হোমনায় মাছ ধরা কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষনা দিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ভাংচুর! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

হোমনায় মাছ ধরা কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষনা দিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ভাংচুর!

7 November 2016, 10:18:13

সিনিয়র প্রতিনিধি-

কুমিল্লার হোমনায় মাছ ধরা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মাইকে ঘোষনা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৯টি বাড়িঘরে ভাংচুর লুটপাট ও মহিলাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ১১টার দিকে লটিয়া ও গোয়ারী ভাঙ্গা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হল-গোয়ারী ভাংগার মোফাজ্জল হোসেন (২৩), মো. ফরিদ মিয়া, (২৫), আবু কালাম (৩১), মো. সেলিম, সওদাগর (৪৫), আশাদ মিয়া (৩৫), শফিকুল ইসলাম, (২৮) মেয়ে হালিমা আক্তার (৪২), স্ত্রী শেফালী বেগম (৫৫), ফরিদ (৪১), আঃ বাতেন (২৮) ও লটিয়া গ্রামের আঃ আউয়ালের ছেলে জিলানী (২৮), মো. রাসেল মিয়া (২২), ফজলুল হক (৫০)।
এদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন আবু কালাম, সেলিম মিয়া, কামাল মিয়া, আশাদ মিয়া ও জিলানী মিয়াকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং মোফাজ্জল হোসেনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রোববার গোয়ারী ভাংগা গ্রামের সাদত আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া গোয়ারীভাঙ্গা-লটিয়ার মধ্যের খালে মাছ ধরতে গেলে লটিয়া গ্রামের নাঈম, আতাউরসহ ৪/৫ জন মিলে ফরিদকে ব্যাপক মারধর করে। ফরিদ হোমনা হাসপাতালে কিছুদিন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌরসভার লটিয়া ওয়ার্ডের কমিশনার আব্দুস সুবহানের নেতৃত্বে গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামে এক শালিশ বসে। এতে লটিয়া গ্রামের লোকজন দেরীতে আসায় এবং আসামীরা উপস্থিত না হওয়ায় কোন রকম ফয়সালা ছাড়াই বিচার শেষ হয়। এরপরও ওয়ার্ড কমিশনার সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা চাইলেও সেখানে গোয়ারীভাঙ্গার লোকজন অশোভন আচরন করে।
এই ক্ষোভের জের ধরেই গতকাল শুক্রবার সকালে লটিয়া গ্রামের নদীর ঘাটলায় গোয়ারীভাঙ্গার নুরু মিয়ার ছেলে মোফাজ্জাল ও মৃত শওদাগরের ছেলে আশাদ গোসল করতে গেলে লটিয়া গ্রামের লোকজন হামলা চালিয়ে কুপিয়ে পিটিয়ে টেটাবিদ্ধ করে গুরুতর আহত করে। এরপর গোয়ারীভাঙ্গার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মাইকে ঘোষনা দিয়ে জমিতে নেমে পড়লে লটিয়া গ্রামের লোকজনও মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে গোয়ারীভাংগা গ্রামে আক্রমন করে। এসময় গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামের মহিলাসহ ১৩ জন আহত হয় এবং ৯টি বসৎ ঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুনরায় হামলার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। দুই গ্রামেই এখন থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সোবহান জানান, ফরিদের উপড় হামলার ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত ছিলাম। এ নিয়ে চিকিৎসাসহ সুষ্ঠ মিমাংসার লক্ষে আমরা বিচারেও বসেছিলাম। একজন আসামী উপস্থিত না হওয়ায় গোয়ারীভাঙ্গার লোকজন আমাদেরকে বিচারেই অপদস্ত করে। এনিয়েই গতকাল গতকাল উভয় গ্রামের লোকজনই মাইকে ঘোষনা দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষের মাঝে আমি একা কি আর সামাল দিতে পারি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
হোমনা থানা অফিসার ইনচার্জ রসুল আহমদ নিজামী জানান, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে গোয়ারী ভাঙ্গা ও লটিয়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শালিস হওয়ার কথা ছিল মেয়র সাহেবের উদ্যোগে। কিন্তু শুক্রবার সকালে লটিয়া গ্রামের লোকজন গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামে হামলা করে কয়েকটি ঘর ভাংচুর ও কয়েকজনকে আহত করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এই ঘটনায় কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: