স্কুলে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, নাঙ্গলকোটে শিক্ষক বরখাস্ত

৩১ জুলাই ২০১৯, ১১:০৫:২৫

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় স্কুলে ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢালুয়া বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এছাড়াও এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

জানা গেছে, এর আগে গত মঙ্গলবার ও বুধবার (২৩ ও ২৪ জুলাই) ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবারও তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ম্যানেজিং কমিটি জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডেকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাউদ হোসেন চৌধুরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাছির উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কিমিটি গঠন করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার পরদিনই কমিটি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয়।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার, নাফিসা আক্তার, নুসরাত জাহান, সাজ্জাদুল ইসলাম ঈমন ও মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, এ শিক্ষক স্কুলে যোগদান করার পর থেকেই বিভিন্ন সময় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি সবসময় ক্লাসে ছাত্রীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি ও তাদের গায়ে হাত দেন এবং জড়িয়ে ধরেন। কোনো শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তাকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।

ইতঃপূর্বে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বরাবর মৌখিক অভিযোগ করেছিল বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, স্থানীয় হওয়ায় বিদ্যালয়ে প্রভাব খাটিয়ে চলেন এ শিক্ষক। সর্বশেষ ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে তুচ্ছ কারণে মারধর করে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।

জানা গেছে, ওই ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দেয়ার পরই বিদ্যালয়টির ছাত্ররা ওই শিক্ষকের বরখাস্ত চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন ইমন তার সহপাঠী এক ছাত্রীর সঙ্গে বেঞ্চে বসা নিয়ে ঝগড়া করে। এরপর ওই ছাত্রীকে মুখ ঘোমড়া করে বসে থাকতে দেখে শ্রেণি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম উভয় ছাত্র-ছাত্রীকে সহাকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের নিকট পাঠান।

এ ঘটনায় শিক্ষক আবুল কালাম ইমনকে বেধড়ক পিঠিয়ে ও গাল মন্দ করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। এ ঘটনার জের ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের মাঠে বিক্ষোভ ও ওই শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মজুমদারের নিকট ৮ দফা অভিযোগ তুলে ধরে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে দৈনিকশিক্ষা ডটকম থেকে ফোন করা হলে প্রথমে তিনি রিসিভ করে কোনো কথা না বলে রেখে দেন। পরবর্তীতে আবারও ফোন করা হলে তিনি আর তা রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তদন্ত করে আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাউদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি জানার পর ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: