ধর্ষণ মামলার মাস হতে চললেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি আসামি | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ নাঙ্গলকোট পেরিয়া ইউনিয়ন প্রবাসী কল্যাণ সোসাইটির আত্মপ্রকাশ ও হতদরিদ্রের মাঝে অনুদান প্রদান ◈ এইচএসসি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত ◈ খোসার পাড় প্রবাসী কল্যাণ সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত ◈ CJN প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন

মাদ্রাসা পড়ুয়া আপন জেঠাতো ভাই কর্তৃক ধর্ষণের শিকার

ধর্ষণ মামলার মাস হতে চললেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি আসামি

3 July 2020, 3:46:45

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস.

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মাদ্রাসা পড়ুয়া আপন জেঠাতো ভাই কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ বছর বয়সী এক শিশু । অভিযুক্ত ওই ধর্ষকের নাম আশরাফুল ইসলাম মাহিন (১৯)। সে উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কেকৈয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আলা উদ্দিনের একমাত্র ছেলে এবং জোড্ডা মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র। এর আগে সে পাঁচ বছর হাফেজী মাদ্রাসায় ও পড়েছিল।

ভিক্টিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিত ওই শিশু (৮) তার অসুস্থ দাদির কাছে ঘুমাতো। ধর্ষক মাহিন তার মা নানাবাড়িতে বেড়াতে গেলে নিজেদের ঘরে একা ভয় লাগে উসিলায় চাচাদের ঘরেই ঘুমাতো এবং খাওয়া-দাওয়া করতো। এ সুযোগে মাহিন গভীর রাতে মুখ চেপে ধরে একাধিকবার ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। বিষয়টি জানাজানি হলে, ধর্ষকের ফুফু হাসিনা বেগমসহ পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্য মিলে ধর্ষক এবং ধর্ষকের মা’কে জুতাপেটা করে নামমাত্র বিচারের নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তারা ধর্ষককে ওয়াদা করায় আর জীবনে এমন করবে না এবং শাস্তি-স্বরূপ এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ওয়াদা করিয়ে ছেড়ে দেয়। ধর্ষকের মা-বাবা ও অন্য ফুফুরা ধর্ষিতার পরিবারের কাছে মাফ চেয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে। অন্যদিকে ভিক্টিমের পরিবারকে মামলা না দেয়ার জন্য চাপ দেয়, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়, লোক জানাজানি হলে মেয়ের ভবিষ্যতে সমস্যা হবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। ধর্ষকের মা কাজল বেগমের মামা নাঙ্গলকোট বেগম জামিলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বিএসসি মামলা না করতে বিভিন্নভাবে দেন-দরবার করে এবং মামলা হলে ধর্ষকের পক্ষে লড়বেন বলে হুমকি দেন। ধর্ষকের বন্ধু ও ফুফাতো ভাই, কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিকের ছাত্র ভোলাকোট গ্রামের রাকিব ভিক্টিম ও ভিক্টিমের মাকে ধর্ষণ করার ও হুমকি দেয়। এ সমস্ত কথোপকথনের বেশ কিছু অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

গত জুন মাসের ৮ তারিখ নাঙ্গলকোট থানায় ধর্ষণ মামলা হলেও আজ অব্দি ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। মামলার বাদী ভিক্টিমের মা প্রতিবেদককে জানায় আমি প্রতিনিয়ত পুলিশকে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাই এবং অভিযুক্ত মাহিনকে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রগতি জানতে পারি না। প্রতিনিয়ত ধর্ষকের পরিবার ও তার আত্মীয় স্বজন আমাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, ধর্ষকের আরেক ফুফাতো ভাই দক্ষিণ শ্রীহাস্য গ্রামের আরজুর মাধ্যমে টাকা দিয়ে তারা থানা কিনে ফেলেছে-তাদের কিছুই করতে পারবো না বলে আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওবায়েদুল হকের কাছে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন: নাঙ্গলকোট থানার ওসি সহ আমরা প্রায় সকলেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমরা কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছি কিন্তু অভিযুক্ত মাহিন পলাতক রয়েছে। আমি বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছি। খুব দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

অভিযুক্ত ধর্ষক মাহিনের মা কাজল বেগমের মুঠোফোনে গত দুইদিন যাবত কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে তাই তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনা স্বীকার করে ছেলের অপরাধের জন্য মাফ চেয়েছেন এবং ছেলেকে পারিবারিকভাবে শাস্তি দিবেন বলে অংগীকার করা তার একটা অডিও আমাদের হাতে এসেছে।

জোড্ডা বাজার সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জনাব ওমর ফারুক লিটনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন: দশম শ্রেণীর ছাত্র মাহিনের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ আমরা শুনেছি এবং তার পরিবার থেকে চারিত্রিক সনদপত্র প্রদানের জন্য আবেদন করলে আমরা তা দিতে অপারগতা জানাই। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় উঠতি বয়সের এরকম কিছু ছেলে শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ছে। পারিবারিকভাবে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়ায় এদের সাহস আরো বেড়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত মাহিন এর আগেও এক ছেলে শিশুকে বলাৎকার করেছে বলে এলাকাবাসি সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে তবে তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি। মাহিন এবং তার বন্ধু রাকিবের এরকম বিভিন্ন অপকর্মের ব্যাপারে এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়ে বলেন-সঠিক বিচার না হওয়ায় এরা দিনে দিনে আরো অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে।

ভিক্টিমের মামা বলেন-থানায় অভিযোগ করার প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও ধর্ষককে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি দেখে আমরা আশাহত হয়েছি। আমরা আশা করি পুলিশ আরো তৎপর ভূমিকা গ্রহন করে ধর্ষককে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে। ভিকটিমের পরিবার আতংকে দিন কাটাচ্ছে, বিভিন্নভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অপরাধী পার পেয়ে যাবে এবং দিন দিন এই জাতীয় অপরাধ বেড়ে যাবে। সঠিক বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x