নাঙ্গলকোটে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে প্রেমের জেরে বিষপানে আত্মহত্যা! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ নাঙ্গলকোট উপজেলা আনসার ভিডিপি সদস্যদের সার্টিফিকেট প্রধান করা হয় । ◈ বাইয়ারা ফ্রেন্ডস ক্লাব কতৃক ২০০ মানুষের ফ্রী ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় অনুষ্ঠান করা হয়েছে ◈ নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সফল সেক্রেটারির পিতার কবর জেয়ারত ◈ নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশন এর সাবেক সেক্রেটারির পিতার কবর জেয়ারত ◈ বিশ্ব নবী (সঃ)অপমানের বিরুদ্ধে বেকামলিয়া ত্বলাবুল ফালাহ্ এর উদ্যোগে রায়কোট ইউপির বৃহত্তর মিছিল অনুষ্ঠিত ◈ মহানবী (স:)এর ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে নাঙ্গলকোটে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিক্ষোভ সমাবেশ ◈ ফ্রান্সে নবী (সা.) অবমাননার বিরুদ্ধে জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন মান্দ্রা বাজার সর্বস্তরের জনগণের মানব বন্ধন । ◈ দৌড়খাঁড় বাজার খাজা ফার্ণিচার এন্ড নাহিমা শো-রুম শুভ উদ্বোধন। ◈ ফ্রান্সে মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে নাঙ্গলকোটে বিক্ষোভ মিছিল ◈ ফ্রান্সে নবী (সা.) অবমাননার বিরুদ্ধে দৌলখাঁড় বাজার সর্বস্তরের জনগণের বিক্ষোভ মিছিল।

একমাত্র কর্মক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

নাঙ্গলকোটে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে প্রেমের জেরে বিষপানে আত্মহত্যা!

7 August 2020, 10:37:59

 

বিশেষ প্রতিনিধি. নাঙ্গলকোট

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল দক্ষিণপাড়ায় গত সোমবার ১২টায় বিষপানে মোহাম্মদ ওমর ফারুক (২৪) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। জানা গেছে, কান্দাল গ্রামের প্রবাসী নুরনবীর বড় ছেলে। নিহত ওমর ফারুকের মা পারভীন বেগম প্রথমে দেখেন ছেলে মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছে। তিনি জানতে চাইলে ছেলে বলে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে,তখন মায়ের কান্নার আওয়াজ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে এবং বুঝতে পারে সে বিষ পান করেছে। তাৎক্ষণিক তাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এরপর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে প্রেরণ করা হয়। অবস্থার উন্নতি না দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে গতকাল বুধবার মৃত্যুবরণ  করেন।

ভিকটিমের পরিবার থেকে ৯৯৯ কল করে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ প্রেরণ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নিহতের মা পারভীন বেগম, তিনি বলেন প্রবাসী জহির এর স্ত্রী আমার ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ার কারণে আজ আমার ছেলেকে হারাতে হয়েছে।

নিহতের মা পারভীন জানান: ২৫/২৬ দিন আগে আমার ছেলে হঠাৎ বাড়ি ফিরে এবং তাকে দেখে মনে হয়েছে সে খুবই অসুস্থ। ঘরে ঢুকেই সে শুয়ে ছিল। পরের দিনও সে কাজে বের হয়নি এবং জোরপূর্বক জানতে চাইলে সে আমাকে জানায় পাশের ঘরের প্রবাসীর স্ত্রীকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য। জহির স্ত্রীকে কেন আমাদের ঘরে আনবো একথা জানতে চাইলে সে বলে সে তার সাথে পালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে বলেছে এবং সে কারণে তাদের বাড়ির সামনে গেলে তাকে লোক দিয়ে মারধর করা হয় । নিহত ফারুক তার মাকে সরাসরি বলে জহিরের স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে এবং তাকে বিয়ে করতে চাই। মারধর খাওয়ার পর কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও সে সুস্থ না হওয়ায় আমি তাকে একজন ডাক্তার দেখাই। গত মাসের ২৪শে জুলাই। ডাক্তার জানিয়েছে আমার ছেলেকে অনেক মারধর করা হয়েছে এবং তার বিশ্রামের প্রয়োজন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঔষধপত্র দিয়ে দেয়। জহির এর স্ত্রী মুক্তা হঠাৎ করে আমাদের ঘরে প্রায় সময় ঢুকে যায় এবং আমার ছেলের সাথে অশালীন কথাবার্তা বলে। অনেকদিন আমি তাকে বারন করেছি আমাদের ঘরে না আসার জন্য এবং আমার ছেলেও প্রথম অবস্থায় বিষয়গুলো বিরক্ত সহিত দেখতো। মুক্তার উত্ত্যক্তায় আমার ছেলে তার লালসা ফাঁদে পা দেয়। আমার ছেলে মাধ্যম খেয়ে এবং অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে আমি আপনাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।

অভিযুক্ত মুক্তা আক্তার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন এবং প্রতিবেদককে জানান আমার স্বামী দেশের বাহিরে থাকার কারণে বেশিরভাগ সময় আমি আমার বাপের বাড়িতেই থাকি। দীর্ঘ ৩/৪ মাস আমি বাপের বাড়িতে অবস্থান করছি। ওমর ফারুক কি কারনে বিষ খেয়েছে বা কেন আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়টি আমি জানিনা। আমি আমার বাবার বাড়ি নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন অবস্থান করছি। আমাকে জড়িয়ে যারা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে, আমি এ বিষয়টি অনেক কিছুই জানিনা। আপনি বক্তব্য নিতে এসেছেন আর আপনার কাছে শুনতে পেয়েছি সে আত্মহত্যা করেছে। কখনো বাড়িতে তার সাথে দেখা হলে আমি ছোট ভাইয়ের মতো দেখি। কোন আমাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটে নি যার জন্য আমার উপর এই অপবাদ দেওয়া হবে। আমার স্বামী সন্তান রয়েছে। আমার পরিবারের সম্মান রয়েছে। আপনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন আমি এ সংক্রান্ত কোন কিছুই জানিনা।

নিহতের মামাতো বোন নার্গিস আক্তার প্রতিবেদককে বলেন আপনারা আমার বাড়ির সম্পর্কে অত্র এলাকায় খোজ খবর নিন। কোন মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে কখনো কোনো ঝামেলা হয়নি এবং আমার ভাইয়ের সম্পর্কে কারো কোন খারাপ মন্তব্য আপনি শুনবেন না। ওই মহিলার কারনে আজ আমরা আমার প্রিয় ভাই কে হারালাম। আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে এর উপযুক্ত বিচার চাই।

নিহতের ফুফাতো ভাই ইউসুফ জানান কিছুদিন আগে আমার নানু মারা যায় এবং জহির এর স্ত্রীর আচরণ আমি স্বচক্ষে দেখতে পাই। সে আমার ভাইয়ের প্রতি খুবই আকর্ষিক। বিষয়টি নজরে আসলে আমি তাকে বলি এবং সে আমাকে বলে জহির ভাই আমার বড় ভাই এবং উনার স্ত্রী আমার বড় বোনের সমতুল্য কিন্তু তিনি আমাকে প্রায় সময় বিভিন্ন কথা বলে থাকেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্রতিবেদককে বলেন: ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। সরেজমিনে এসে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলেম অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যা করে। তাদের পরিবারে কি ঘটেছিল কখনোই আমাদেরকে জানায়নি। ছেলেটি খুব নম্র ভদ্র এবং এলাকার মানুষ তাকে খুব ভালো বলেই জানে। পরিবারটি খুবই নিরীহ এবং এই ছেলের উপর তারা নির্ভরশীল। তার এক ভাই প্রতিবন্ধী আরেক ভাই এখনো খুব ছোট। বাবা প্রবাসী। ছেলেটি রাজমিস্ত্রি কাজ করে পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছে।

 

স্থানীয় মেম্বার পদপ্রার্থী জান মোহাম্মদ বলেন: স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিক সরোজমিনে আসি এবং পরিবারের কাছে তার সম্পর্কে জানতে পারি, ব্যক্তিগত জীবনে ছেলেটি খুবই ভালো ভদ্র নম্র। তাদের পারিবারিক ভাবে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা কখনো আমাদেরকে জানানো হয়নি। সে বিষপানের পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। প্রবাসীর স্ত্রী মুক্তা আক্তার ফারুকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করার জন্য বিভিন্ন সময়ে তার ওপর উত্তপ্ত হয়েছে বলে জানতে পারি। পর্যায়ক্রমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাকে মারধর করার কারণে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নর কারণে আত্মসম্মানবোধ থেকে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে আমার ধারণা। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি ভোগ করানো হোক।

 

দৌলখাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালামকে উনার মুঠোফোনে না পাওয়াতে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমার বক্তব্য থেকে পরবর্তীতে তা তুলে ধরা হবে।

 

ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলী মজুমদার জানান: আমি এলাকার বাইরে থাকায় সরেজমিনে যেতে পারিনি তবে বিষয়টি আমি জেনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কখনো আমাকে কোন অভিযোগ করেনি এবং কারো মাধ্যমে জানতে পারিনি। গত কিছুদিন আগেও ছেলের সাথে দেখা হয়েছে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। এলাকায় ফিরেই এই বিষয়টি আমি তত্ত্বাবধায়ন করবো।

নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী প্রতিবেদককে বলেন, ওমর ফারুকের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পুলিশের একটি ফোর্স পাঠানো হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জানতে পারি বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর আমরা পুরো বিষয়টি জানাতে পারবো।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x