স্বাধীনতার কথা-লেখক মোঃফজলুল করিম

26 March 2020, 11:49:18

গল্পেরনামঃ স্বাধীনতার কথা
   মোঃফজলুল করিম
সময় কালঃ ১২ই মার্চ ২০২০ইং
লিখনের স্থানঃ মরকটা আলিম মাদ্রাসা
চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা।

৭ই মার্চ সকালে জামসেদ ও আরমান মিলে আড্ডা দিচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর ঘাটে।
কিছুক্ষণ পরে মোবারক এসে তাদের বলেন,বন্ধু তোরা যানিস আজতে বঙ্গবন্ধু ভাষন দিবে?
– জামসেদ বলেন, না তো, তুই জানিস বন্ধু?( আরমানকে বলেন)
-আরমানের জওয়াবে, হুম আমিও তো শুনলাম। আজকে না কি বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিবে।
-তখন আবুল মাজী তাদের কথা শুনে দূর থেকে বলে উঠলো, ওরে বাচারা, তোগো কারো কাছে কি রিডিও আছে?
-আরমান বলে উঠে, হ্যাঁ কাকু! আমগো ঘরে উগ্যা আছে। কেন কাকু?
-তোরা কি জানছ না আইজকা বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিবো, আবুল কাকু বলেন। আঁই হুঁনমু, এডার লাই।

-জামসেদ বলেন, আবুল কাকু! আমরা বেকগুনে মিলে হুঁনমু।
-হুম! আমরা বেকগুনে এইয়ানে হুঁনমু।মোবারক বলেন।
-আবুল কাকু বলেন, হয় হয়! তাইলে এইহানে হুনমু।বাচা আরমান কোন বেলা ভাষন দিবো জানিস?
-না কাকু।আরমান উত্তর দিলো।
-জামসেদ বলেন, হয় কাকু!আঁই যানি।
-আবুল কাকু বলেন, কোন বেলায় দিবো বাচা?
-জামসেদ জওয়াব দিলো, দুপুরে দিবো হুনলাম।
-তাইলে আঁই এহন যাই। দুপুর বেলায় এহানে আইমু। আবুল কাকু বলেন।
তখন আরমান, জামসেদ ও মোবারক বলে উঠলো আচ্চা কাকু। এই তিন জন নিজেদের মধ্যে বিদায় নিয়ে চলে যায় বাড়িতে।সূর্য প্রায় পশ্চিমে গড়াচ্ছে। একে একে তিন জন নদীর ঘাটে হাজির।হঠাৎ মাসুদ সাহেব কোথায় থেকে সেখানে উপস্থিত।মাসুদ সাহেব কে দেখে জামসেদ বলে।
-জামসেদ বলেন, মাসুদ ভাই!কনাই যাইবেন হুঁনি?
-না কোনো হানে যামু না, মাসুদ সাহেব উত্তরে বলেন। আইজকা বঙ্গবন্ধু ভাষন দিবো।তোরা না কি ভাষন হুঁইবি?
-আরমান বলেন, কে বলছে আপনাকে?মাসুদ ভাই।
-মাসুদ সাহেব বলেন, আবুল কাকু গাঁয়ের হগল লোকদের কৈয়য়া বেড়াইতেছে।আঁই ও হুঁইনলাম।
-ও,,,,, তাইলে কাকু গাঁয়ের হগল লোকদের কৈয়া বেড়াচ্ছে।মোবারক বলেন।
তারা কথা বলতে বলতে গাঁয়ের প্রায় লোকজন নদীর ঘাটে উপস্থিত হয়।আরমান রেডিও চালু করেন।রেডিওতে চলছে অন্যান খবরাখবর।
হঠাৎ রেডিও’র ওপার থেকে কে যেন বলছেন, প্রিয় স্রোতা বন্ধুরা! আমরা এখন সরাসরি যোগদিচ্ছি ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে।কিছুক্ষনের মধ্যে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর আগমনের শ্লোগান।শ্লোগানের পরই বঙ্গবন্ধুর দুঃখভরা কন্ঠ থেকে শুনা যায়।বলে উঠেন,
ভাইয়েরা আমার…!!!
আজ দুঃখভারা ক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি……….!
চলতে চলতে ঠিক ১৭মিনিট পর থেমে যায় সেই মধুময় ভাষণ।কিছুদিনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ।সেই যুদ্ধে আরমান,জামসেদ ও মোবারক যোগদান করেন। এতে জামসেদ আর মোবারক শহিদ হয়ে যায়। তাদের দু’জনকে এক সাথে মেরে ডাকাতিয়া নদীতে পেলা হয়।তাদের লাশদ্বয় ডাকাতিয়া নদীর মাছের খাবার হয়।আরমান সঙ্গ হারা হয়ে যায়।যুদ্ধের প্রায় নয় মাস হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন যুদ্ধস্থগিত বলে ঘোষনা হয়। কিছুক্ষণ পরে চারদিন থেকে ভেশে আসে “জয় বাংলা ” “জয় বাংলা” স্লোগান।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: