আশুরার দিবসের গুরুত্ব ও ফজিলত | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ ঢাকাস্থ ঢালুয়া ইউনিয়ন সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি সাজু ও সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর ◈ নাঙ্গলকোটের সোন্দাইল ডিজিটাল পোস্ট অফিস কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ ◈ প্রাধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নাঙ্গলকোটে বৃক্ষপ্রেমী সাইফুলের ১০ হাজার বৃক্ষ চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ◈ কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২১আগস্ট উপলক্ষে যুলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ◈ চিওড়া ইউনিয়ন প্রবাসী জনকল্যাণ পরিষদ – এর পক্ষ থেকে  অনুদান হস্তান্তর ◈ আশুরার দিবসের গুরুত্ব ও ফজিলত ◈ নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নিঃস্ব সিমলার ধুমধামে বিয়ে ◈ গাবুরা রক্তদান সংস্থার উদ্যোগে ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে দিনব্যাপী বিনামুল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ◈ নাঙ্গলকোটে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালিত ৪৬ তম জাতীয় শোক দিবস ◈ নাঙ্গলকোটে চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা

তরুণ ইসলামি গবেষক কে,এম,ছালেহ আহমদ বিন জাহেরী

আশুরার দিবসের গুরুত্ব ও ফজিলত

18 August 2021, 5:00:04
পবিত্র মহররম মাস হচ্ছে আরবি বারো মাসের সর্বপ্রথম মাস। মহররম মাসের দশ তারিখ তথা ১০ ই মহররম পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনে অনেক আশ্চর্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ।

নবী করীম (সঃ) বলেছেন, তোমরা মহররম মাসের সম্মান প্রদর্শন করো। যে ব্যক্তি মহররম মাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি দিবেন।
কাজেই, প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই আশুরার দিবসে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জেনে, সেই সম্মানে এবাদত বন্দেগী করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
ইতিহাসে এই দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ
এক: এই দিনে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী এবং এর অন্তর্গত নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত ও গাছপালা সৃষ্টি করেছেন।

দুই: এই দিনে হযরত ইসরাফিল (আঃ) প্রথম শিঙ্গায় ফু দিবেন এবং সেই দিন হবে শুক্রবার ,যেদিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে,অর্থাৎ কিয়ামত সংঘঠিত হবে।

তিন: এই দিনে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা লাওহে মাহফুজ এবং যাবতীয় সৃষ্টি জীবের রুহ তৈরী করেন।

চার: এই দিনে প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনে তিনি চির সুখের স্থান বেহেশতে প্রবেশ করেন এবং এই দিন হযরত আদম (আঃ) এর তওবা কবুল হয়।

পাঁচ: এই দিনে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টির পর প্রথম আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন।

ছয়: এই দিনে হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

সাত: এই দিনে হযরত মূসা (আঃ) তুর পর্বতে তাওরাত কিতাব লাভ করেছেন।

আট: এই দিনে হযরত আইউব (আঃ) রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে তার ধন সম্পদ ফিরে পান।

নয়: এই দিনে হযরত নুহ (আঃ) প্রথম বন্যা থেকে রক্ষা পেয়ে জমিতে অবতরণ করেন।

দশ: এই দিনে আল্লাহ তা’আলা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন এবং তিনি নমরুদের আগুন থেকে সুস্থ দেহে মুক্তিলাভ করেন।

এগারো: এই দিনে বনি ইসরাইলদের নিয়ে হযরত মুসা (আঃ) নীল নদ পার হন এবং অত্যাচারী ফেরাউন নদীতে ডুবে মরে।

বারো: এই দিনে হযরত ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন এবং তাকে চতুর্থ আসমানে তুলে নেওয়া হয়।

তেরো: এই দিন দুই হাজার পয়গাম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দুই হাজার পয়গম্বর এর দোয়া কবুল করা হয়।

চোদ্দ: এই দিনে হযরত ইয়াকুব (আঃ) হারানো প্রানপ্রিয় পুত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) কে পেয়েছিলেন।

পনেরো: এই আশুরার দিনে আল্লাহ তাআলার রহমত নিয়ে হযরত জিব্রাইল (আঃ) সর্ব প্রথম আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কাছে আসেন ।
সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, কারবালার প্রান্তরে ঘটে যাওয়ার ঘটনা ।
কারবালার শিক্ষাঃ
হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর শাহাদাতের ঘটনা একদিকে যেমন নিষ্ঠুর, নির্মম, করুন ও বেদনাদায়ক, অন্যদিকে এই ঘটনায় রয়েছে গোটা মুসলমানের জন্য এক বিরাট শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা। আল্লাহর প্রতি ভরসা ,অন্যায় ও বাতিলের সামনে অনমনিয়ত, এক নিষ্ঠতা (ইখলাস) ধৈর্য ,সহনশীলতা ও তিতিক্ষার মহান শিক্ষা রয়েছে কারবালার এই করুন ঘটনার মধ্যে। হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু জানতেন যে, ইয়াজিদের বাহিনীর সামনে তার বাহিনী খুবই দুর্বল। এর পরেও তিনি স্বল্পসংখ্যক আত্মোৎসর্গী সাথে নিয়ে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করে অন্যায় ও বাতিলের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু চিন্তা করলেন, ইয়াজিদের এই খেলাফতকে আমি যদি আজ মেনে নেই ,তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সেই খেলাফতে নববী শেষ হয়ে বাদশাহী খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের পরিপন্থী। খেলাফতের জন্য নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আদর্শকে জারী রাখার জন্যই তিনি ইয়াজিদের সামনে অনমনীয় ছিলেন। হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর ধৈর্য ,সহনশীলতা ,ত্যাগ-তিতিক্ষার সাথে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে বিশাল ইয়াজিদ বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করে শাহাদাত বরণ করেছেন। তবুও তার কাছে বায়াত হননি তার এই ধৈর্য ও সহনশীলতার ত্যাগ-তিতিক্ষা ও তাওয়াক্কুল গোটা মুসলমানের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় কারবালার ঘটনা দ্বারা এই শিক্ষায় পাওয়া যায় যে ,মুমিন কোনদিন জয়-পরাজয়ের চিন্তা করে না, আশা করেনা কোন রাজত্ব ও পার্থিব ধন-সম্পদের । পরোয়া করে না কোন বাতিল শক্তির। অন্যায়ের মোকাবেলায় কোনদিন মাথা নত করে না । মুমিন এর উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।
এবং এই সাথে নবী কারীম (সঃ) এর দৌহিত্র ও খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর পরিবার-পরিজনসহ ইয়াযিদের চক্রান্তে কারবালা-প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন। এই মর্মান্তিক ঘটনা আজ ও ১৫ শত বছর পরে আমরা মুমিন-মুসলমানরা গভীর শোকের সাথে স্মরণ করি । মুমিন-মুসলমানের দরকার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা স্মরণ করে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ,নামাজ ও রোজা রাখা।
আশুরার দিবসের ফজিলতঃ
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন রাসূল (সঃ) মহররম মাসে আশুরার দিন রোজা রেখেছেন এবং অন্যদেরকে পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ (সঃ) মদিনা এসে দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিনে সওম পালন করছে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কোন দিন ? যে তোমরা সওম পালন করছো তারা বলল ! এটা এমন এক মহান দিবস যেদিন আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আঃ) কে এবং তার সম্প্রদায়কে নাযাত দিয়েছেন এবং ফেরাউন কে তার দলবল সহ নীল নদে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তখন হযরত মুসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এই দিনে সওম পালন করেছেন। এ কারণে আমরা সাওম পালন করে থাকি। একথা শুনে রাসূল (সঃ) বলেন, তোমাদের চেয়ে আমরা হযরত মুসা (আঃ) এর অধিকতর ঘনিষ্ঠ নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) সওম পালন করলেন ও অন্যদেরকে সাওম পালনের নির্দেশ দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
তাই আসুন আমরা ও এই ঐতিহাসিক আশুরার দিনটি প্রচলিত কুসংস্কার ও বিদাআত মুক্তভাবে রাসুল (সঃ) এর নির্দেশিত পন্থায় উদযাপন করি। এবং জীবন চলার পথে এই দিবসের তাৎপর্য ও শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হই। আমিন!
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই দিবস সম্পর্কে জানার ও আমল করার এবং পাশাপাশি এর শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুক । ছুম্মা আমিন।

লেখকঃ কে,এম,ছালেহ আহমদ বিন জাহেরী ।
মুদাররিস (আরবী), বাতুপাড়া দারুচ্ছুন্নাত ওয়ালিয়া দীনিয়া মাদ্রাসা।
নাঙ্গলকোট পৌরসভা ,কুমিল্লা।
মোবাইলঃ 01722394000

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x