২২টির বেশি বড় প্রকল্পে চিনের বিনিয়োগ চাইবে বাংলাদেশ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / নাঙ্গলকোট / বিস্তারিত

২২টির বেশি বড় প্রকল্পে চিনের বিনিয়োগ চাইবে বাংলাদেশ

9 October 2016, 9:47:33

দেশের ২২টিরও বেশি বড় ধরনের প্রকল্পে চিনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ চুক্তি করা হবে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের দুদিনের ঢাকা সফরের সময়ে এই চুক্তি করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চিনের ঢাকার দূতাবাস যৌথভাবে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আগামী ১৪ অক্টোবর দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। তার সফরসঙ্গী হিসেবে চিনের সরকারি-বেসরকারি খাতের একটি বড় প্রতিনিধি দলও থাকবে। প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই দিন দুপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে বহুমুখী টানেল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও চিনা প্রেসিডেন্টের বৈঠক হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
দুই দেশের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে। ওই স্মারকের কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আপত্তি আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দেবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, খসড়া তৈরিতে চিনা রাষ্ট্রদূতকে সহযোগিতা করেছে চিনা প্রেসিডেন্টের অগ্রবর্তী প্রতিনিধি দল। দলটি এখন খসড়াটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে দুই দেশের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করা হবে।
সূত্র জানায়, সমঝোতা স্মারকে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে। এতে বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ফলে চিনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি এ সমঝোতা স্মারকে থাকছে না। তবে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি বা চিনের বাজারে কিছু পণ্য শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করার বিষয়ে সাইড লাইনে থেকে আলোচনা হবে। এ বিষয়ে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। যেগুলো চিনের প্রতিনিধি দলকেও দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে চুক্তির সময়কাল ধরা হয়েছে দুই বছর। এই সময়কালের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে নির্ধারিত হবে প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রা। এর পর থেকে শুরু হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। এই সময়ে যদি কোনো দেশ চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে চায়, তাহলে কমপক্ষে ছয় মাস আগে একে অন্যকে অবহিত করতে হবে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশে গার্মেন্টসশিল্প পার্ক, পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্প, মাল্টি লেনের সড়ক ও হাইওয়ে প্রকল্প, পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, ৬৬০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাংলাদেশে টেলিভিশনের পাঁচটি স্টেশন স্থাপনের প্রকল্প রয়েছে।
সূত্র জানায়, ওই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের জন্য রেয়াতি সুদে ও শর্তে তহবিল জোগান দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের বৈঠকে আরও আলোচনা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চিন থেকে সরকার বর্তমানে বড় বড় প্রকল্পে সরবরাহ ঋণ নিচ্ছে। এগুলোর সুদের হার ৩-৪ শতাংশ। অন্য দেশের বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশ। চিন থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ। চিন বাংলাদেশের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জটিলতার সমাধান করতে এ ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা চাইবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেলেও অর্থমন্ত্রী আপত্তি করেছেন।
চিনের প্রেসিডেন্টের এই সফরে যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ সহায়তা চাওয়া হবে, সেগুলো হলোÑ কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে বহুমুখী টানেল নির্মাণ, সীতাকু–চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক নির্মাণ, গজারিয়ায় ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, পানি বিতরণ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং আবর্জনা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাঁচটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র স্থাপন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল প্রকল্প, ঢাকা-কক্সবাজার রেল প্রকল্প, বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রামে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি প্রকল্প।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: