স্বপ্নপূরণের দরজায় সাব্বির | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

স্বপ্নপূরণের দরজায় সাব্বির

18 October 2016, 9:21:28

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক এক করে স্বপ্নের সিঁড়ি ভেঙে সাব্বির রহমান এখন শেষ ধাপটি পেরোনোর অপেক্ষায়। যে ধাপটি পেরোলেই তিনি বনে যাবেন টেস্ট ক্রিকেটার। সেই ছেলেবেলা থেকে তো এই স্বপ্নের জালই বুনে এসেছেন নিরন্তর।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল ঘোষিত হতেই তাঁর স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল করে দিয়েছেন খোদ চন্দিকা হাতুরাসিংহেই। জাতীয় দলের হেড কোচ গত পরশুই বলে দিয়েছেন যে সাব্বিরের জন্য একাদশে জায়গা বের করার উপায় খুঁজছে টিম ম্যানেজমেন্টও। অর্থাৎ ২০ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে তাঁর অভিষেক একরকম নিশ্চিতই। অবশ্য এর আগে টেস্ট দলে নাম থাকাটাই তাঁর পরিবারকে অনাবিল আনন্দে ভাসিয়ে নিয়েছে, ‘টেস্ট খেলোয়াড় হওয়াটা একটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। আমারও স্বপ্ন ছিল টেস্ট ক্রিকেটার হব। আমি টেস্ট দলে ডাক পাওয়ায় আমার পরিবারও অনেক খুশি।’

আরো খুশির দিন আসন্ন। তবে অভিষেকের আনন্দে অবগাহনের সম্ভাবনার সামনে এনে সাব্বিরকে দাঁড় করিয়েছে দীর্ঘ এক পথপরিক্রমা। যে পরিক্রমায় নিজেকে ধাপে ধাপে ওপরেই শুধু তুলে নিয়ে গেছেন এই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলার। কিন্তু টেস্ট তো হুট করেই খেলা যায় না। তাই ধাপে ধাপে এগোনোর চেষ্টা করেছি। প্রথমে টি-টোয়েন্টি, পরে ওয়ানডে খেলেছি। এখন টেস্টেও ইনশাল্লাহ ওইভাবে খেলব।’

চাইলে সাব্বিরের শেষ বাক্যের ‘ওইভাবে’ শব্দটিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করতেও পারেন। মানে যেভাবে বা যে ঢঙে তিনি ব্যাটিং করেন আর কি! যা দেখে অনেকে এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছে গিয়েছিলেন যে এই ছেলেটির ব্যাটিং মারকাটারি ক্রিকেটের সঙ্গেই বেশি মানানসই। টেস্ট অভিষেক লগ্নে দাঁড়িয়ে সে কথা কী করে ভোলেন সাব্বির! তাই মনে করিয়ে দিতে চান, ‘প্রথমে সবাই ভাবত আমি টি-টোয়েন্টির খেলোয়াড়। ওয়ানডে বা টেস্ট আমি খেলতে পারব না। কিন্তু আমি প্রমাণ করেছি যে ওয়ানডেও আমি খেলতে পারি। এবার টেস্ট দলেও আমি সুযোগ পেয়েছি, খেললে এই সংস্করণের আমার অভিষেক হবে। আমি চেষ্টা করব, এই তিনটি ফরম্যাটে যেন আমি একইভাবে খেলতে পারি।’

টি-টোয়েন্টির আগ্রাসী মানসিকতা ওয়ানডেতে নিয়ে এসেও দলে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছেন সাব্বির। এমনকি এখন তিন নম্বরের মতো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে দলের পরম আস্থাভাজনও হয়ে উঠেছেন স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়েই। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচেও তাঁকে একই মেজাজ বজায় রেখে ব্যাটিং করতে দেখা গেছে। যদিও তিনি এখন দাবি করছেন একেক ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য একেক রকমের মানসিক প্রস্তুতি থাকে তাঁর, ‘‘সব কিছুই মনের ব্যাপার। টি-টোয়েন্টিতে এক রকম, ওয়ানডে আরেক রকমের, বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেও অন্য রকম মানসিকতা থাকে। সময় নিয়ে খেলা দরকার, ওয়ানডে খেলার সময় এটাই ভাবতাম। আবার টি-টোয়েন্টির আগে ‘বল টু বল’ খেলার প্রস্তুতি নিতাম।’’ অবধারিতভাবেই প্রশ্ন আসে যে এবার টেস্ট অভিষেকের আগে কী ধরনের মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি? সাব্বিরের কথায় মনে হলো টেস্টে তিনি রয়ে-সয়ে খেলারই পক্ষে। নিজেকে টেস্ট মেজাজের উপযোগী করে তোলার চেষ্টায় দলের সঙ্গেই শুধু নয়, একা একাও ঘাম ঝরিয়েছেন বলে জানালেন। তাঁর কথা, ‘টেস্টে চেষ্টা করব প্রতিটি বল দেখে খেলার। আমি এটা একা মাঠের বাইরে অনুশীলন করেছি। অনেক সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছি কিভাবে টেস্ট ম্যাচ খেলা যায়। কিভাবে ভালো কিছু করা যায়। সব কিছুই আসলে নির্ভর করে মানসিকতার ওপর।’ অর্থাৎ স্বপ্নের সিঁড়ি ভেঙে শেষ ধাপটি পেরোনোর জন্য আড়ালেও নিজেকে তিলে তিলে তৈরি করা সাব্বির রহমান এখন দাঁড়িয়ে টেস্ট অভিষেকের দুয়ারে। কেবলই মাঠে নেমে পড়ার অপেক্ষা এখন!

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: