করোনার চাইতেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ধর্ষণ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ নাঙ্গলকোট পেরিয়া ইউনিয়ন প্রবাসী কল্যাণ সোসাইটির আত্মপ্রকাশ ও হতদরিদ্রের মাঝে অনুদান প্রদান ◈ এইচএসসি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত ◈ খোসার পাড় প্রবাসী কল্যাণ সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত ◈ CJN প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন

করোনার চাইতেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ধর্ষণ

4 July 2020, 10:20:40

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস.
এমন দিন সম্ভবত কমই আছে, যেদিন পত্র-পত্রিকায় ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হয় না। উদ্বেগজনকহারে তা বেড়ে চলেছে। কিছু ঘটনা আছে, যা রীতিমতো রোমহর্ষক। ঘর-বাড়ি, পথ-ঘাট এমনকি শিক্ষাঙ্গনে পর্যন্ত এই জাহেলিয়াত থাবা বিস্তার করেছে। শিশু-বৃদ্ধা কেউই এই পাশবিকতার হাত থেকে নিরাপদ নয়। এসব ঘটনা আমাদের বিবেক নাড়া দিলেও নরপিশাচদের হৃদয় কোন মায়া জন্ম নেয় না। তাদের এই হিংস্রতা আমাদেরকে এবং আমাদের সুস্থ সংস্কৃতিকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে।

এ বছর ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি এ ধরনে নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহতা লক্ষ করা গেছে। শিশু কিংবা বৃদ্ধা কেউ রেহাই পায়নি এই পাশবিকতার হাত থেকে। ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছে অনেক নারী এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে অনেক নারী। যেখানে করোনার ভয়ে নাস্তানাবুদ সারাবিশ্ব সেখানেই আমরা ঘটাচ্ছি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা। চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল আর স্বজনকে ফেলে রাখা দৃশ্য যখন মানুষকে দুর্বিষহ করে তুলেছে তখন আমাদের সামনে নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে ধর্ষিত নারী শিশুর আত্মচিৎকার।

এ হচ্ছে বাংলাদেশে ধর্ষণের কাগজ-কলমের ইতিহাস, যেখানে সবেমাত্র ‘আধুনিকতা’ ও ‘উন্নয়নশীলতা’র তেলেসমাতি শুরু হয়েছে। আধুনিকতার হাওয়া গায়ে লাগিয়ে আমরা এখন নষ্টামি কে সভ্যতায় পরিণত করতে চাচ্ছি। আমাদের সুস্থ সংস্কৃতি কে গলা টিপে হত্যা করে, ভিনদেশী সংস্কৃতি কে বুকে ধারণ করে তাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একদল যুদ্ধ ঘোষণা করছে। আমাদের সমাজে অবাধ স্বাধীনতা এবং অবাধ আধুনিকতার ছোঁয়া দিশেহারা হয়ে পড়ছে কোমলমতি শিশু ও উঠতি বয়সী কিশোর কিশোরী। সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ বিচরণ এবং ইন্টারনেট দুনিয়ায় নিজেদেরকে তুলে ধরার প্রাণপন চেষ্টা করছে এই প্রজন্মের আধুনিকায়ন ভরা কিশোর-কিশোরী।

অধিক মডারেট রাষ্ট্রগুলোতেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আচ্ছা, ওই দেশগুলোতে কিসের অভাব? অর্থকড়ি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি সবদিক থেকেই তো তারা ‘পরিপূর্ণ’। আমাদের দেশও দিন-দিন উন্নতি লাভ করছে। শিক্ষার হার যথেষ্ট বেড়েছে। তারপরও কেন ধর্ষণের এই ভয়াবহ রূপ? তা কি বলতে পারেন কেন হচ্ছে এমন…?

যখন একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যায় তখন কয়েকদিন কিছু হইচই হয়। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তুমুল আলোচনা হয়। প্রতিবাদ ও মানববন্ধন হয়। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। তারপর একসময় সবকিছু থেমে যায়। এ সময়ের মধ্যে আরেকটা ঘটনা যোগ হয়।তখন নতুন ঘটনা নিয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের অতীতে যে ঘটনা নিয়ে জীবন বাজি রাখা শপথ নিয়েছিল তারা ভুলে যায়। একটি ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অন্য আরেকটি ঘটনার জন্ম হয় আর এতেই ঘটনা প্রিয় বাঙালি হয়ে ওঠেন সদ্য জন্ম গ্রহণ করা ঘটনার প্রেমিক। হয়তো আমার কথাগুলো অগোছালো এবং মাধুর্যতা পণ্য নয় মনে হতে পারে আপনাদের কিন্তু একবার কি ভেবে দেখবেন এর বাস্তবতা আসলে কি আমি ঠিক বলেছি কিনা। আমার জ্ঞান বুদ্ধি উদয় হওয়ার পর থেকেই আমি আজ অব্দি কোন একটির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার এ জাতির জন্য শিক্ষা হয়ে সামনে আসেনি বা আমি দেখিনি। যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে মানুষ জীবন যাপন করছে সেখানে প্রতিবাদের ভাষা শুনলে আমার সত্যিই হাসি পায় এবং এক নিদারুণ কষ্টে আমি দিন যাপন করি। তার পরেও মনে প্রশ্ন জাগে এবং তা নিয়ে ভাবতে হয় কিন্তু এই অনাচার কেন হয়, দিন-দিন তা কেন বেড়ে চলেছে, ভুক্তভোগী মা-বোনদের জীবন কত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, বৃহত্তর সমাজে এর কী কুপ্রভাব পড়ে- এসব বিষয়ে আমাদের কতটুকু চিন্তা করার সুযোগ হয়? প্রত্যেকে নিজ নিজ শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী কতটুকু সচেতন হই? বৃহত্তর সমাজের শত্রু ঘটনাগুলো তুলে ধরাও একধরনের পাপ।বাস্তবতা হল, কিছু হইচই, কাদা ছোড়াছুড়ি আর বিচারের দাবি জানানোর মধ্যেই সব শেষ। না তার সঠিক কারণ চিহ্নিত করার আন্তরিক প্রয়াস লক্ষ করা যায়, না সে অনুযায়ী সচেতন হওয়ার। একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এবং বিচারের জন্য সবাই আন্দোলন করলেও দিনশেষে দেখা যায় মূল ঘটনা ভুলে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পক্ষে-বিপক্ষে টানাপোড়নের যাঁতাকলে ঘটনাটি হয়তো মৃত্যুবরণ করে। এই চিত্রটি দেখে আসছি সেই প্রথম থেকে।

উল্টো কেউ সত্য কথা বললে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা সেকেলে কিংবা গোঁড়া আখ্যা দেওয়া হয়।
অথচ এই ব্যাধির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে যথাব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এর লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে। তাই চিন্তাশীলদের উচিত এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া। নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমবেত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আইন দিয়ে কখনোই এমন বর্বর ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে না। দেশে নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বহু আইন রয়েছে। তারপরও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। …নির্যাতন প্রতিরোধে বা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। আজ বা কাল এভাবে চলতে থাকলে আপনার-আমার পরিবারও আক্রান্ত হবে। একটি পরিবার যখন এই দুর্বিষহ কষ্টে আক্রান্ত হয় তারাই বুঝতে পারেন আসলে সমাজে বেঁচে থাকা কত কঠিন।

এই আন্দোলনের লক্ষ হওয়া উচিত, সর্বস্তরে ঈমান ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তার করা, জবাবদিহি ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। একইসাথে অশ্লীলতা, নগ্নতা, বিচারহীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা। ধর্ষণের প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য ইসলামী শিক্ষার অভাব, জবাবদিহি ও নৈতিক মূল্যবোধের শূন্যতা এবং অশ্লীলতা, বিচার-ব্যবস্থার দুর্বলতা, ক্ষমতার অপব্যবহারই দায়ী। ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র সর্বত্র একই অবস্থা বিরাজমান।

অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান, তার কল্যাণ-কামনা করা, সৎকাজে সাহায্য করা, বিশেষত তাকে কোনো ধরনের কষ্ট না দেওয়া সকলের ক্ষেত্রে কাম্য। নারীর ক্ষেত্রে তা বিশেষভাবে কাম্য। নারী মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ; বরং এছাড়া মানবজীবন অপূর্ণ। একই সাথে সে দুর্বল ও সংবেদনশীলও বটে। কাজেই তার সম্ভ্রমহানি করা, ইজ্জত-সম্মান লুণ্ঠন করা কত বড় অবিচার?

নারী শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা রাজনৈতিক বিবেচনায় চলে যায় তাহলে ভেবে দেখুন এদেশে আপনার আমার পরিবার কতটুকু নিরাপদ। আজ যদি আমাদের সামনে এ বিষয়টি উপস্থাপিত হতো যে এই জাতীয় ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে বা হবে তাহলে নারী শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা সৃষ্টিকারীরা কখনোই এমন দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পেত না। অনেক সময় আমরা লক্ষ করি নারী নির্যাতনের নামে করে অনেক নিরীহ মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং এগারো সালের শেষাংশে আমি একটি শিরোনামে কয়েকটি কলাম লিখে ছিলাম তা হচ্ছে আইনের অপব্যবহার ও পুরুষ নির্যাতন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যদি এমন ঘটনার সঠিক বিচার উপস্থাপিত হতো তাহলে আমার দৃষ্টিতে এ জাতীয় ঘটনা আমাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতো।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x