হাসি কান্নায় আমার ২০১৬ – মুকুল মজুমদার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

হাসি কান্নায় আমার ২০১৬ – মুকুল মজুমদার

2 January 2017, 10:03:00

২০১৬ বছরটি শুরু করেছি কিছুটা মানুষকি চাপ মাথায় নিয়ে। তখন কুমিল্লা বাগিছাগাঁও আমার বড় বোনের বাসায় থাকতাম নিয়মিত। পড়া লেখার পাশাপাশি আমি স্যামসাং মোবাইল কোম্পানিতে জব করি। ২০১৬র জানুয়ারিতে কোম্পানির কুমিল্লা ঝাউতলা ব্র্যাে র এ্যাসিষ্টেন্ট ম্যানেজার ছিলাম। লাস্ট এক বছর সময় যে ভাবে যাচ্ছিলো তাতে আমার সারা দিনের ভাবনা ঐ একটাই যে- সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মলতে মলতে হাত মুখ ধোয়া আর গোসল করে কিছু না খেয়েই শো-রুমে চলে যাওয়া। আর রাতে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা। নাস্তা না খাওয়ার কারণ, দিনে সময় না পাওয়ার কারণেই প্রায় অনেক রাত পর্যন্ত অনলাইনে লেখা-লেখী করা। আর সকালে গলা শুকিয়ে থাকায় কিছু খেতে ভালো না লাগা। অতিরিক্ত চাপের কারণে চাকরিটা ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা কতৃপক্ষ অনুমান করতে পেরে তাৎক্ষনিক ৩ হাজার টাকা বেতন বৃিদ্ধ করে দেয়। এটা হলো আমার জানুয়ারীর প্রথম সু-খবর! তারপর সিদ্ধান্ত নেই যে চাকরিটা অন্তত আরো বছর খানেক চালিয়ে যাবো। এরই মাঝে প্রতিষ্ঠান পরিচালক জনাব আনিস সাহেব শেষ মাসের বেতন না দিয়ে চলে যান কোম্পানির আমন্ত্রণে দেশের বাহিরে। যখন ফিরে এলেন তখনও আমার ধারণা ছিলোনা যে স্যামসাং এর এশাখায় আমি আর থাকছিনা! ৫ই ফেব্রুয়ারী যখন তিনি দেশের মাটিতে পা রাখলেন তখন আমি কুমিল্লা কান্দির পাড়, দিনটি ছিলো শুক্রবার। সময় বিকেল ৩:৪০ নিয়োম অনুযায়ী আমি তখন ডিউটিতে থাকার কথা! কিন্তু সর্ম্পকের বড় ভাই জনাব আনোয়ার ভাইয়ের বিবাহের দিন ধায্য হওয়ায় আমি সেখানে উপস্থিত থাকাটা জরুরী ছিলো। তাই ঘন্টা খানেক দেরিতে ডিউটিতে যাবো বলে স্থির করি আর এতেই জাত নিয়ে অপমান হতে হয়েছে! শুধু তাই নয় পরদিন তিনি আমার যোগ্যতার প্রশ্ন তোলে কথা বললেন! এর পরই মানুষিক ভাবে চাকরিটা ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেই। কতৃপক্ষ তাদের ৪০ লক্ষ টাকার হিসাব চেয়েছেন, আর তা চাইলেই হঠাৎ করে দেয়া সম্ভব নয় তা তারা আগে থেকেই জানতেন এবং আমাকে অতিরিক্ত চাপে রাখার জন্যই সে এমন আচরণ করছে অন্তত তা আমার কাছে স্পষ্ট। আমি আর সাত পাঁচ না ভেবে ১৫ই ফেব্রয়ারী হিসাবের প্রাথমিক খসড়া জমা দিয়ে দিই। তাতে হাজার দশেক টাকার গড়মিল পাওয়া যায়। ৪০ লক্ষ টাকার হিসেবে ১০ হাজার টাকার গড়মিল আমার মনে হয়না বিশাল কিছু। তা ছাড়া এ গড়মিল সমাধান করার মত যোগ্যতা আমার ছিল।
যাক আমি মানুষিক চাপে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং আমাকে রিক্সা দিয়ে বাসায় পৌঁছে দেন এক সহকর্মী। প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পরদিন চলে যাই গ্রামের বাড়ি নাঙ্গলকোটের মক্রবপুরে। দু’দিন পর চাকরি না করার সিদ্ধান্তে চলে যাই ঢাকায় এবং ঢাকায় প্রবেশ করে আমার যোগাযোগ সাম্বারগুলো বন্ধ করে দেই! ১৭ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত আমি এ ভাবেই কাটিয়ে দিই। এরই মাঝে আমার বন্ধুদের কাছে বিভিন্ন জনের কল আসতে শুরু করে। বুঝতে পারলাম আর ঢাকায় থাকা হবে না, এবার ফেরার পালা। কুমিল্লা বড় বোনের বাসায় এসে উঠলাম, তিন দিন চুপ চাপ কাটিয়ে দিলাম ২৯ তারিখ বাড়ি থেকে কল আসলো বাবা অসুস্থ! দ্রুত বাড়ি গিয়ে বাবাকে নিয়ে আসলাম ডাক্তারের কাছে! প্রাথমিক ভাবে ডাক্তার ১৫দিনে ঔষধ দিয়ে পরামর্শ দেন। ৭দিনের মাথায় বাবা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবারও বাবাকে ডাক্তারের কাছে নেয়ার প্রস্তুতি নিই, কিন্তু এবার আর বাবা আগের মত হাঁটতে পারলেননা! প্রায় কোলে করেই বাবাকে গাড়িতে তুলতে হলো। ডাক্তার পরিক্ষা নিরীক্ষা দিলেন। বেশ কয়েকটি পরিক্ষা থেকে ভালো কোন রেজাল্ট না পেয়ে ডাক্তার আরো একটি বড় পরিক্ষা দিলেন। অবশেষে ডাক্তার জানালেন বাবার ক্যান্সার!! ঢাকায় বড় ডাক্তার দেখাতে হবে। এবার ঢাকার পথে আমি আর বড় আপু যাত্রা দিলাম বাবাকে নিয়ে, সাতে তখন বড় ভাইও ছিলো। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা ১৫ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পযর্ন্ত ১৭টি টেস্ট শেষেও কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারলেন না! তার পর ইবনেসিনা ও মেডিনোভা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানালেন- ক্যান্সারের লেভেল চার (৪) হয়ে গেছে, এ অবস্থা থেকে রোগীকে বাচাঁনো অসম্ভব, তবে আপনারা চাইলে আমরা চেষ্টা করে দেখতে পারি। পরিবারের সকলের পরামর্শক্রমে বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। প্রায় জানা জানি হয়ে গেছে বাবা আর বেশি দিন বাচঁবেনা।
তারপর কয়েকদিন পর আমার স্যামসাং এর বস ফোন করে জানালেন আমার জন্য চাকরি রেডি ২৮ এপ্রিল যোগ দিতে হবে! স্থান লাকসাম শাখা। লাকসাম শুনে আর দেরী না করেই জয়েন্ট দিয়ে দিলাম। বাবার অসুস্থতার ফাঁকে চাকরির খবরটা একটা সু-খবরই বটে। কিন্তু ততক্ষনে শো-রুম চালু হয়নি। আমার হাত দিয়েই সব গোছানোর কাজ চলছে। অবশেষে ১৮ই মে উদ্বোধন হলো শো-রুম। তার চার দিনের মধ্যে বাবা মারা গেলেন! আর বুঝতে পারছিনা চাকরি করবো না ছেড়ে দেবো। না ৪ দিনের ছুটি পেয়ে গেলাম। তার পর ২ দিন অনুুপস্থিতি কাটালাম। এগুলো বছরের শুরুর দিকের কথা।

আর বছরের শেষের দিকের কথা হলো- আমি লেখা লেখি করি গত ১০ বছর যাবৎ আর এরই ধরাবাহিকতায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় গিয়েছি মেহমান হয়ে। শেষ দাওয়াত ছিল সিলেটে। বাংলাদেশ কবি সভার সিলেট জেলা শাখার আয়োজনে কবি সম্মিলনে। ২৩শে ডিসেম্বর তাতে অংশগ্রহণ করে অতি আনন্দের সাথেই আপন জেলায় ফিরছিলাম ২৪শে ডিসেম্বর। রাত তখন ৩:২৫ প্রায়। কুমিল্লা ধর্মপুর এলাকায় ছিন্তাইকারির হাতে খোয়ালাম ৪৪,৯০০ টাকার মালামাল। এ ঘটনার পর প্রায় মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়লাম। দু’দিন বাদে পেলাম দারুন সারপ্রাইজ! লাকসামের বন্ধুরা আমার জন্য ২৮শে ডিসেম্বর আয়োজন করলো এক জমকালো জন্মোৎসব ও সাহিত্য আড্ডা। এর আগে আমি যতটা না লাকসামের সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিত ছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি পরিচয় লাভ করলাম। আমার হাসি কান্নার ২০১৬ এ বেশ কিছু বিষয় বাদ পড়েছে যা ইচ্ছে করলেই প্রকাশ করতে পারলাম না! এমন আরো বেশ কয়েকটা কষ্টের কথা অন্যকোন দিন শুনিয়ে দেবো আপনাদের।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: