হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতি! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতি!

14 June 2017, 8:20:58

মোঃআব্দুর রহিম বাবলু,কুমিল্লা প্রতিনিধি:-

গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে উধাও হয়েছে শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের। তাদের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়ে সর্বশ্বান্ত হয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।
জানা গেছে, দক্ষিণ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও বরুড়া উপজেলায় আইসিএল, প্রিভেইল গ্রুপ, এফআইসিএল, আরসিএল, সেবা হাউজিং, কনজারভেটিভ, পদ্মা, শাহজালাল, রংধনু, স্বাধীন ও পপুলার গ্রুপসহ শতাধিক সমবায় সমিতি ২০০০ সালের পর থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করে। ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালনার কথা বলে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে এসব প্রতিষ্ঠানের শাখা হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রতিলাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা এবং চাহিবা মাত্র আসল টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকারে হাজার হাজার মানুষকে প্রলুব্ধ করে অর্থ সংগ্রহ করে।
এছাড়া জমাকৃত টাকায় স্বল্প মেয়াদে দ্বিগুণ-তিনগুণ মুনাফা দেয়াসহ কিস্তিতে ফ্ল্যাট, জমি দেয়ার নামে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে।
৪-৫ বছর আগে থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের জমা টাকা বা লভ্যাংশ না দিয়ে কৌশলে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ক্রমান্বয়ে সব অফিসে তালা লাগিয়ে একপর্যায়ে গা ঢাকা দেয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকসহ কর্মকর্তারা। কোনো কোনো স্থানে অফিস বন্ধ করে সাইনবোর্ডও খুলে ফেলা হয়েছে।
ইতোপূর্বে গ্রাহকের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রাহকগণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাংচুর করে এবং আমানত সংগ্রহকারী পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে থানা এবং আদালতে মামলা দায়ের করেছে। গ্রাহকের মামলার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জেলও খেটেছেন। সর্বশেষ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোমবার রাতে প্রিভেইল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ একরামুল হক মজুমদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কৈয়ারধারী গ্রামের মৃত আলী আশ্রাফের পুত্র। পরদিন বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে ১৪টি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় সাজা হয়েছে বলে জানান চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবুল ফয়সল।
এদিকে প্রভাবশালী গ্রাহকরা কোনো কোনো সমিতির অধীনে থাকা বাড়ি, জায়গা, পরিবহন ও প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ঋণ গ্রহীতাদের সমন্বয় ও অফিস দখল করে তাদের সম্পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফল হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিফল হয়েছেন। এ অবস্থায় অধিকাংশ গ্রাহকরা এখনো তাদের বিনোয়োগকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমবায় অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক হাজার পরিবার মাল্টিপারপাসের ফাঁদে পড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবৈধ ব্যাংকিং সিস্টেমে অর্থ লেনদেনকারী মাল্টিপারপাসগুলো গ্রামভিত্তিক দালাল নিয়োগ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে অভিনব কৌশলে কয়েক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অথচ জেলা ও উপজেলা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা সমবায় পরিদর্শক আবদুল মালেক জানান, উধাও হওয়ায় সমবায় সমিতিগুলো বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও এদের তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনেও পাঠানো হয়েছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: