শান্তিবাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে এদেশের মানুষজনকে হত্যা করে কব্জা করার জন্যে। ——-বঙ্গসেনাদের লালন ভূমি ভারত। সীামান্তে বারবার হানা দিয়ে ভারতীয় বিএসএফ হত্যা করে ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি মানুষকে। ধর্ষন করেছে ৬ হাজার মা-বোনকে (১৯৭২-২০০)। বাবরি মাসজিদ ভাঙার পর বিশ^ব্যাপী ঘৃণা থেকে নিজেদের সাম্প্রদায়িক চামড়া বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশকে অপমান করার জন্য জন্ম দেয় লজ্জা ও তসলিমা নাসরিনকে। 
বাংলাদেশের চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে অশান্ত করে প্রতিবছর অসংখ্য রোগী ও ৫০ হাজার ছাত্রের জন্য খুলে দিয়েছে সকল দুয়ার। মহান মুক্তিযুদ্ধের নামে পক্ষ-বিপক্ষ করে জাতিকে বিভক্ত করেছে দুভাগে। বুদ্ধিবৃত্তিক জগত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজস্ব উপনিবেশ। নাটক, সঙ্গিত, চলচ্চিত্র সর্বত্রই কায়েম করেছে তাদের আধিপত্য। তথ্য প্রযুক্তি জগতকে ছেয়ে ফেলেছে ভারতীয় মেঘ। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের আকাশে শাসন করেছে ভারত। কাঁচাবাজার থেকে সুপার মার্কেট, বুদ্ধিজীবী থেকে পতিতাজীবী সর্বত্র এখন ভারতীয় প্রতাপ। নানা কায়দায়, নানা পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে তাদের মুখাপেক্ষী করার জন্য চলছে হাজার কোশেশ। অনুগত গণমাধ্যম দিয়ে চলছে এ জাতির ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিধন প্রতিদিন। (সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী: র-এর ভয়াল থাবা, জ্ঞান বিতরণী, ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, প্রথম প্রকাশ সেপ্টেম্বর ২০০১, পৃ ৫-৬)

 

edition সম্পাদীয়
 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x