৬ মাসেও হিরু-হুমায়ুনের সন্ধান মিলেনি ! কান্না থামেনা নিখোঁজ হুমায়ুনের বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়ের | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

৬ মাসেও হিরু-হুমায়ুনের সন্ধান মিলেনি ! কান্না থামেনা নিখোঁজ হুমায়ুনের বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়ের

26 May 2014, 4:51:47

26052014_009_LAKSAM_MOTHER_OF_HUMAYUN

ছেলের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা কতটুকু তা জানার জন্য লাকসাম পৌরসভা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির পারভেজ এর ফতেপুরস্থ নিজস্ব বাসভবন গেলে দেখা যায় এক ব্যতিক্রম চিত্র। ৬ মাস থেকে নিখোঁজ হুমায়ুনের বয়োবৃদ্ধ বাবা রঙ্গু মিয়া ও মা আছিয়া খাতুনের প্রতিটি মুহুর্ত কাটে কান্না আর আহাজারিতে। তাদের কান্না আর আহাজারিতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তাদের এমন অবস্থা দেখার জন্য যারাই তাদের সাথে দেখা করতে আসে তারাই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু তাদের অবিরত কান্না থামে না। ফিরে আসে না তাদের প্রিয় কলিজার ধন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল- নিখোঁজ ছেলে হুমায়ুন কবির পারভেজ এর ফিরে আসার প্রতীক্ষায় বাসার গেইটে সামনে ছেলের ছবি হাতে কাটছে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দিনকাল। কাউকে দেখলে তাদের আহাজারি বেড়ে যায়। তাদের বলতে শুনা যায়- বাবা তুমি কোথায় আছ, কেমন আছ? আর কত অপেক্ষা করবো তোমার জন্য? তুমি যেখানেই আছ ফিরে আস! তোমার ফিরে আসার প্রতীক্ষায় আমরা আমরা কতদিন এভাবে থাকব? আপনাদের ছেলেকে কে নিয়ে গিয়ে এমন প্রশ্নে তারা স্পষ্ট করে উত্তর দেন- র‌্যাব তাদের নিয়ে গেছে। তারা জানায়- আমার ছেলের সাথে কারো কোন শত্র“তা নেই। তারপরও কারো না কারো ইন্ধনে আমাদের ছেলেকে র‌্যাব নিয়ে গেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন- স্বজন হারানোর বেদনা আপনি বুঝেন। আমাদের কলিজার টুকরাকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফেরত দিন।

 

খবর নিয়ে জানা যায়- লাকসাম উপজেলা বিএনপি সভাপতি-সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাদের ফিরে পাবার আশায় তাদের প্রতিটি মুহুর্ত কান্নায় কান্নায় কাটছে। তারা ইবাদত বান্দেগীতে ব্যস্ত থেকে প্রিয় পুত্র হুমায়ুন কবির পারভেজ ও সাইফুল ইসলাম হিরু’র জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর নিকট প্রার্থনা করছেন। নিখোঁজ সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে জীবিত ফিরে পাবার জন্য বয়োবৃদ্ধ রঙ্গু মিয়া ও আছিয়া খাতুন ছাড়া দু’ পরিবারের সদস্য, আত্মীয় স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা নিরবে চোখের জল বিসর্জন দিচ্ছেন। এই দুই নেতা নিখোঁজের পর থেকে কমিল্লার কয়েকটি উপজেলায় লাগাতার হরতাল, লাকসাম থানায় সাধারণ ডায়েরী, প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের আইজি বরাবর স্মারকলিপি, প্রতিবাদ সভা, মসজিদে দোয়া, মন্দির-গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে পরিবার পরিজন, সাংগঠনিক, ব্যবসায়ী ও সকল পেশার মানুষ তাদের সন্ধান ও মুক্তির দাবিতে বৃহত্তর লাকসামে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করছেন। গত ৮ এপ্রিল ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সর্বশেষ গতকাল ২৭ এপ্রিল লাকসামে গণ-অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।

হুমায়ুন কবির পারভেজের পিতা রঙ্গু মিয়া জানান- গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাত অনুমান নয়টা থেকে এগারটার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার হরিশ্চর এলাকা থেকে মো. সাইফুল ইসলাম হিরু এবং মো. হুমায়ুন কবির পারভেজ এবং পৌর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনকে র‌্যাব আটক করে। পরে জসিম উদ্দিনকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করে। কিন্তু অপর দুইজনের আজও কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ হওয়া বিএনপি’র ওই দুই নেতার পরিবারের সদস্যদের দাবি র‌্যাব তাঁদের গুম করেছে।

হুমায়ুনের স্ত্রী শাহনাজ আকতার গত ৭ মে রাতে লাকসাম পৌর এলাকার ফতেপুরের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, র‌্যাব-১১ সাবেক অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ এর নেতৃত্বে তাঁর স্বামী মো. হুমায়ুন কবির পারভেজ এবং চাচা শ্বশুর মো. সাইফুল ইসলাম হিরুকে গুম করেছেন। ওই সময় তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তাঁর দেবর মো. গোলাম ফারুক একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘‘র‌্যাব ১১-এর সিইও সদ্য চাকুরীচ্যূত সিও তারেক সাঈদ’র নেতৃত্বে হিরু ও হুমায়ুনকে গুম করা হয়েছে’’।

এদিকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলাম হিরুর ছেলে রাফসান অভিযোগ করে বলেন- আমাদের সন্দেহ লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ এই গুমের সঙ্গে জড়িত। তিনি নিজেই কুমিল্লা গিয়ে গুমের নেতৃত্ব দেন এবং সবকিছু জানেন। ওই সময় তাঁর সঙ্গে র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন কুমিল্লা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কোম্পানী-২ এর মেজর শাহেদ হাসান রাজী, উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শাহজাহান আলী জড়িত ছিলেন। মেজর শাহেদ হাসান রাজী দাবি করেন- মো. সাইফুল ইসলাম হিরু এবং মো. হুমায়ুন কবির পারভেজ নামে কাউকে র‌্যাব আটক করেনি।

নিখোঁজ ওই দুই নেতার পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে দশটায় লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ এবং একই কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন ’লাকসাম ফেয়ার হেল্থ’ হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা যাচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার হরিশ্চর এলাকায় পৌঁছলে ওই সময় সাদা পোশাকদারী র‌্যাব পরিচয়ে একটি দল অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যারিকেড দিয়ে থামায় এবং তাঁদের আটক করে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত প্রায় সাড়ে বারটার দিকে র‌্যাব-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-২-এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শাহজাহান আলী জসিম উদ্দিনকে লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু অপর ওই দুই নেতাকে আটকের বিষয়টি র‌্যাব স্বীকার করছেন না। এছাড়া, একই রাতে র‌্যাবের একটি দল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরুর লাকসামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও নয়জনকে আটক করে। তাঁদেরকে ওই রাতেই লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। র‌্যাব-১১ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শাহজাহান আলী।

র‌্যাবের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া জসিম উদ্দিন ওই রাতের বর্ণনা দিয়ে বলেন- র‌্যাব তাঁদের আটকের পর তিন জনকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে হিরু ভাই ও হুমায়ুন ভাইকে একটি গাড়িতে তুলে নেয় এবং আমাকে অন্য একটি গাড়িতে করে এনে রাত প্রায় সাড়ে বারটার দিকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করেন। নিখোঁজ মো. হুমায়ুনের ছোট ভাই গোলাম ফারুক জানান- ঘটনার তিন দিন পরও তাঁদের কোনো খোঁজ না পেয়ে র‌্যাব’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু র‌্যাব ওই দুইজনকে (হিরু-হুমায়ুন) আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি। পরে এই ব্যাপারে ১ ডিসেম্বর তিনি লাকসাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং-২৩) করেন।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ওই সময় আমি এই থানায় ছিলাম না। এখানে যোগদানের পর জেনেছি, বিএনপির ওই দুই নেতার নিখেঁজের বিষয়ে ১ ডিসেম্বর থানায় একটি জিডি হয়েছে। এ ছাড়া, নিখোঁজের ব্যাপারে আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য জানা নেই। এদিকে নারায়নগঞ্জ সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব’র বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার পর লাকসামে নিখোঁজ দু’ বিএনপি নেতাকে র‌্যাব ১১-এর সাবেক সিইও সদ্য চাকুরীচ্যূত তারেক সাঈদ’র নেতৃত্বে গুম করার অভিযোগ জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। আর এরই সূত্র ধরে গত ১৮ মে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব-১১ এর বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া সাবেক অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে নিখোঁজ হুমায়ুন কবির পারভেজ এর পিতা বয়োবৃদ্ধ রঙ্গু মিয়া একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য চার বিবাদি হলেন, র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন কুমিল্লা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কোম্পানী-২ এর মেজর শাহেদ হাসান রাজী, উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শাহজাহান আলী, উপ-পরিদর্শক কাজী সুলতান আহমেদ এবং অসিত কুমার রায়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাকসাম থানার এস.আই আবু বকর। তবে আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরও তদন্তকারী কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।  স্থানীয় সচেতন জনগণ মনে করেন- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে নিখোঁজ সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নেপথ্যে নায়কদের চিহ্নিত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: