সেদিনের উপহার-ইরফান তানভীর | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সেদিনের উপহার-ইরফান তানভীর

26 November 2019, 10:31:58

নাসিরাবাদের সরদার কলোনির গলিটা থেকে বেরোলাম মাত্র। চার বছর ধরে এখানকার একটা ব্যাচেলর বাসায় থাকি। আকাশটা বড্ড নীল হয়ে আছে, শুনেছি বেদনার রং হচ্ছে নীল, আকাশের এমন অকারণে নীল হওয়ার কারণ কী?

কীসব ভাবছিলাম! ঘড়িতে চোখ পড়তেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠি! ৪টা ৫০, ওহ! আজ বিকেলে অফিস, এখান থেকে আগ্রাবাদ যেতে আরও মিনিট ত্রিশ, মানে আজ অফিসে গিয়ে নির্ঘাত ঝাড়ি খেতে হবে। বসগুলোর এই এক সমস্যা, তারা পান থেকে চুন খসলেই কৈফিয়ত চাওয়া শুরু করেন। সাপের মতো চোখ করে বলতে থাকেন ‘এই যে ইমরান সাহেব, আপনার সময়জ্ঞান কবে হবে বলেন তো দেখি!’

বড় রাস্তায় উঠে একটা অটোরিকশাকে থামালাম। অ্যাই, যাবে আগ্রাবাদ?

চালক বিনীত স্বরে বললেন, উঠেন স্যার উঠেন। অটোরিকশার হাতল ধরে দরজাটা খুলতে যাব, ঠিক সে সময় একটা মোলায়েম সুর আমাকে থামিয়ে দিলো। ভাইয়া… চিনতে পেরেছেন? আমি মুনাইম। ফিরে তাকালাম। সদ্য তারুণ্যে পা দেওয়া একটা ছেলে। মাথার চুলগুলো ঝাঁকড়া, চোখে পাতলা ফ্রেমের পাওয়ারি চশমা। তার ভেতর থেকে দুটো চোখ আপন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মুনাইম, না তো চিনতে পারিনি। ছেলেটা কিঞ্চিৎ আশাহত হলো। কয়েক সেকেন্ড সময় পার করে বলল, আপনি ইমরান ভাইয়া না? জার্নালিস্ট ইমরান! জার্নালিস্ট শব্দটা শুনে আগুনের ধোঁয়া যেন কানের ভেতর নাড়াচাড়া করে উঠল। নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না আমি এক সময় সাংবাদিক ছিলাম। হঠাৎ ক্যাম্পাসের সেই সোনালি দিনগুলো মনের কোণে উদয় হতে লাগল। কী এক ঝলমলে রঙিন জীবন পার করে এসেছি! সারাদিন ক্লাস, নিউজ সংগ্রহ আর সন্ধ্যার সে আড্ডাটার কথা মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল।

আমি মুনাইম, তারিক মুনাইম। আমাদের তখন মুরাদপুর বাসা ছিল, আপনি পড়াতেন আমাকে। আমি অঙ্কে কাঁচা ছিলাম খুব- মনে পড়ছে? মু না ই ম.. হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়েছে। অনেক বড় হয়ে গেছ তুমি! তাকে আমি চিনতেই পারিনি। কিছুটা বিব্রত মনে হচ্ছে আমাকে। করো কী? বিবিএ পড়ছি স্যার। বাহ্‌ খুব ভালো। মুনাইম কিছুটা সামনে এসে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করল, এ কী করছ মুনাইম! তাকে থামাতে পারিনি। ভাইয়া আপনাকে কত খুঁজেছি আমি। আজ এতদিন পর পেলাম। ছোট্ট সে মুনাইমের সঙ্গে এমন আচমকা দেখা হয়ে যাবে, ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। কত বৈচিত্র্যময় অধ্যায় জীবন চলার এ পথে।

আমার ফোন নম্বর টুকে নিয়ে সে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছে। কিছুটা পথ গিয়ে একপ্রকার দৌড়ে এলো আবার- ভাইয়া.. আজ ২৩ নভেম্বর না? আমি ফোনে ক্যালেন্ডার দেখে বললাম, হ্যাঁ আজ ২৩ নভেম্বর। ভাইয়া আজ তো আপনার জন্মদিন। আনন্দে তার ভ্রূ জোড়া কাঁপছে। কী বলছ? আমিই তো ভুলে গিয়েছি। মুনাইম তার পকেট থেকে একটা ৫ টাকা দামের কলম বের করে বলল, ভাইয়া আমি মানিব্যাগ ফেলে এসেছি বাসায়, না হলে ফুল কিনে দিতাম। গোলাপ ফুল। এই কলমটা নিন, আপনার জন্মদিনের উপহার।

কলমটা হাতে দিয়ে সে আবার চলে গেল, এবার আর ফিরল না! আমি কলমটা হাতে নিয়ে বিহ্বল পাখির মতো দাঁড়িয়ে আছি। ছোট্ট সে মুনাইম, ক্লাস সেভেনের যে মুনাইমকে আমি পড়িয়েছি, সে কী স্পষ্ট করে মনে রেখেছে আজকের এই দিনটির কথা। আচ্ছা বকুলের কি মনে আছে? জানি না! অটোরিকশা থেকে চালক এবার প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে গলা খাঁকারি দিলো। রাজ্যির সব ভাবনা মাথায় করে আমি অটোরিকশায় উঠে পড়েছি। শহরের চারপাশে তখন রোদ্দুর ঝলমল করছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x