সর্বশেষ সংবাদ
◈ মারছে মানুষে মানুষ!- মোঃ: জহিরুল ইসলাম ◈ নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের নামে ভূয়া আইডি খুলে প্রতারনার ফাঁদ ◈ “কাজী জোড়পুকুরিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ” কমিটি গঠন ◈ ছাত্রদলের সভাপতি পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বাগেরহাটের ছেলে হাফিজুর রহমান ◈ চৌদ্দগ্রাম থানার ওসির নির্দেশে কবরে রেখে যাওয়া বৃদ্ধ মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করলো পুলিশ ◈ নাঙ্গলকোটে ইভটিজিংয়ে প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলা প্রতিবাদে মানববন্ধন ◈ আজ টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন ডোমিঙ্গো ◈ জাতীয় দিবসগুলো শিক্ষকদের ছুটি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে কেন? ◈ কুমিল্লা মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাড়ছে লাশের সারি; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে; পরিচয় মিলেছে সবার ! ◈ কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ৭ যাত্রী নিহত

সাংবাদিকতার অবক্ষয় ও আমার পথচলা- মো. আলাউদ্দিন মজুমদার

১০ মে ২০১৬, ১:২৭:৫১

0019079 

মো. আলাউদ্দিন মজুমদার;

সাংবাদিকতা এক মহৎ পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা ও উপকার দুটোই করা যায়। সমাজের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের উপকার করা সম্ভব। তেমনি দেশ ও জাতীর উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখাও সম্ভব। সে জন্য সাংবাদিকদের মর্যাদা সমাজে অনেক। একজন প্রকৃত সাংবাদিক দেশ ও দশের স্বার্থে দলমত নিবির্শেষে নিরপে থেকে গঠনমূলক লেখনির মাধ্যমে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে পারে। দেশের স্বাধীনতার ও একুশের চেতনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনা লিখে জাতিকে উন্নত মর্যাদা আসনে বসিয়েছে সাংবাদিকরা। সে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা আজ ভু-লন্ঠিত করে নানান অপকর্ম করে যাচ্ছে কিছু সংখ্যক নামধারী। বর্তমানে আইডি কার্ডধারী ঐ সব অসাংবাদিকরা রাজনৈতিক কর্মী, সন্ত্রাস কর্মকান্ডে জড়িত, মোবাইল/কম্পিউটার দোকানের অপারেটর, মাদক ও হোন্ডা চোরাচালানকারী বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পেতে মহান সাংবাদিকতা পেশার পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এবং রাজনৈতিক উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সমাজে সাংবাদিকতার সুনাম নষ্ট করছে আর ব্যক্তিগত ফায়দা লুটে নিচ্ছে। তারা (কার্ডধারী) অ-সাংবাদিকরা হোন্ডায় মহড়া দিয়ে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে অসহায়-নিরীহ মানুষকে পর্যন্ত হুমকী দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিরোধী।
তাই সাংবাদিক নামধারী অসাংবাদিকদের অপকর্ম রুখতে এখনি সাংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপগণ সুষ্ঠ নীতিমালা গ্রহণ করে নুন্যত স্নাতক পাশ বা অধ্যয়নরতদেরকে প্রেস কাউন্সিলে পরীার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করছি। নতুবা ভবিষ্যতে সাংবাদিক সমাজকে কেউ আর সম্মান করবে না এবং অহরহ সাংবাদিকরা নানান শ্রেণীর কাছে মার খাবে, নির্যাতিত হবে। তাই দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সাংবাদিককতার অবয় রোধে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পেশাগত সাংবাদিক তৈরী করে বেতন-ভাতা প্রদানসহ সাংবাদিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা ও উপকার, সমাজের অন্যায়, অত্যাচার ও দূর্নীতির চিত্র মানুষের সামনে তুলে করার লক্ষ্যে সেই ছোট বেলা থেকেই লেখালেখি ও সাংবাদিকতা করার স্বপ্ন দেখে আসছি। লেখালেখিতে আমার হাতেখড়ি ঘটে ২০০৮ সালের প্রথম দিকে। তখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলাম। সেসময় আমি বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন পড়তাম এবং আস্তে আস্তে লেখালেখি শুরু করি। প্রথম দিকে আমি কবিতাটাই একটু বেশি লিখতাম। এরপর আস্তে আস্তে ছড়া, গল্প লিখতে শুরু করলাম। এরপর ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমার এলাকার এক ভাই আমাকে সাপ্তাহিক নাঙ্গলকোট পত্রিকার সহ-সম্পাদক সাংবাদিক খোরশেদ আলম ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সে সময় তিনি আমাকে সাপ্তাহিক নাঙ্গলকোট পত্রিকার আদ্রা ইউনিয়ন সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ দেন। হাতেখড়ি ঘটে আমার সাংবাদিকতা জীবনের। আস্তে আস্তে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সম্ভ্যাবনার কথা পত্রিকার পাতায় তুলে ধরতে লাগলাম। এতে করে অল্পদিনেই আমি এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় পেতে শুরু করি। এরপর ২০১১ সালে এসএসসি পাশ করে নাঙ্গলকোটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, উপজেলা সদরে অবস্থিত নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হই। তখন উপজেলা পর্যায়ের আরও অনেক সাংবাদিক ভাইদের সাথে পরিচিত হই। সে সময় নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব, সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লা, সাংবাদিক আবদুল কাদের, সাধারন সম্পাদক মাঈন উদ্দিন দুলাল, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম ভাইদের মতো সত্য, নির্ভিক, নিষ্ঠাবান মানুষের কাছ থেকে স্নেহ ও অনুপ্রেরণা পেলে আজীবন সততার মাধ্যমে মানুষের সেবা কারা যায়। সেই সব ভাল মানুষের কাছে থেকে বুঝতে পেরেছি কি করে সমাজে ভাল মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়? তাই অর্থ কিংবা নানাবিধ সমস্যায় থাকলেও আজো সাংবাদিকতার পেশায় সংশ্লিষ্ট আছি। তবে মানষিক ভাবে অনেক ভালো আছি, যা ভাষায় বোঝাতে পারবো না। ২০০৮ সাল থেকে আজ ২০১৬ সাল পর্যন্ত যে সম্মান পেয়েছি আর মানুষের উপকার করতে পেরেছি, তা সত্যিই মনের মাঝে প্রশান্তি এনে দেয়।
সাংবাদিকতা পেশায় যখন হাতেখড়ি ঘটে, তখন থেকেই দেখে আসছি নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবটি দ্বিধাবিভক্ত। একটি মহল সবসময়ই ফায়দা হাসিলের জন্য দীর্ঘদিন যাবত নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। আমি ২০১১ সালের প্রথম দিকেই নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাব একাংশের সদস্যপদ লাভ করি। পরে ওই বছরই কাবের নতুন কমিটিতে প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই। তৎকালীন সময় প্রেসক্লাবের দুই অংশই সরগম ছিল। এছাড়া আমি নাঙ্গলকোট লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, নাঙ্গলকোট ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোক্তা এবং নাঙ্গলকোট রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, পরে প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এদিকে ২০১৫ সালে প্রেস ক্লাবের একাংশ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর আমি সদস্য হিসেবে নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের মূল অংশে সংশ্লিষ্ট হই।
সেই থেকে সাপ্তাহিক নাঙ্গলকোট দিয়ে সাংবাদিকতার শুরু করে পরবর্তীকালে সাপ্তাহিক কুমিল্লার কথা, সবুজপত্র, কুমিল্লার কথা, মেহেরকুল, দৈনিক বাংলার আলোড়ন, দৈনিক ডাক প্রতিদিন, দৈনিক গণশক্তি, দৈনিক পূর্বাশা, দৈনিক কুমিল্লার আলো, দৈনিক বণিক বার্তা, দৈনিক বাংলা, দৈনিক সকালের খবর, শিরোনাম২৪ ডটকম, এবিনিউজ২৪ ডটনেট, কুমিল্লা ওয়েবসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছি। বর্তমানে দৈনিক কুমিল্লার ডাক ও সাপ্তাহিক নাঙ্গলকোট এক্সপ্রেস পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও অনলাইন সিটিভি নিউজ২৪ ডটকম পত্রিকার নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের নতুন খবর, ডেইলি সকাল ও নতুন সময় ডটকম পত্রিকায় কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
এদিকে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে কবি বাপ্পি মজুমদার ইউনুস ভাইয়ের উদ্যোগে আমিসহ আমাদের নাঙ্গলকোট ডটকম
(amadernangalkot.com) নামে একটি অনলাইন পত্রিকা চালু করি। এটিই নাঙ্গলকোট উপজেলার সর্বপ্রথম অনলাইন পত্রিকা। ওই পত্রিকার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমি সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
এদিকে সাংবাদিকদের জন্য সরকারের ওয়েজবোর্ড ও নীতিমালার পত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সঠিক সাংবাদিক সৃষ্টি না হওয়ায় বেশীর ভাগ পত্রিকা বেতন-ভাতাদি প্রদান করছেন না। ফলে যারা সাংবাদিক হিসাবে নিয়োগ পাচ্ছে তারা এটাকে অবৈধ ভাবে রুজি রোজগার ও ধান্দার হাতিয়ার ব্যবহার করছে।
শুধু তাই নয় বর্তমানে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সুপারিশে পত্রিকায়, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মিডিয়ার মালিক, পত্রিকার সম্পাদকরা ও অসাংবাদিকদের আইডি কার্ড প্রদান করে যাচ্ছেন। এতে করে সাংবাদিকতার অবক্ষয় ঘটছে। এছাড়া সাংবাদিকতা মহান ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। বিশেষ করে মফস্বল শহরে সাংবাদিক নামধারী অসাংবাদিকদের রুখতে এবং এ পেশা কুলষিতমুক্ত করতে হলে প্রকৃত সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের দায়িত্ব থাকা সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভুমিকা রাখা জরুরী। এ থেকে উত্তরণে প্রকৃত পেশাগত সাংবাদিক নিয়োগ দেয়া ও সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড এর নীতিমালা অনুযায়ী বেতন ভাতাদি প্রদান করা অত্যাবশ্যাক বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

 


সহ-সম্পাদক- আমাদের নাঙ্গলকোট ডটকম।
সাধারণ সম্পাদক- নাঙ্গলকোট লেখক ফোরাম।
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।
মোবাইল: ০১৮৭১-৩২৮৩৭৯

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: