সুশান্ত কুমার দাশ প্রধান শিক্ষক, মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয় | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

সুশান্ত কুমার দাশ প্রধান শিক্ষক, মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়

5 June 2017, 9:34:16

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস

সুশান্ত কুমার দাশ এমন একটি নাম এবং যেই নামের ব্যক্তিটিকে কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করা সম্ভব নয়!!

০১-০৪-১৯৮৩ সালে তিনি মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৭-০১-১৯৮৪ সালে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। একইবছর ১০-০৭-১৯৮৪ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেন মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে।

এই মানুষটি এমন একজন মানুষ যিনি চট্টগ্রাম বাশখালিতে নিজের পৈত্রিক নিবাস ছেড়ে চাকরি জীবনের দায়িত্ব পালনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে আছেন আমাদের মাঝে। তিনি এমন একজন মানুষ যাকে কখনো কেউ কোনো রকমের অপবাদ দিতে পারি নি এবং মুখের উপর অথবা পিছনে বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি যে এই লোকটি খারাপ!

তিনি তার মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়কে নিয়ে গেছেন নাঙ্গলকোটের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তার হাত ধরেই মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয় পরপর ৪ বার নাঙ্গলকোট উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তার হাতেগড়া শিক্ষার্থীরা আজ প্রতিনিধিত্ব করতে দেশের উচ্চ পর্যায়ে। তার শিক্ষার্থীরা পড়ছেন দেশ ও বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে।

তিনি তার সুখ আল্লাদ ত্যাগ করে দিন রাত পরিশ্রম করে কাজ করে গেছেন মাহিনী স্কুলের জন্য। রাতে যখন বাজার থেকে বাড়ি যেতাম দেখতাম এই মানুষটি আলো জ্বালিয়ে অফিসে বসে অথবা কম্পিউটার রুমে কাজ করছে স্কুলের। কিন্তু অন্য কেউ হলে এসব বাদ দিয়ে একটু আরাম আয়েশ করতো কিন্তু তিনি কাজ করে গেছেন স্কুলের জন্য। কম্পিউটার শিক্ষক থাকার পরও তিনি রাত জেগে বিভিন্ন কাজ করতেন স্কুলের।

আমার দেখা মতে আমি কখনো দেখি নি যে উনার স্কুলের কর্মদিবসে তিনি স্কুলে অনুপস্থিত আছেন। তিনি যথাসময়ের আগেই স্কুলে উপস্থিত হতেন। আর স্কুল থেকে যেতেন সবার পরে। যেকোন অনুষ্ঠান বা কোন কাজে উনাকে দেখিনি একটু দেরি করে এসেছেন। পারলে উনি সবার আগেই উপস্থিত হয়েছে। তিনি সময়কে সবসময় প্রাধান্য দিতেন আর সবসময় সময়অনুযায়ী কাজ করতেন।

তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুলে উকি মেরে যেতেন। আর তিনি এমন একজন মানুষ সকাল বেলা স্কুলে এসেই নিজ হাত দিয়ে মাঠের যত কাগজ, পলিথিন থাকতো তিনি নিজ হাতে তা পরিস্কার করে পেলতেন। মাঝে মাঝে ঝাড়ুও দিতেন। কখনো দায়িত্বে তিনি লজ্জা করেন নি! পরিশ্রম করে গেছেন নিরলস ভাবে।

কখনো দেখি নি উনি উনার দায়িত্ব অবহেলা করে কোন ক্লাস মিস করেছে। ক্লাসতো কখনো মিস করেইনি উল্টো পারলে আরো বেশি করে নিয়েছে ক্লাস। কোন শিক্ষক কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে তিনি তাদের ক্লাসও নিতেন। পরীক্ষার আগে তিনি প্রশ্ন করে নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতেন, নার্সিং করতেন কিভাবে ভালো ফলাফল করতে পারবো এবং সঠিক সময়ে সেই পরীক্ষা নেয়ার খাতাগুলো মূল্যায়ন করে ফেরত দিতেন। কখনো তিনি দায়িত্বে অবহেলা করতেন না । শিক্ষার্থীরা অলসতা করলেও কখনো দেখি নি তিনি অলসতা করতে।

তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি বিতর্ক, খেলাধুলা, আবৃত্তি,রচনয় প্রতিযোগিতা, অভিনয় বিভিন্ন কাজে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতেন এবং সেইসব কাজে উৎসাহীত করতেন । শিক্ষার্থীরা ডিবেট, রচনা প্রতিযোগিতা করতে চাইলে তিনি বিভিন্ন পত্রিকা, ইন্টারনেটেরর পাতা থেকে বিভিন্ন তথ্য খুঁজে অথবা নিজ থেকে লিখে শিক্ষার্থীদের দিতেন।

এই মানুষটি এমন একজন মানুষ যিনি মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য কাজ করে গেছেন ন্যায় ও নীষ্ঠার সাথে। পরিশ্রম করে গেছেন নিরলসভাবে। আমার দেখা শ্রেষ্ঠ একজন শিক্ষক তিনি। আজকের দিনে এমন একজন আদর্শবান ও পরিশ্রমী শিক্ষক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

পরিশ্রমে করতে করতে তার জীবনের পথচলাটা আজ শেষের দিকে। কর্মস্থল ত্যাগের সময় এসে গেছে। আগামি ৪ জুলাই ২০১৭ মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৫ বছরেী দীর্ঘ চাকুরীর জীবনের ইতি টানবেন আমাদের এই প্রিয় গুনী শিক্ষক।

এমন একজন আদর্শবান, পরিশ্রমী, ত্যাগী, ন্যায়বান শিক্ষককে মিস করবে মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়সহ পুরো নাঙ্গলকোট তথা পুরো কুমিল্লার মানুষ। আপনার ঋণ সার আমরা কখনো শোধ করতে পারবো না। আপনি আমাদের আইডল। আপনার তুলনা আপনি নিজেই।

আপনি যখন বিদায় নিয়ে এই স্কুল গেট ত্যাগ করবেন আমি হলফ করে বলতে পারি এই দেয়াল, এই দেয়ালের প্রতিটি বালুকণা, মাটি, প্রতিটি ঘাস যারা আপনার পরিশ্রমের প্রত্যক্ষ সাক্ষী তারাও নিবৃতে কাঁদবে। আর আপনার রেখে যাওয়া ছাত্র- ছাত্রীদের কথা নাই বললাম!

তাই আজ বিদায়ের ক্ষণে বলতে চাই- “এই কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না, শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না। হাসি দিয়ে লুকালে তুমি সারাজীবনের বেদনা, আজও তুমি হেসে যাও আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না। ওগো যাবে যাও, তবে বুকে ব্যথা নিয়ে যেও না।”

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: