হোয়াটমোরকে কী করে ভুলবে বাংলাদেশ? | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

হোয়াটমোরকে কী করে ভুলবে বাংলাদেশ?

10 September 2016, 8:49:34

কোর্টনি ওয়ালশকে বোলিং কোচ হিসেবে পেল বাংলাদেশ। এই পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা কোচদের নিয়ে আমাদের নতুন ধারাবাহিক। পঞ্চম পর্বে আজ থাকছেন ডেভ হোয়াটমোর

তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ঘোর দুঃসময়। টেস্ট মর্যাদা পাওয়া হয়ে গেছে বছর তিনেক আগেই, কিন্তু একের পর এক হারে ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশকে নিয়ে তখন চলছে হাসাহাসি। সেই কঠিন সময়টাতেই এ দেশের ক্রিকেটে আবির্ভাব ডেভ হোয়াটমোরের।

শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব তখন স্বনামেই ক্রিকেট দুনিয়ায় সুপরিচিত। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আন্ডারডগ শ্রীলঙ্কা তাঁর অধীনেই বিশ্বকাপ জিতে চমকে দিয়েছিল সারা দুনিয়াকে। আশির দশকে ক্রিকেট দুনিয়ায় নবীনতম টেস্ট-শক্তি শ্রীলঙ্কাকে পরিণত করেছিলেন বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬২ রানের সেই জয়ের পর বাংলাদেশ তখন হেরেই চলেছে। ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এফটিপির কল্যাণে বেশ কিছু সিরিজ খেলা হয়ে গেলেও জয় ছিল অধরাই। জয় দূরে থাকা মানমর্যাদা বাঁচানোই তখন বিরাট ব্যাপার। ২০০৩ বিশ্বকাপে কানাডার মতো দলও হারিয়েছে বাংলাদেশকে। কেনিয়ার সঙ্গে জেতা হয়নি। ওয়ানডেতে টানা পরাজয়ের পাশাপাশি টেস্টে একের পর এক ইনিংস হার—বাংলাদেশের ক্রিকেটের মর্যাদাই তখন প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেট দুনিয়ার সামনে। এমন একটি সময় হোয়াটমোরকে দলের দায়িত্ব দিয়ে যেন দুঃসময় থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে নিতে চাইল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
২০০৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিলেন হোয়াটমোর। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ! কোন অস্ট্রেলিয়া? স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন সর্বজয়ী সেই দল! ডারউইন ও কেয়ার্নসে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডের সিরিজ। গোটা দেশ তখন আতঙ্কিত, কি–না–কি হয়! মানসম্মান নিয়ে ফেরা যাবে তো! এক দিনেই টেস্ট হেরে যাওয়ার সেই আলোচিত তত্ত্ব!
হোয়াটমোর দলের দায়িত্ব নিয়ে খুব বড় গলায় কিছু বলেননি। কেবল বলেছিলেন, দলের মধ্যে জয়ের খিদে ও অভ্যাসটা তৈরি করতে চান। খেলোয়াড়দের প্রতিভা যা আছে, পূর্ণ প্রয়োগ যেন তারা মাঠে ঘটাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়াতে খুব খারাপ করেনি সেবার বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ইনিংস পরাজয় সঙ্গী হলেও পরের টেস্টটা ভালোই লড়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডেগুলোতেও অন্তত লড়াইয়ের খিদের দেখা মিলেছিল। ২০০৩ সালেই সেই লড়াইয়ের মুলতান টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ, একটুর জন্য যে টেস্টটি জেতা হয়নি। জেতা হয়নি ইনজামাম-উল হকের ব্যাটিং-বীরত্বে। পাকিস্তান সফরে কোনো ম্যাচ না জিতলেও ছিল লড়াইয়ের ছাপ।
২০০৪ সালে হোয়াটমোরের অধীনেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। হারারের সেই জয়টা ছিল টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রথম জয়। টানা ৪৭ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এক পশলা শীতল বৃষ্টি।
জয়ের খিদে তৈরি করতে চেয়েছিলেন হোয়াটমোর। পূর্ণশক্তির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই জয়টাই যেন বদলে দেয় বাংলাদেশকে। সে বছরই ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে আসে প্রথম জয়। পরের বছর ২০০৫ সালে হোয়াটমোরের অধীনেই বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পায় ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয়। ওয়ানডে সিরিজটাও ২-০-তে পিছিয়ে পড়ে ৩-২ ব্যবধানে ছিনিয়ে নিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল।
২০০৫ সালে মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতে গোটা দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে-কেনিয়াকে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসার শুরুটাও হয়েছিল তাঁর সময়েই। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কা-বধ, একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টের সেই মহাকাব্যিক লড়াই। চমৎকারভাবেই হোয়াটমোরের সময়ে বাংলাদেশ এগিয়েছে দিনবদলের দিকে।
হোয়াটমোরের সময়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফীস, নাফিস ইকবালদের মতো প্রতিভার প্রবেশ ঘটে বাংলাদেশ দলে।
২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশের কোচ হিসেবে হোয়াটমোরের শেষ মিশন। তত দিনে বাংলাদেশে চারটি বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। পরিণত হয়েছেন সর্বজন-শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে। ২০০৭ বিশ্বকাপে হোয়াটমোরের অধীনে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গ্রুপপর্বে ভারতকে হারিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে সেই আনন্দটা ম্লান হলেও বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রথম রাউন্ডের গণ্ডি পেরোনোটা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে চলারই প্রমাণ।
শুরুতে এমন একটা দল পেয়েছিলেন, যে দলকে নিয়ে হাসাহাসি করত ক্রিকেট বিশ্ব। সেই দলটাকেই রেখে গেলেন এমন জায়গায়—সবাই দেখে সমীহের চোখে। এই রূপবদলটা না হলে, কে জানে ক্রিকেটে আগ্রহই হারিয়ে ফেলত কি না এ দেশের মানুষ। কে জানে, হয়তো উঠে আসত কি না আজকের সৌম্য-সাব্বির-মুস্তাফিজদের প্রজন্ম।
হোয়াটমোর ছিলেন এ দেশের ক্রিকেটের দিনবদলেরই কান্ডারি। কী করে তাঁকে ভুলবে বাংলাদেশ!

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: